সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

ইসলাম ও জীবন

********* না-হক্ব আলিম****************

********* না-হক্ব আলিম****************
********* না-হক্ব আলিম**************** ***********************************
Faruque Hussainৰ ফটো
না-হক্ব আলিম হলো ওই ব্যক্তি, যে দুনিয়ার সামান্য সম্পদ ও মান-সম্মান হাছিল করার জন্য ঈমান ও আমল ধ্বংস করে দেয়। যেমন বর্তমানে কেউ কেউ দুনিয়াবী ফায়দা হাছিলের জন্য বা ক্ষমতা লাভের উদ্দেশ্যে দ্বীন ইসলাম উনার নামে গণতন্ত্র ভিত্তিক আন্দোলন করছে, যে গণতন্ত্র অনুসরণ করা ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়িয। কারণ গণতন্ত্র হলো ইহুদী-নাছারা বা মানব রচিত মতবাদ। অথচ এক শ্রেণীর আলিম তাদের নিকট গণতন্ত্র হারাম একথা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও তারা গণতন্ত্র চর্চা করছে। (নাঊযুবিল্লাহ্) মূলত তাদের গণতন্ত্রভিত্তিক আন্দোলন করার উদ্দেশ্য হলো দুনিয়াবী কিছু ফায়দা হাছিল করা। তাদের মধ্যে আবার কেউ কেউ অহরহ পেপার- পত্রিকায় নিজের ছবি ছাপাচ্ছে এবং দ্বীন ইসলাম উনার নামে টিভি চ্যানেলে প্রোগ্রাম করছে। (নাঊযুবিল্লাহ্) অথচ ছবি তোলা, আঁকা, রাখা ইত্যাদি সবই ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে কাট্টা হারাম। কিন্তু তারা বিনা দ্বিধায় এ হারাম কাজগুলো করে যাচ্ছে। মূলত এরাই হলো উলামায়ে ‘সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ী অর্থাৎ না-হক্ব আলিম। এদের প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ﻋﻦ ﺯﻳﺎﺩ ﺑﻦ ﺣﺪﻳﺮ ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﻟﻰ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻫﻞ ﺗﻌﺮﻑ ﻣﺎ ﻳﻬﺪﻡ ﺍﻻﺳﻼﻡ؟ ﻗﻠﺖ ﻻ ﻗﺎﻝ ﻳﻬﺪﻣﻪ ﺯﻟﺔ ﺍﻟﻌﺎﻟـﻢ ﻭﺟﺪﺍﻝ ﺍﻟﻤﻨﺎﻓﻖ ﺑﺎﻟﻜﺘﺎﺏ ﻭﺣﻜﻢ ﺍﻻﺋﻤﺔ ﺍﻟـﻤﻀﻠﻴﻦ . অর্থ : “হযরত যিয়াদ ইবনে হুদাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমাকে হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, তুমি বলতে পার কি, কোন জিনিস ইসলামকে ধ্বংস করবে? আমি বললাম না (আমি জানিনা)। তখন তিনি বললেন, আলিমদের পদস্খলন, মুনাফিকদের আল্লাহ পাক উনার কিতাব নিয়ে তর্ক-বাহাছে লিপ্ত হওয়া এবং গোমরাহ শাসকদের গোমরাহীমূলক হুকুম বা আদেশ- নিষেধ (ইসলাম উনার ক্ষতি সাধন করবে)।” (দারিমী শরীফ) মূলত বর্তমানে তাই দেখা যাচ্ছে, কিছু সংখ্যক তথাকথিত আলিমদের পদস্খলনের কারণে মুসলমানদের পবিত্র ঈমান ও আমল হুমকির সম্মুখীন। তাদের কারণে সাধারণ লোক মনে করে গণতন্ত্র সম্মানিত ইসলাম উনারই অংশ, ছবি তোলা ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে জায়িয, হরতাল করা ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ নয়, টেলিভিশন দেখা ও টেলিভিশনে প্রোগ্রাম করা জায়িয। (নাঊযুবিল্লাহ্) অথচ ইসলামী শরীয়ত উনার ফায়সালা হলো হারামকে হালাল জানা আর হালালকে হারাম জানা কুফরী। অনূরূপ বিজাতীয় ও বেদ্বীনি মতবাদকে দ্বীন ইসলাম উনার অংশ মনে করাও কুফরীর অন্তর্ভূক্ত। তবে কি প্রমাণিত হয় না যে, তাদের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ কুফরী করে ঈমানকে ধ্বংস করছে? আর তাই তো পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ﺻﻨﻔﺎﻥ ﻣﻦ ﺍﻣﺘﻰ ﺍﺫﺍ ﺻﻠﺤﺖ ﺻﻠﺢ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻭﺍﺫﺍ ﻓﺴﺪﺕ ﻓﺴﺪ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺍﻻﻣﺮﺍﺀ ﻭﺍﻟﻔﻘﻬﺎﺀ অর্থ : “আমার উম্মতের দুই সম্প্রদায়, তারা যখন ইছলাহ বা সংশোধন হবে, তখন সকল মানুষ (মুসলমান) সংশোধন হবে। আর তারা যখন পথভ্রষ্ট হবে, তখন সকল মানুষ (মুসলমান) পথভ্রষ্ট হবে, তারা হলো (১) রাজা-বাদশাহ্, (২) আলিম-উলামা।” বস্তুতঃ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এরূপ দুনিয়াদার বা পথভ্রষ্ট আলিমদের ভয়াবহ পরিণাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ﻋﻦ ﺍﺑﻰ ﺍﻟﺪﺭﺩﺍﺀ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﺍﻥ ﻣﻦ ﺍﺷﺮ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﻨﺰﻟﺔ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻋﺎﻟـﻢ ﻻ ﻳﻨﺘﻔﻊ ﺑﻌﻠﻤﻪ . অর্থ : “হযরত আবু দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ক্বিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে নিকৃষ্ট হবে যে তার ইল্মের দ্বারা উপকৃত হয়নি।” (দারিমী শরীফ) অতএব, যারা ইল্ম অনুযায়ী আমল করবে না অর্থাৎ যারা হারাম-নাজায়িয কাজ ও বিজাতীয় অনুসরণ থেকে ফিরে থাকবে না। মূলত উপরোক্ত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যের মিছদাক বা নমুনা তারাই অর্থাৎ তারা উলামায়ে ‘সূ’ বা দুনিয়াদার ধর্মব্যবসায়ী আলিম, আর তারাই উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট। নিম্নোক্ত ঘটনা দ্বারা আরো সুস্পষ্টভাবে দ্বীনদার আলিম ও দুনিয়াদার আলিমের পরিচয় ফুটে উঠবে। বাদশাহ্ শাহ্জাহান একবার তার দরবারী আলিমদের নিকট ফতওয়া তলব করে বললেন, আমি অসুস্থ, অসুস্থতার কারণে আমার জন্য রেশমী কাপড় পরিধান করা জায়িয হবে কি? দরবারী আলিমরা বাদশার মন তুষ্টির জন্যই হোক বা দুনিয়াবী ফায়দা লাভের জন্যই হোক, তারা ফতওয়া দিল, বাদশাহ্ নামদার যেহেতু আপনি অসুস্থ আর আপনি অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজ্য অচল হয়ে পড়বে, কাজেই রাজ্য ও প্রজাদের বৃহত্তর স্বার্থে আপনার জন্য এ অবস্থায় রেশমী কাপড় পরিধান করা জায়িয হবে। বাদশা তার দরবারী আলিমদের মৌখিক ফতওয়ায় আশ্বস্ত না হতে পেরে লিখিত ফতওয়ার নির্দেশ দিলেন। দরবারী আলিমরা বাদশাহ্কে এ ব্যাপারে লিখিত ফতওয়া দিল। বাদশাহ্ তাতেও নিশ্চিত হতে পারলেন না, তাই তিনি বললেন, এ ফতওয়াতে অন্যান্য আরো আলিমের দস্তখত লাগবে। দরবারী আলিমরা তখন তাদের সমগোত্রীয় ৩০০ আলিমের দস্তখত সংগ্রহ করে ফতওয়াটি বাদশাহ্র নিকট পেশ করলো। বাদশাহ্ ফতওয়াটি আদ্যপান্ত ভালরূপে পাঠ করে দেখলেন এবং বললেন যে, সেখানে তার শাহী মসজিদের যিনি খতীব, নূরুল আনওয়ার ও তাফসীরে আহ্মদীর ন্যায় বিশ্ববিখ্যাত কিতাবের মুছান্নিফ, তৎকালীন যামানার শ্রেষ্ঠতম আলিম, হযরতুল আল্লামা মুল্লা জিউন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দস্তখত ব্যতীত এ ফতওয়া গ্রহনযোগ্য হবে না। তখন দরবারী আলিমরা উক্ত ফতওয়াটি হযরত মুল্লা জিউন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবারে নিয়ে যায় দস্তখত নেবার জন্য। হযরত মুল্লা জিউন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আমি আজ এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করবো না, বরং বাদশাহ্ আমার মসজিদে পবিত্র জুমুয়ার নামাজ পড়তে আসেন, তাই আমি বাদশাহ্ ও মুছল্লীগণের সম্মূখে এ ব্যাপারে ফতওয়া দিব। অতঃপর পবিত্র জুমুয়ার দিন বাদশাহ্ তার উজীর-নাজীরসহ পবিত্র জুমুয়ার নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে গেলেন। অনেক মুছল্লীও উপস্থিত হলেন এবং দরবারী আলিমরাও উপস্থিত। সকলেই অপেক্ষা করছে হযরত মুল্লা জিউন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফতওয়া শুনার জন্য। ইতিমধ্যে হযরত মুল্লা জিউন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মিম্বরে উঠে বসলেন এবং বললেন, মুছল্লী ভাইয়েরা আমার নিকট ৩০০ আলিমের দস্তখত সম্বলিত একটি ফতওয়া এসেছে। যাতে বলা হয়েছে যে, বৃহত্তর স্বার্থে, বাদশাহ্র অসুস্থতার কারণে, বাদশাহ্র জন্য রেশমী কাপড় পরিধান করা জায়িয। এ ব্যাপারে আমার ফতওয়া হলো- “যারা এ ফতওয়া দিয়েছে এবং যে চেয়েছে উভয়েই কাফির হয়ে গেছে।” কারণ ওহীর দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, হারাম হারাম হিসেবে সাব্যস্ত হয়ে গেছে এবং হালাল হালাল হিসেবে সাব্যস্ত হয়ে গেছে। তাই ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে হারামকে হালাল আর হালালকে হারাম বলা কাট্টা কুফরী। যারা বলবে তারা কাট্টা কাফির হবে। উপরোক্ত ঘটনা দ্বারা যেরূপ উলামায়ে ‘সূ’ তথা দুনিয়াদার বা ধর্মব্যবসায়ী আলিমদের মুখোশ সুস্পষ্টভাবে উম্মোচিত হলো, তদ্রুপ উলামায়ে হক্ব তথাদ্বীনদার আলিমগণের পরিচয় বা লক্ষণও সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো। সুতরাং, যাঁরা দ্বীনকে রক্ষা করার জন্য সবকিছু বিসর্জন দেন, প্রতিক্ষেত্রে ছহীহ্ আক্বীদা পোষণ করেন, মহান আল্লাহ পাক ও উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে ভয় করেন, ইল্ম অনুযায়ী আমল করেন, সুন্নত উনার ইত্তিবা (অনুসরণ- অনুকরণ) করেন, হারাম থেকে বেঁচে থাকেন। উনারাই হক্কানী আলিম, আর উনারাই হলেন উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম। আর যারা দুনিয়াবী ফায়দা হাছিলের লক্ষ্যে মনগড়া ফতওয়া দেয়, নফসের অনুসরণ করে, ইসলামী শরীয়ত উনার খিলাফ কাজ করে, এক কথায় না-হক্ব বা হারামের উপর দৃঢ়চিত্ত, তারাই উলামায়ে ‘সূ’ বা দুনিয়াদার আলিম তথা ধর্মব্যবসায়ী। আর তারাই উম্মতের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট। আর এদের প্রসঙ্গেই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ﻋﻦ ﺍﻧﺲ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﻳﻞ ﻻﻣﺘﻰ ﻣﻦ ﻋﻠﻤﺎﺀ ﺍﻟﺴﻮﺀ ﻳﺘﺨﺪﻭﻥ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﺗـﺠﺎﺭﺓ ﻳﺒﻴﻌﻮﻧـﻬﺎ ﻣﻦ ﺍﻣﺮﺍﺀ ﺯﻣﺎﻧـﻬﻢ ﺭﺑـﺤﺎ ﻻﻧﻔﺴﻬﻢ ﻻ ﺍﺭﺑﻊ ﺍﻟﻠﻪ ﺗـﺠﺎﺭﺗـﻬﻢ . অর্থ : “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, আমার উম্মতের মধ্যে যারা উলামায়ে ‘সূ’ তাদের জন্য আফ্সুস অর্থাৎ তারা জাহান্নামী হবে। তারা ইল্মকে ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করতঃ তাদের যুগের শাসকদের নিকট থেকে অর্থ ও পদ লাভের প্রচেষ্টা চালাবে। আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসকল উলামায়ে ‘সূ’দের বিরুদ্ধে এই বলে বদদু’য়া করেন যে, আয় আল্লাহ পাক! যারা নিজেদের ইল্ম দ্বারা দুনিয়াবী সরকারের সাথে ব্যবসা করতে চায় তাদের ব্যবসায় বরকত দিবেন না।” (কানযুল উম্মাল শরীফ) এসকল উলামায়ে ‘সূ’ বা দুনিয়াদার আলিম তথা ধর্মব্যবসায়ীদেরকে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে দাজ্জালে কায্যাব বা মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বলে অভিহিত করা হয়েছে এবং এদের থেকে উম্মতদেরকে দূরে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে    

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।