ছবি।

পবিত্র হাদীছ শরীফের শরাহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবসমূহেও ‘ছবি’র ক্ষেত্রে ﺗﺼﻮﻯﺮ – ﺻﻮﺭﺓ ইত্যাদি শব্দাবলী ব্যবহৃত হয়েছে| নিম্নে তার কিছু প্রমাণ তুলে ধরা হলো- ‘তাওজীহ্’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা নিষেধ, বরং কঠোর নিষিদ্ধ কাজ (অর্থাৎ) এটা কবীরাহ্ গুনাহ্| চাই ওটাকে যত্ন বা সম্মান প্রদর্শন করুক কিংবা অন্য যে কোন উদ্দেশ্যেই বানায়ে থাকুক| এরূপ কাজে আল্লাহর সৃষ্টির অনুকরণ করা হয়| ওটা বস্ত্রে, বিছানায়, মোহরে, মুদ্রায়, পয়সায়, পাত্রে কিংবা প্রাচীন গাত্রে যে কোন স্থানে আঁকা বা নির্মাণ করা হারাম|” √ দলীল- উমদাতুল ক্বারী, ফতওয়ায়ে ছিদ্দীকিয়া, পৃঃ৩৭৮, আয্ জাওয়াজির ২য় জিঃ, পৃঃ৩৩| “উক্ত হাদীছসমূহে প্রাণীর ছবি তৈরী করা বা মূর্তি নির্মাণ করা হারাম হওয়া সম্বন্ধে প্রকাশ্যেই বলা হয়েছে| এটা তৈরী বা নির্মাণ করা জঘন্যতম পাপের কাজ ও হারামও বটে| উক্ত কিতাবে আরও আছে, যদি কেউ মূর্তি বা প্রাণীর ছবি পূজা বা সৃষ্টির অনুকরণের জন্য নাও বানায়ে থাকে তবুও সে ফাসেক হবে এবং কবীরাহ্ গুনাহে গুনাহগার হবে|” √ দলীল- শরহে মুসলিম, নববী, ফতওয়ায়ে ছিদ্দিকিয়াহ্, পৃঃ৩৭৮| “আমাদের মাশায়েখগণ ও উলামাগণ বলেছেন যে, প্রাণীর ছবি তৈরী করা হারাম, এমনকি গুরুতর হারাম| এটা কবীরাহ্ গুনাহ্| কেননা এরূপ কাজের জন্য বিশেষ ভীতিপ্রদ অবস্থা হাদীছ শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে| ওটা কাপড়ে, বিছানায়, মোহরে, কি টাকা-পয়সায় কিংবা যে কোনও স্থানে আঁকা থাকনা কেন তা সমান কথা|” √ দলীল- মিরকাত শরহে মিশকাত, ফতওয়ায়ে ছিদ্দিকিয়াহ্ পৃঃ৩৭৯, নাইলুল আওতার ২য় জিঃ, পৃঃ১০৫| “ছহীহ্ হাদীছ শরীফ সমূহে প্রাণীর ছবি বা মূর্তি তৈরী করা সম্বন্ধে প্রকাশ্যেই নিষেধ করা হয়েছে| ওটা মানুষের হোক বা জানোয়ারের কি পাখীর হোক সমান কথা অর্থাৎ হারাম|” √ দলীল- ফিকহুস সুন্নাহ্ ৩য় জিঃ, পৃঃ৪৯৮| “প্রাণীর ছবি তৈরী করা হারাম, যদি তা পূর্ণ দেহ বিশিষ্ট হয়|” √ দলীল- কিতাবুল ফিকহ আলা মাযাহিবিল আরবায়াহ ২য় জিঃ, পৃঃ৪১| পবিত্র হাদীছ শরীফ, হাদীছ শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও ফিক্বাহের কিতাবসমূহের উপরোক্ত বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হলো যে, ‘ছবি’কে আরবীতে ﺗﺼﻮﻯﺮ –তাছবীর, ﺻﻮﺭﺓ -ছূরত, ﺗﺼﺎﻟﻯﺐ – তাছালীব, ﺗﻢﺀ ﺷﻯﻞ -তামাছীল বলা হয়| যার অর্থ হচ্ছে- ছবি, প্রতিকৃতি, সদৃশ্য, মূর্তি, প্রতিমূর্তি ইত্যাদি|
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।