সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

খবর

নকশীকাঁথা

  সুই-সুতার ফোঁড়নে নয়নাভিরাম রঙিন কারুকাজ যেন স্বপ্নের সুন্দরের কথা জানিয়ে দিচ্ছে। পাড়াগাঁওয়ের মেয়েরা এ স্বপ্ন বুনে চলেছেন। তাদের মুখে মুখে গল্প। হাসিভরা মুখ। সবার কাছেই একটি করে নকশীকাঁথা। সেই কাঁথায় চলছে সুই-সুতার ফোঁড়ন। মনের মাধুরী মিশিয়ে তারা তৈরি করে চলেছেন নকশীকাঁথা। রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের বদলপুর যেন নকশীকাঁথারই গ্রাম। এই নকশীকাঁথা এ গ্রামের নারীদের বেঁচে থাকার দিশা দেখিয়েছে। আর এর মাধ্যমে তারা পেয়েছে বেঁচে থাকার প্রেরণা। তবে গ্রামটিতে প্রবেশের রাস্তাটুকুও মাটির। সরু, চিকন রাস্তার দুধারে ধানের জমি। এরই ফাঁকে ফাঁকে একের পর এক বাড়ি। কোন কোন স্থানে লাগালাগি বাড়ি। এখানে প্রায় ৯৫ ভাগই ছোট ছোট মাটির বাড়ি। মাঝে মাঝে দুই-একটি আধা-পাকা টিনশেড বাড়ি চোখে পড়ে। এই গ্রামে ঢুকতেই প্রথমে চোখে পড়বে একটি দৃশ্য তা হলো নারী ও কিশোরীদের হাতে হাতে নকশীকাঁথা আর সুই-সুতা। অবসরে বাড়ির ভেতরে অথবা আনাচে-কানাচে বসে এসব নারী-কিশোরীরা ব্যস্ত নকশীকাঁথার বুননে। গোল হয়ে কিংবা সারিবদ্ধভাবে কয়েকজন নারী একসঙ্গে বসে কাঁথা সেলাই করছেন। গ্রামটির ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া সরু চিকন মাটির রাস্তা দিয়ে যেতে থাকলেই এমন দৃশ্যের দেখা মিলবে। যেন নকশীকাঁথার গ্রাম এটি। রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তানোর উপজেলার চক বাধাইড় বদলপুর গ্রাম। গ্রামের প্রায় শতভাগ নারী-কিশোরী এখন নকশীকাঁথার সঙ্গে জীবনকে বেঁধে ফেলেছেন। তানোর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মন্ডুমালা পৌরসভা। মন্ডুমালা পৌর সদর থেকে আরও প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বদলপুর গ্রাম। গ্রামের হাজার খানেক মানুষের মধ্যে নারী ও কিশোরীরা সবাই এখন নকশীকাঁথা সেলাই করে বাড়তি উপার্জন করেন। অনেকের সংসারই চলছে এ নকশীকাঁথা সেলাইয়ের ওপর। আবার কারও কারও সংসারে খরচ মেটাতে সাহায্য করছে নকশীকাঁথা। নারী ও কিশোরীরাই এ গ্রামের নকশীকাঁথার কারিগর। গ্রামবাসী জানান, এই গ্রামের কোন নারী ও কিশোরীরা আর বসে থেকে সময় কাটান না। সবাই সুযোগ পেলেই হাতে তুলে নেন নকশীকাঁথার সুই-সুতা।

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।