চৈনিক রা পূর্বে থেকে তাদের কৃষ্টি কালচারে অন্য এলাকা থেকে ছিল স্বকীয় ও সমৃদ্ধ। তাই কেউ চাইলেই চৈনিকদের উপর কর্তৃত্ব করতে পারত না। কিন্তু বৃটিশরা ছিল কুট চালে সেরা। তারা চৈনিকদের কর্তৃত্ব পেতে চীনাদের মাঝে ব্যাপক ভাবে আফিম প্রচলন করে দেয়। সে সময় আফিম ঔষধ হিসেবে পরিচিত ছিল। পরিমাণে বেশী ব্যবহার করে নেশায় আসক্ত হয় এবিষয় টি অনেকের জানা ছিল না। আর এ বিষয়টি অনুধাবনের আগেই সমস্ত চীনের জনগণের ১০ জনের ৯জন আফিমের নেশায় বুদ হয়ে পারে। চীনের শাসক চিয়া চিং বিষটি অনুধাবন করে আফিমের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। কিন্তু এত লোক নেশায় আসক্ত হওয়ায় এই আফিম আশা বন্ধকরা সম্ভব হয়ে উঠেনা। তখন চিয়া চিং এ বিষয়ে কঠোর হন এবং ব্রিটিশদের আফিমের বড় চালান ধরে তা চুন আর লবণ দিয়ে নষ্ট করে দেয়। আর এই উছিলা ধরে ব্রিটিশদের সাথে চিনের পর পর দুটি যুদ্ধ হয়। যা ইতিহাসে আফিমের যুদ্ধ নামে পরিচিত। নেশায় আসক্ত চীনারা ব্রিটিশদের সাথে এ যুদ্ধে মাথা নত করে এবং ব্রিটিশদের সাথে গোলামীর চুক্তি করতে বাধ্য হয়। চুক্তিটি ননকিং চুক্তি নামে পরিচিত।
এ অসম চুক্তি পাঁচটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে ব্রিটিশাধিপত্য বিস্তারের সুযোগ করে দেয়। বিশেষ করে জাপান, তাইওয়ান, চীন, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সমুন্দর বন্দরগুলোতে তখন থেকেই ইউরোপীয় আধিপত্যের সূচনা। আর এক্ষেত্রে স্মরণ করিয়ে দেয়া ভালো চীনের দুর্গতির মূলে ছিল বিষাক্ত আফিমের মরণ নেশা। যে নেশা ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো চীনকে। প্রতিপক্ষের দুর্বল আক্রমণও অনেক বড় হয়ে দেখা দেয় তাদের সামনে।
পাঠক গন আপনাদের জানানো প্রয়োজন আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে ঘটে যাচ্ছে সেই রকম বিষয় এবং সকলের চোখের সামনেই। আমাদের পাশের দেশ ভারত থেকে ফেন্সিডিল আসছে ব্যাপক হারে। অথচ কিছুদিন আগে বিজিবি ও বিএসএফের একটা বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে থাকা ফেনসিডিলের কারখানাগুলো বন্ধের প্রস্তাব করা হয়েছিল। বিএসএফ এই প্রস্তাবে রাজী হয়নি। এ কারখানা গুলোতে যে ফেনসিডিল তৈরি হয় সেগুলো ভারতের ভেতরে। ওরা বাংলাদেশী দের ভারতে ঢুকতে দেয় না। সীমান্তে প্রায়ই শুনবেন গরু ব্যবসায়ীদের গুলি করে মেরে ফেলছে বিএসএফ। কোনদিন শুনবেন না যে ফেনসিডিল চোরাচালানীদের মেরেছে। এর ভেতর আবার যুক্ত হয়েছে ইয়াবার মতো ব্যাপক বিধ্বংসী নেশা। এই নেশা উঠতি বসয়ের ছেলে মেয়ে থেকে শুরু করে পরিবারের সকলেই সেবন কারীও দেখা গেছে। আর এটি এমন নেশা যে কেও করলে তাকে সনাক্ত করা ও কঠিন। ইয়াবা আশে আরেক পার্শবর্তী দেশ বার্মা থেকে।
আপনি কি মনে করেন আমাদের দেশের রাজনীতিকরা, চুচিল রা এগুলো বন্ধ করতে চায়? কখনো না তারা আরো এথেকে ফায়দা লুটায় ব্যস্ত। এথেকে বাচার উপার তাহলে কি? নিজের মনোবল, সত্যিকারের দীন ইসলামের খিদমত এবং নিজের পরিবার পরিজনের প্রতি খেয়াল রাখা। নয়ত অচিরেই চীনের মত আমাদের ভাগ্যে লিখা থাকতে পারে গোলামির শিকল।
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।