ডেঙ্গু

শুরু হয়েছে ডেঙ্গু মৌসুম।ঢাকা শহরে বিগত বছরগুলোর মতো এবারও ডেঙ্গুজ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।ডেঙ্গুজ্বরের একটি ভাইরাস জনিত রোগ। এই ভাইরাসের বাহক এডিস মশা।
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ:
শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ করে ১০৪-১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। মাথাব্যথা, গোশতে ,চোখের পেছনে, পেটে ব্যথা এবং হাড়ে বিশেষ করে মেরুদণ্ডে ব্যথা অনুভূত হয়। অরুচি, বমিবমি ভাব কিংবা বমি হতে পারে। চামড়ার নিচে রক্তক্ষরণ হয় এবং পেটে ও ফুসফুসে পানি জমতে পারে। শরীরে হামের মতো দানা দেখা দিতে পারে। রক্তচাপ কমে যাওয়া, নাড়ির গতি দ্রুত হওয়া,ছটফট করা,শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া,শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান হয়ে পড়া- এসব লক্ষণও দেখা দিতে পারে।
কখন কিচিত্সকের কাছে যাবেন:
নিচের যে কোনও একটি উপসর্গ দেখা দিলে চিকিত্সকের পরামর্শ নেবেন-
০০ জ্বর হওয়ার ৩-৪ দিন পরও যদি জ্বর না কমে
০০ যদি শরীরের চামড়ার নিচে লালচে ছোট ছোট দাগ বা র্যাশ দেখা দেয়
০০ যদি চোখের কোণে রক্তের জমাট বাঁধা অবস্থা দেখা দেয়
০০ যদি দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ হয়
০০ যদি বমি এবং পায়খানার সাথে রক্ত যায়
০০ যদি প্রচণ্ড মাথাব্যথা, হাড়ে ব্যথা, চোখের কোটরে ব্যথা,গোশতের খিঁচুনি দেখা দেয়
রোগীকে কখন হাসপাতালে নেবেন:
যদি চোখের কোণায় রক্ত জমাট বাঁধা অবস্থা দেখা দেয়, চামড়ার নিচে লালচে ছোট-ছোট দাগ বা র্রাশ দেখা দেয়, রক্তবমি বা রক্ত পায়খানা হলে,রক্তচাপ কমে গেলে কিংবা রোগী
অজ্ঞান হয়ে গেলে সাথে সাথে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। এছাড়াও জ্বর যদি ৭
দিনের মধ্যে না কমে অথবা যদি রক্তপরীক্ষায় ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণু ধরা পড়ে,
তাহলে আর এক মূহূর্তও দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
ডেঙ্গু নির্ণয়ে রক্তপরীক্ষা:
সাধারণত জ্বর উচ্চতাপমাত্রায়
(১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা এর বেশি) হলে, কয়েক দিন ধরে থাকলে এবং এর
সাথে ডেঙ্গুর অন্যান্য প্রাতমিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিত্সকের পরামর্শক্রমে বেশ
কয়েকটি পরীক্ষা প্রথমেই করা দরকার, আর সেগুলো হলো (১) রক্তের
প্ল্যাটিলেট কাউন্ট বা অনুচক্রিকার সংখ্যা নির্ণয় (২) হেমোটোক্রিট বা প্যাকট সেল
ভলিউম এবং (৩) রক্তের ব্লিডিং টাইম (বিটি), ক্লটিং টাইম (সিটি)। যদি
রক্তে অনুচক্রিকা বা প্ল্যাটিলেটের সংখ্যা ১ লাখের কম হয় তবে ডেঙ্গু ভাইরাসের কথা
মাথায় রেখে পরবর্তী চিকিত্সা নেওয়া জরুরি। সাধারণত রক্তে অনুচক্রিকা বা
প্ল্যাটিলেটের সংখ্যা ১ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে ৪ লক্ষ পর্যন্ত হয়ে থাকে। অপর দিকে
ডেঙ্গুজ্বরের ভ্যালুও শতকরা ২০ ভাগ বেড়ে যায়।
ডেঙ্গু জ্বর হলে করণীয়:
রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে। দ্রুত জ্বর কমানো একান্ত জরুরি। এজন্য
মাথায় পানি দিতে হবে এবং ভেজা কাপড় দিয়ে গা মুছে দিতে হবে। প্যারাসিটামল ব্যবহার
করা যেতে পারে। কোনও অবস্থাতেই অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো যাবে না। প্রথমেই
জ্বর কমানোর চেষ্টা করতে হবে। রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি বা পানি জাতীয় খাবার
খেতে দিতে হবে। এছাড়া স্বাভাবিক সব খাবার, বিশেষ করে পুষ্টিকর খাবার
দিতে হবে। সম্ভব হলে রোগীকে আক্রান্ত অবস্থায় মশারির মধ্যে বা নেট লাগানো ঘরের
মধ্যে রাখতে হবে। ২-৩ দিনের মধ্যে জ্বর না কমলে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে
হবে। যদি রোগী বমি করে, তাহলে প্রচুর পরিমাণে খাওয়ার স্যালাইন
খাওয়াতে হবে। যদি রক্তক্ষরণের কোনও উপসর্গ দেখা দেয,তবে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে
ভর্তি করতে হবে। ডেঙ্গু চিকিত্সার মূল কথা হচ্ছে যেহেতু এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ,
এটি আপনা আপনিই সেরে যাবে। তবে ভাইরাস সেরে না যাওয়া পর্যন্ত যে কোনও ভাবেই রোগীকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। রোগীর দেহের অভ্যন্তরীণ জলীয় পদার্থের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে এবং জ্বর সেরে যাওয়ার পরও রোগীকে ৩-৪ দিন পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে।
ডেঙ্গু হলে যা করা উচিত নয়:
অযথা ভয় পাবেন না বা আতঙ্কিত হবেন না। মনে রাখবেন এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ-আপনা-আপনি-ই সেরে যাবে। শরীরের তাপমাত্রা কখনই ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট এর বেশি উঠতে দেয়া যাবেনা। কোনও অবস্থাতেই রোগীকে অ্যাসপিরিনি জাতীয় বেদনা নাশক ওষুধ খাওয়ানো যাবেনা। শরীরের রক্তক্ষরণের কোনও উপসর্গ দেখা দিলে চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে দেরি করা যাবে না। প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতেও দেরি করা যাবে না। নিশ্চিত না হয়ে antibiotic দেওয়া যাবেনা ।
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।