সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

ইসলাম ও জীবন

জিজ্ঞাসা???

আসসালামু আলাইকুম।অনেক পুরুসদের দেখা যায় গুল খায়।আমার পরিচিত একজনকে দেখি সারাদিন কিছুখন পর পর দাতে গুল দিয়ে খায়।উনার ধারনা গুল খেলে দাত ভাল থাকে। এবাপারে শরিয়তের মাসালা জানতে চাই।

6 টি মন্তব্য

  • কনভার্টার

    গুল তৈরির দুটি মুখ্য উপাদান হলো তামাকপাতা এবং চুন।

    তামাক খাওয়া হারাম।

    তাহলে গুল খাওয়া কি হবে আপনিই সিদ্ধান্ত নিন।
  • উসওয়াতুন হাসানাহ

    ধন্নবাদ @কনভার্টার।
    উত্তর পেয়ে গেছি।
    কিন্তু একটা প্রশ্ন ছিল, কেউ যদি না খেয়ে শুধু দাতে লাগায় (দাতের উপকারের জন্ন) তাহলেও কি হারাম বলা হবে?
  • কনভার্টার

    আর অসুখটাকি এমন যে "গুল" ব্যবহার না করলে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে?

    যদি এত মারাত্মক না হয়, তাহলে মুবাহ হওয়ার সুযোগও তো থাকলো না।

    "গুল" ব্যবহারের এত উপযোগীতা নেই যে তা জোর করে ব্যবহার করতে হবে।
  • উসওয়াতুন হাসানাহ

    শুকরিয়া
  • বক্তা

    ঐতিহাসিক সূত্র মতে আমেরিকার পাশে কিউবা নামক একটি দেশে তামাকের চাষ হতো, সেখান থেকে বাদশাহ্ জাহাঙ্গীরের শাসনামলে জনৈক রাষ্ট্রদুত ভারত উপমহাদেশে সর্বপ্রথম তামাক নিয়ে আসে। পরবর্তীতে এ উপমহাদেশে ধুমপানের ব্যবহার শুরু হয়। তামাক সম্পর্কে সর্ব প্রথম ফতওয়া প্রদান করেন, মুযাদ্দিদুয যামান হযরত শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ্ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি। তিনি উনার ‘দুররে ছামীন’ কিতাবে ধুমপান মাকরূহ্ তাহরীমী বলে ফতওয়া প্রদান করেন এবং তিনিই ধুমপানের সর্বপ্রথম ফতওয়া প্রদানকারী। তারপরে ফতওয়া দেন, হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি। যা ছহীহ্ হাদীছ শরীফ থেকে ক্বিয়াস করে প্রদান করা হয়েছে এবং এটিই ছহীহ্ ও নির্ভরযোগ্য ফতওয়া, যার উপর উলামায়ে হক্কানী-রব্বানী রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা একমত।
    পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি এমন দুর্গন্ধযুক্ত বৃক্ষের (কাঁচা পিঁয়াজ বা রসূনের) কিছু খায়, সে যেন আমাদের মসজিদের নিকটেও না আসে।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ, ফাতহুল বারী উমদাতুল ক্বারী, ইরশাদুস্ সারী, শরহে নববী, মিরকাত শরীফ, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, শরহুত্ ত্বীবী, তা’লীকুছ্ ছবীহ্, মিরআতুল মানাজীহ্)
    পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত হয়েছে, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ দু’টি বস্তু (অর্থাৎ পিঁয়াজ ও রসূন) খেতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন, যে ব্যক্তি তা খায়, সে যেন আমাদের মসজিদের নিকটেও না আসে। তিনি আরো বলেছেন, তোমাদের যদি খেতেই হয়, তাহলে তা রান্না করে দুর্গন্ধ বিনষ্ট করে খাবে।” (আবূ দাউদ শরীফ, মিশকাত শরীফ, বজলুল মাজ্হুদ, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, মিরকাত শরীফ, শরহুত্ ত্বীবী, তা’লীকুছ্ ছবীহ্)
    উল্লিখিত হাদীছ শরীফ উনাদের ব্যাখ্যায় বিখ্যাত মুহাদ্দিছ, হযরত মাওলানা কুতুবুদ্দীন খান দেহ্লভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “যে সকল দুর্গন্ধযুক্ত বস্তুর দ্বারা মানুষের কষ্ট হয়, তার দ্বারা হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরও কষ্ট হয়।” (মুযাহিরে হক্ব)
    সুতরাং কাঁচা পিঁয়াজ, কাঁচা রসূন এবং এ জাতীয় যে সমস্ত কাঁচা দ্রব্য খেলে মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়, তা খাওয়া মাকরূহ্ তানযিহী এবং তা খেয়ে মসজিদে যাওয়া মাকরূহ্ তাহরীমী। উল্লেখ্য, এ মাসয়ালার উপর ক্বিয়াস করে ধুমপান করা বা তামাক জাতীয় দ্রব্য (যেমন জর্দা, গুল ইত্যাদি) সেবন করা মাকরূহ্ তাহরীমী এবং ধুমপান করে মসজিদে যাওয়া হারাম ফতওয়া প্রদান করা হয়েছে। কেননা কাঁচা পিঁয়াজ, কাঁচা রসুন খাওয়া অপেক্ষা ধুমপানে বা তামাক জাতীয় দ্রব্য সেবনে মুখ অনেক বেশী দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে থাকে।
  • উসওয়াতুন হাসানাহ

    তথ্যবহুল মন্তব্যের জন্য শুকরিয়া।।।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।