সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

বিভাগবিহীন

তাছাউফঃ

আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফ-এ সুরা বাক্বারা, সুরা আল ইমরান, সুরা জুমুয়া তিনটা সুরাতে চারখানা আয়াত শরীফ নাযিল করেছেন। তার মধ্যে মূল হিসেবে যে আয়াত শরীফ উল্লেখ করা হয়ে থাকে, আল্লাহ পাক বলেন, “আল্লাহ পাক মু’মিনদেরকে ইহসান করেছেন, তাদের জন্য একজন রসূল আল্লাহ পাক পাঠিয়েছেন। যিনি তাদেরকে কিতাব শিক্ষা দিবেন, হিকমত শিক্ষা দিবেন, আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করে শোনাবেন, ইছলাহ করবেন; যদিও তারা পূর্বে হিদায়েতপ্রাপ্ত ছিল না। এই ‘ইউযাক্কিহীম’ ‘তাযকিয়া’ যেটা এটাই ‘তাযকিয়ায়ে নফছ’, ‘তাযকিয়ায়ে ক্বলব’। এই ইলমুত্ তাযকিয়াই হচ্ছে ইলমুত্ তাছাউফ। মানুষের অন্তর পরিশুদ্ধ করা, এতটুকু পরিশুদ্ধ করা যাতে সে আল্লাহ পাক-এর মুহব্বত মা’রিফত, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ অর্থাৎ যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত, তায়াল্লুক, নিছবত সেই বান্দা এবং উম্মত ধারণ করতে পারে। ইলমুত্ তাছাউফ শিক্ষা করা হচ্ছে ফরযে আইন। আমভাবে ফতওয়া দেয়া হয়েছে আল্লাহ পাক কুরআন শরীফ-এ বলেন, তোমরা দুয়া কর, “আল্লাহ পাক আমার ইলম বৃদ্ধি করে দিন, আমাদের ইলম বৃদ্ধি করে দিন।” আর ইলম সম্পর্কে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ইলম তলব করা বা ইলম অর্জন করা ফরয।” আর অন্য হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, “ইলম হচ্ছে দুই প্রকার; একটা জবানী, একটা ক্বলবী। জবানী ইলম হচ্ছে দলীল স্বরূপ, ফিক্বাহ যাকে বলা হয়। আর ক্বলবী ইলম যেটা সেটা হচ্ছে ইলমুত্ তাছাউফ। মানুষকে ইছলাহ করার যে ইলম, বদ খাছলত দূর করে নেক খাছলত পয়দা করার যে ইলম, যে ইলম-এর মাধ্যম দিয়ে আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত-মা’রিফত, তায়াল্লুক-নিছবত হাছিলের যে মাধ্যম যে ইলম সেটা হচ্ছে ইলমুত্ তাছাউফ। এই ইলম অর্জন করা ফরযে আইন। কতটুকু? যাহেরী ইলম যেটা ইলমে ফিক্বাহ সেটা হচ্ছে একজন মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় তার চলাচল, উঠা- বসা, খাওয়া-দাওয়া, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকুরী-বাকুরী, আক্বাঈদ-ইবাদত যা কিছু রয়েছে, মুয়ামেলাত- মুয়াশেরাত যা কিছু রয়েছে এর জন্য যতটুকু তার ইলম জানা দরকার, শরীয়ত-এর হুকুম-আহকাম জানা প্রয়োজন, যেটা না জানলে সে হালাল থেকে হারামে পৌঁছে যেতে পারে, গুমরাহীতে চলে যেতে পারে, সেই হালাল- হারাম তমীজ করার ইলমটা তার অর্জন করা ফরয। আর ইলমুত্ তাছাউফ হচ্ছে, এতটুকু অর্জন করা ফরয যার মাধ্যম দিয়ে তার অন্তরের বদ খাছলতগুলি দূর হয়ে যাবে, নেক খাছলত পয়দা হবে। নতুন করে কোন বদ খাছলত তার অন্তরে প্রবেশ করবে না। এটা আমভাবে বলা হয়েছে। আর খাছভাবে যেটা বলা হয়ে থাকে ছবক্ব হিসেবে, সেটা হচ্ছে সুলতানুল আজকার অর্থাৎ ক্বলব, রুহ, সের, খফি, আখফা, নফস, আব, আতেশ, খাক, বাদ এ দশটা লতিফা যখন একসাথে জারী হবে সেটাকে বলা হয় সুলতানুল আজকার। আবার সুলতানুল আজকারের তিনটা স্তর রয়েছে। প্রথম স্তর হচ্ছে, সমস্ত শরীরে যিকির জারী হয়ে যাবে, দ্বিতীয় স্তর হচ্ছে আশেপাশে যা কিছু রয়েছে সব একসাথে যিকির করবে। আর তৃতীয় স্তর হচ্ছে, আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত সে ব্যক্তি দেখতে পাবে সমস্ত কায়িনাত তার সাথে যিকিরে মশগুল রয়েছে। (সুবহানাল্লাহ) আমভাবে যেটা ফতওয়া দেয়া হয়, কমপক্ষে সুলতানুল আজকারের প্রথম স্তর পর্যন্ত যিকির জারী করাটা ফরযে আইন-এর অন্তর্ভুক্ত। এতটুকু যদি হয় তাহলে আস্তে আস্তে সে তৃতীয় স্তরেও পৌঁছবে, বদ খাছলত দূর হয়ে যাবে, নেক খাছলতগুলি পয়দা হতে থাকবে। এখন এই ইলমুত্ তাছাউফ অর্জন করার জন্য ফরয যেটা সেটা হচ্ছে একজন হক্বানী-রব্বানী শায়খ-এর কাছে বাইয়াত গ্রহণ করা, বাইয়াত গ্রহণ করে ছবক্ব নেয়া এবং ছোহবত ইখতিয়ার করা। ছোহবত ইখতিয়ার করা ব্যতীত হাক্বীক্বতে পৌঁছা কঠিন ব্যাপার। একজন বাইয়াত গ্রহণ করবে, ছোহবত ইখতিয়ার করবে, ছবক্ব নিবে, যিকির-ফিকির করে তাকে কমপক্ষে সুলতানুল আজকারের প্রথম স্তরে পৌঁছতেই হবে। এটা হচ্ছে ইলমে তাছাউফের জন্য ফরযে আইন, এটা মনে রাখতে হবে। কাজেই, এই ফরযে আইন ব্যতীত কারো পক্ষেই হক্বের উপর থাকা সম্ভব নয়। একটা লোক যতই আমল করুক না কেন দীল যদি ইছলাহ না হয় শয়তান তো তাকে ওয়াছওয়াসা দিবে। যেটা বুখারী শরীফ-এ রয়েছে, শয়তান তো আদম সন্তানের ক্বলবে বসে থাকে। যখন সে যিকির করে সে পালিয়ে যায়, আর যখন গাফিল থাকে তখন ওয়াছওয়াসা দেয় তখনতো তাকে গুমরাহ করে ফেলতে পারে আল্লাহ পাক থেকে আল্লাহ পাক-এর হাবীব থেকে তার শায়খ থেকেও সে গুমরাহ করে দিতে পারে। মানুষ যে তাছাউফ চর্চা করার পরেও, ছুফী হওয়ার পরেও গুমরাহ হয়ে যায়, মুনাফিক হয়ে যায় এটাই হচ্ছে সেটা। কারণ তাদের অন্তরে শয়তান ওয়াছওয়াসা দিতে থাকে, সে যিকির-ফিকির না করার কারণে ওয়াছওয়াসাটা যখন প্রবল হয়ে যায় ইচ্ছা অনিচ্ছায় সে গুমরাহ, মুনাফিক হয়ে যায়। (নাঊযুবিল্লাহ) কাজেই এটা সকলকেই মনে রাখতে হবে ইলমে তাছাউফ ফরয। কতটুকু? কমপক্ষে সুলতানুল আজকারের প্রথম স্তর পৌঁছতেই হবে। এই স্তরে পৌঁছার জন্য তাকে যত কোশেশ প্রয়োজন মাল-জান দিয়ে, সময় দিয়ে সেটা করতেই হবে। অন্যথায় হক্বে থাকা তার জন্য অত্যন্ত কঠিন। অত্যন্ত কঠিন সেটা। কাজেই ইলমে তাছাউফ অর্জন করা ফরযে আইন এটা মনে রাখতে হবে।

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।