ছাতিম গাছ
[caption id="" align="aligncenter" width="300"]
ছাতিম গাছের পাতা ফুল ও কান্ড[/caption]
জগৎ/রাজ্য: Plantae বিভাগ: Angiosperms শ্রেণী: Eudicots আদেশ: Asterids বর্গ: Gentianales পরিবার: Apocynaceae গোত্র: Plumeriae উপগোত্র: Alstoniinae গণ: Alstonia প্রজাতি: A. scholaris দ্বিপদী/ভেষজ/ বৈজ্ঞানিক নাম: Alstonia scholaris L. R. Br. ইংরেজি: Alstonia scholaris Blackboard tree, Indian devil tree, Ditabark, Milkwood pine। এর আদি নিবাস ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। এর আদি নিবাস ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। ক্রান্তীয় অঞ্চলের এই গাছটি বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বত্র জন্মে। আর্দ্র, কর্দমাক্ত, জলসিক্ত স্থানে ছাতিম বেশী জন্মে। ছাতিম মূলাবর্তে সাতটি পাতা এক সঙ্গে থাকে বলে সংস্কৃতে এবং হিন্দিতে একে 'সপ্তপর্ণ' বা 'সপ্তপর্ণা' নামে ডাকা হয়।
বর্ণনা: ছাতিম গাছ ৪০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। বহুশাখাবিশিষ্ট গাছটির ছাল গন্ধহীন, অসমতল ও ধুসর। ছাতিম পাতার উপরের দিক চকচকে আর তলার দিক ধুসর থাকে। এর শাখা পত্রমূলাবর্তবিশিষ্ট। ১০ থেকে ১৫ সে. মি. লম্বা পাতা একই মূলাবর্তে ৪ থেকে ৭ টা পর্যন্ত থাকে। শাখার শীর্ষে সবুজ মেশানো সাদা রংয়ে থোকায় থোকায় ক্ষুদ্রাকৃতি ফুল ফোঁটে। ৩০ থেকে ৬০ সে.মি. লম্বা সরু ফল এক বৃন্তে সাধারণতঃ দুটো ক’রে ঝুলে থাকে। ছাতিমের বীজ লম্বাটে ডিম্বাকার, কিনারায় আঁশ থাকে আর শেষ প্রান্তে এক গোছা চুল থাকে। ছাতিম গাছের অভ্যন্তরে দুধের মতন সাদা এবং অত্যন্ত তেতো কষ প্রচুর পরিমাণে থাকে।
বিস্তার: ছাতিম গাছের আদি নিবাস নিম্নোক্ত অঞ্চলসমূহে রয়েছে: চীন: গুয়াংজি, ইউনান ভারতীয় উপমহাদেশ: বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, পাকিস্তান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: কম্বোডিয়া, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি, ফিলিপাইন অস্ট্রেলিয়া: কুইন্সল্যান্ড এছাড়া অন্যান্য অনেক ক্রান্তীয় এবং উপক্রান্তীয় অঞ্চলেও গাছটি পরবর্তীতে বিস্তার লাভ করেছে। এটি পশ্চিমবঙ্গের 'প্রাদেশিক বৃক্ষ'রূপে ঘোষিত হয়েছে।
ঔষধি গুণ ছাতিম গাছের অভ্যন্তরে দুধের মতন সাদা এবং অত্যন্ত তেতো কষ থাকে। অনেকে ছাতিমের কষ ওষুধরূপে ঘা বা ক্ষতে লাগিয়ে থাকেন। ছাতিমের কষ অনেকে ওষুধরূপে ঘা বা ক্ষতে লাগিয়ে থাকেন। ছাতিম গাছের বাকল বা ছাল শুকিয়ে নিয়ে ওষুধের কাজে ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘস্থায়ী অতিসার এবং আমাশয়ে এটি অত্যন্ত উপকরী। জ্বর ধীরে ধীরে নামায় বলে ম্যালেরিয়াতেও উপকারী। অন্যান্য ওষুধে জ্বর নামার সময় খুব ঘাম এবং পরে যে দুর্বলতা হয়, ছাতিমে তা হয় না। স্নায়ুর শক্তিসূত্রে অসাড়তা আনে বলে রক্তের চাপ কমাতে ছাতিম উপকারী। কিছু পরীক্ষায় দেখা গেছে যে অ্যাণ্টিবায়োটিক কোন গুণ বা শারীরিক ক্রিয়ার সাহায্য করার কোন শক্তি ছাতিমের নেই। ছাতিম গাছের শুকনো ছাল আমাশয়ে এটি অত্যন্ত উপকরী। ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রে এর ছালের ক্বাথ কুষ্ঠ রোগীরা পান করে বা স্নানের সময় ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। এর কাঠ মাজন হিসাবে ব্যবহার করলে দাঁতের মাড়ি ফোলা রোগের নিরাময় হয়। এর ছাল জ্বর নাশক। চর্মরোগে ছাতিমের ছাল বিশেষ উপকারী। সান্দ্রমেহে, হিক্কাশ্বাস, দাঁতের যন্ত্রণায়, হাঁপানিতে, স্তন্যদুধের স্বল্পতায়, গাঁটের ব্যথায়, সর্দি বসায়, অগি্নমান্দ্যে, শ্বাসকষ্টে, দুষ্ট ব্রণে, পাইওরিয়ায় ছাতিমের বিভিন্ন অংশ ওষুধের কাজে ব্যবহার করা
অন্যান্য ব্যবহার: ছাতিমের কাঠ দিয়ে খুব সাধারণ মানের আসবাবপত্র, প্যাকিং কেস, চায়ের পেটি, পেনসিল এবং দেশলাইযের কাঠি তৈরী হয়। পুরাকালে ছাতিমের কাঠ দিয়ে শিশুদের লেখার জন্য তক্তা বানান হত। মনে করা হয় সেই কারণেই বৈজ্ঞানিক নামে “এলস্টোনিআ”-এর পর “স্কলারিস” কথাটি যোগ করা হয়েছে। ছাতিমের হালকা কাঠ দিয়ে শ্রীলংকায় কফিন বানানো হয়। ছাতিম গাছের মূলের কাছাকাছি অঞ্চলের কাঠ অনেক হালকা ও সাদা, এটি বোর্নিওতে জালের ভাসানী-খন্ডরূপে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এটি দিয়ে চামচ, কর্ক ইত্যাদি বানানো গাছের কাঠ দিয়ে স্কুলের ছাত্রদের জন্য শ্লেট তৈরি হতো।
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।