সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

আবিষ্কার

পেঁপে এর গুন!

পেঁপে এর গুন!
উদ্ভিদের নাম : পেঁপে গাছ প্রচলিত নাম :পেঁপে। ইউনানী নাম:পাপিতা, আরানড খরবূযা। আয়ুর্বেদিক নাম:অমৃততুম্বী। বর্গ: Brassicales পরিবার: Caricaceae গণ: Carica প্রজাতি: C. papaya বৈজ্ঞানিক নাম : Carica papaya Linn ব্যবহার্য অংশ: তরুক্ষীর(আঠা), ফল ও পাতা   রোপনের সময় : নার্সারীতে চারা জন্মানোর পর ৭-১০ সেমি উঁচু হলে তা লাগানোর উপযুক্ত হয়। এটি প্রায় সারা বছরই জন্মে। উত্তোলনের সময় : এটিকে বারোমাসি উদ্ভিদ ও বলা যায়। সারা বছরই পাওয়া যায়। আবাদী/অনাবাদী/বনজ: এটি বসতবাড়ী এবং বাগানে চাষ করা হয়। চাষের ধরণ: পেঁপে সব ধরনের মাটিতে জন্মে থাকে । বেলে মাটিতে বেশি ভালো জন্মে।এটি উঁচু স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় ভালো জন্মে। এটি চাষের জন্য প্রথমে বীজ তলায় বীজ রোপন করতে হয়। পরবর্তীতে চারা গজালে বীজ তলা থেকে তুলে অন্যত্র লাগানো হয়। এটি রোপনের ক্ষেত্রে তেমন দূরত্বের প্রয়োজন হয়না ।   উদ্ভিদের ধরণ: পেঁপে বহু বর্ষজীবি নয়। এটি সবুজ কান্ড বিশিষ্ট মধ্যমাকারের সোজা গাছ।     পরিচিতি: এ গাছ মধ্যমাকারের সোজা গাছ। প্রায় ২০-২৫ ফুট উঁচু হয়। শাখা-প্রশাখা হয় না। তবে গাছ পুরানো হলে দু একটি শাখা বের হয়। মূল কান্ডের চারপাশে পাতা বের হয় এবং পাকলে ঝরে যায়। এটি আকারে বেশ বড় হয়। এর কিনারা ৭ ভাগে বিভক্ত। নলের মত বোঁটাটি ফাঁপা, এটি ৩ সে.মি. পর্যন্ত লম্বা হয়। পাতার গোড়া ও কান্ডের যোগস্থলে ফুল বের হয়। সব ফুল থেকে আবার ফল হয়না। স্ত্রী জাতীয় ফুল থেকে ফল হয়। এর আকার বেশ বড়। তবে এর গা ঢেউ খেলানো হয়। কাঁচা অবস্থায় এর রং সবুজ পাকলে কিছুটা অংশ হলুদ হয়। এতে দুধের মত আঠা আছে। এই ফলের মধ্যে ফাঁপা এবং অনেকগুলি বিচি থাকে। ফল কচি থাকা অবস্থায় বিচির রং সাদা এবং পাকলে ধুসর বা কালো হয়ে থাকে। প্রায় সারা বছরই ফুল ও ফল দেখা যায়। ১০০ গ্রাম পাকা পেঁপের পুষ্টিগুণ:

উপাদান

পরিমাণ

প্রোটিন ০.৬ গ্রাম
ফ্যাট ০.১ গ্রাম
মিনারেল ০.৫ গ্রাম
ফাইবার ০.৮ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেড ৭.২ গ্রাম
খাদ্যশক্তি ৩২ কিলোক্যালরি
ভিটামিন সি ৫৭ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম ৬.০ মিলিগ্রাম
পটাসিয়াম ৬৯ মিলিগ্রাম
আয়রন ০.৫ মিলিগ্রাম
  রাসায়নিক উপাদান: পাতা ও অপক্ক ফল তরুক্ষীর সমৃদ্ধ। এই তরুক্ষীর প্রচুর পরিমাণের হজমকারী এনজাইম পেপেন বিদ্যমান। পাতায় অ্যালকালয়েড, গ্লুকোসাইড এবং ফলে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন আছে। ঔষধি গুনাগুন : কাঁচা পেঁপের রস থেকে পেপসিন নামক জারক রস পাওয়া যায়। যা অজীর্ণরোগে বিশেষ ফলদায়াক। পেঁপের আঠা মুত্রনালীর ক্ষতে ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। ডিপথেরিয়া, স্পলীহা ও যকৃত বৃদ্ধিতে পেঁপের রসের ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। পেঁপের আঠা বাহ্যিক প্রয়োগও হয়। শুষ্ক দাদ ও একজিমাতে এর আঠা ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া সবজি হিসাবে রান্না করে খেলে অর্শরোগে হিতকর এবং এটি স্তন বৃদ্ধি কারক হিসাবে প্রসিদ্ধ আছে। পেঁপের বীজ ক্রিমিনাশক রজঃনিসারক ও তৃষ্ণা নিবারক হিসাবে ব্যবহ্রত হয়। কাঁচা পেঁপের আঠা ও বীজ ক্রিমিনাশক রজঃনিসারক ও প্লীহা-যকৃতের হিতকর। পাকা পেঁপে কোষ্ঠ পরিষ্কারক, বায়ুনাশক ও মূত্রকারক।     ১। রক্ত আমাশয়: প্রত্যহ সকালে কাঁচা পেঁপের আঠা ৫/৭ ফোঁটা ৫/৬ টি বাতাসার সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। ২/৩ দিন খাওয়ার পর রক্তপড়া কমতে থাকবে। ২। ক্রিমি: যে কোন প্রকারের ক্রিমি হলে, পেঁপের আঠা ১৫ ফোঁটা ও মধু ১চা চামচ একসঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। এরপর আধা ঘন্টা পরে উঞ্চ পানি আধ কাপ খেয়ে তারপরে ১ চামচ কলিচুনের পানি খেতে হয়। এভাবে ২ দিন খেলে ক্রিমির উপদ্রব কমে যাবে।   ৩। আমাশয়: আমাশয় ও পেটে যন্ত্রনা থাকলে কাঁচা পেঁপের আঠা ৩০ ফোঁটা ও ১ চামচ চুনের পানি মিশিয়ে তাতে একটু দুধ দিয়ে খেতে হবে। একবার খেলেই পেটের যন্ত্রনা কমে যাবে এবং আমাশয় কমে যাবে।   ৪। যকৃত বৃদ্ধিতে: এই অবস্থা হলে ৩০ ফোঁটা পেঁপের আঠাতে এক চামচ চিনি মিশিয়ে এক কাপ পানিতে ভালো করে নেড়ে মিশ্রণটি সারাদিনে ৩বার খেতে হবে। ৪/৫ দিনের পর থেকে যকৃতের বৃদ্ধিটা কমতে থাকবে, তবে ৫/৬ দিন খাওয়ার পর সপ্তাহে ২ দিন খাওয়াই ভালো। এভাবে ১ মাস খেলে ভাল ফল পাওয়া যাবে।   ৫। ক্ষুধা ও হজম শক্তিতে: প্রত্যেকদিন সকালে ২/৩ ফোঁটা পেঁপের আঠা পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে। এর দ্বারা ক্ষুধাও বেড়ে যাবে এবং হজমও ঠিকভাবে হবে।   ৬। পেট ফাঁপায়: কয়েক টুকরো পাকা পেঁপের শাঁষ, আর সামান্য লবন এবং একটু গোলমরিচের গুড়ো একসংগে মিশিয়ে খেতে হবে। এর দ্বারা পেট ফাঁপার উপশম হয়।   ৭। প্রবল জ্বরে: দেড় চামচ পেঁপে পাতার রস এক কাপ পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে। এর দ্বারা জ্বরের বেগ, বমি, মাথার যন্ত্রনা, শরীরে দাহ কমে যাবে। জ্বর কমে গেলে আর খাওয়ার প্রয়োজন নেই। ৮। মাসিক মাজুরতা(ঋতু বন্ধে): যাদের মাসিক ঋতু বন্ধ হওয়ার সময় হয়নি অথচ বন্ধ হয়ে গিয়েছে অথবা যেটুকু হয় তা না হওয়ারই মত, সেক্ষেত্রে ৫/৬ টি পাকা পেঁপের বিচি গুড়া করে রোজ সকালে ও বিকালে দু’বার পানিসহ খেতে হবে। এর ফলে কয়েকদিনের মধ্যেই মাসিক স্রাব ঠিক হয়ে যাবে, তবে অন্য কোন কারনে এটা বন্ধ হয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।   ৯। দাদে: সে যে কোনো প্রকারের হোক না কেন, কাঁচা পেঁপের/গাছের আঠা ঐ দাদে লাগিয়ে দিতে হবে, একদিন লাগিয়ে পরের দিন লাগাতে হবে না, এরপরের দিন আবার লাগাতে হবে, এইভাবে ৩/৪ দিন লাগালে দাদ মিলিয়ে যাবে।   ১০। একজিমায়: যে একজিমা শুকনা অথবা রস গড়ায় না, সেখানে ১ দিন অথবা ২ দিন অন্তর পেঁপের আঠা লাগালে ওটার চামড়া উঠতে উঠতে পাতলা হয়ে যায়।   ১১। উকুন হলে: ১ চামচ পেঁপের আঠা, তার সঙ্গে ৭/৮ চামচ পানি মিশিয়ে ফেটিয়ে নিতে হয়। তারপর ওই পানি চুলের গোড়ায় লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখার পর মাথা ধুয়ে ফেলতে হয়। এইভাবে একদিন অন্তর আর একদিন বা ২ দিন লাগালে উকুন মরে যায়। ১২। কোলেস্টেরল কমায়: অন্যান্য ফলের মতই পেঁপেতে কোনো কোলেস্টেরল নেই। আর পেঁপেতে আছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। তাই কোলেস্টেরলের সমস্যায় যারা দুশ্চিন্তায় আছেন তাঁরা প্রতিদিনের খাবার তালিকায় পেঁপে রাখুন। অন্যান্য কোলেস্টেরল যুক্ত খাবারের বদলে পেঁপে খান। তাহলে আপনার কোলেস্টেরলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিটা ক্যারোটিন, ফ্লেভানয়েড, লুটেইন, ক্রিপ্টোক্সান্থিন আছে। এছাড়াও আরো অনেক পুষ্টি উপাদান আছে যেগুলো শরীরের জন্য খুবই উপকারী। ক্যারোটিন ফুসফুস ও অন্যান্য ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে বয়সের ক্ষতির থেকে রক্ষা করে। ত্বকের হারানো সৌন্দর্য ফিরে পেতে: আমাদের ত্বক কোমল এবং উজ্জ্বল করতে পেঁপের জুড়ি নেই। এখানে একটি মাস্ক তৈরির পদ্ধতি বলা হল: আধা কাপ পাকা পেঁপে, ৪ টেবিল চামচ নারকেলের দুধ(ডাবের নরম অংশ), ১/৪ কাপ কর্নফ্লেক্স একটি পাত্রে নিয়ে চটকে নিয়ে মুখ, হাত এবং গলায় ৫ মিনিট স্ক্র্যাব করুন। পানি দিয়ে ধুয়ে মশ্চারাইজার লাগিযে নিন। আধা কাপ পাকা পেঁপে, ৪ টেবিল চামচ কমলার রস, ৪ টেবিল চামচ গজরের রস, ১ চা চামচ মধু একসঙ্গে মিলিয়ে ত্বকে মেখে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে নিন। নিয়মিত যত্নে আপনার ত্বক কোমল ও মশৃণ হবে। সব ধরনের ত্বকেই পেঁপের তৈরি মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।   রন্ধন সেসিপি: পেপে গাজর মিক্সড খির: উপাদান: >> দুধ ১ কেজি >> গুড়া দুধ ২ টেবিল চামচ >> গাজর দেড় কাপ >> পেঁপে ১ কাপ >> পোলাউএর চালের গুড়া ২ টেবিল চামচ >> চিনি ২৫০ গ্রাম >>দারুচিনি ২ টুকরা >> এলাচ ২ টি >> কিসমিস ও পেস্তা বাদাম পরিমাণ মতো প্রথমে গাজর ও পেঁপে গ্রেড করে বা কুচি করে কেটে পানি দিয়ে সেদ্ধ করে ছেকে নিন। তার পর তরল দুধ ও গুড়া দুধ ভালো করে মিশিয়ে জ্বাল দিন এর পর চিনি সব মসলা একসাথে দুধে ঢেলে ভালোভাবে জ্বাল দিয়ে দুধ ঘন হওয়া পর্যন্ত নারত থাকুন। এবার গাজর ও পেঁপে দিয়ে আবার কিছু ক্ষন জ্বাল দিন। সব শেষে চালের গুড়া পানিতে গুলিয়ে দুধে ঢেলে দিন। ঘন হয়ে জমাট বাধলে নামিয়ে কিসমিস ও সেস্তাবাদাম কুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করুন আপনা খির। পেঁপের শরবতের রেসিপি।   উপকরণ : পাকা পেঁপে ১টি মাঝারি সাইজের, পাকা খেঁজুর ২-৫টি, চিনি পরিমাণমত, দুধ পরিমাণ মত, পানি পরিমাণমতো।   প্রস্তুত প্রণালী : প্রথমে একটি বাটিতে দুধ ও চিনি ৫ মিনিট একসাথে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর অন্য একটি বাটিতে পাকা পেঁপে ছিলে ছোট ছোট টুকরো করে নিন। এরপর পাকা খেঁজুর কেটে ছোট ছোট টুকরো করে নিন একইভাবে। এরপর ভিজানো দুধচিনি এবং কাটা পেঁপে ও খেঁজুরের সঙ্গে অল্প পরিমাণ পানি ৫ মিনিটের মত সময় ধরে ব্লেন্ড করুন। ব্লেন্ডার থেকে নামিয়ে বরফ কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন পেঁপের শরবত।

1 টি মন্তব্য

  • বাংলা ব্লগ

    খবর: ‘ফলজ ও বনজ বৃক্ষের সাথে ঔষধি গাছ লাগান’ / ‘গাছ লাগান গাছের পরিচর্যা করুন’ সরকার যখন এমন সব শ্লে¬াগানকে সামনে রেখে সরকারী তহবিল থেকে মোটা অংকের টাকা বৃক্ষ রোপনের জন্য মানুষকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সভা সেমিনার বা বৃক্ষ মেলা করে জনগনকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করে, তখন তাদের ঘটা করা অনুষ্ঠান আনুষ্ঠানিকতার পূর্ণতা পেলেও মাঠ পর্যায়ে তার প্রভাব কতটুকু পড়ে তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করে না। যদি তাই করতো তাহলে আমাদের সবুজ সমারোহের বাংলাদেশ ‘বন খেকোদের’ ছোবলে সাবাঢ় হতো না। হারিয়ে যেতো না ফলজ, বনজ, ঔষধি সহ বিভিন্ন জাতের লতা গুল্ম। এ ভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন উপজেলার ডুবাইল গ্রামের সফল চাষী আলহাজ্ব ডাঃ আবুল হাসেম, তিনি বলেন-‘উত্তর টাঙ্গাইলের গোপালপুর, ঘাটাইল, মধুপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিগত দেড় যুগে প্রায় ৪০ প্রজাতির ঔষধি গাছ ও লতা গুল্ম হারিয়ে গেছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি চলতে থাকলে অবশিষ্ট ঔষধি গাছ গুলো সমূলে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। যার ফলশ্র“তিতে টাঙ্গাইলের মধুপুর-ঘাটাইলের বনাঞ্চল সহ আশ-পাশের এলাকা থেকে নিশ্চিহৃ হয়ে যাবে বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য ভেষজ ঔষধি গাছ। মধুপুরের গড়াঞ্চল ও ঘাটাইলের বনাঞ্চলে সরজমিনে ঘুরে জানা যায়, এসব অঞ্চলে এক সময় লজ্জাবতী, দেশী নিম, তমাল গাছ, ফুলগুরি, আমলকি, অর্জুন, বহেড়া, হরতকি, পিপুল, বানরলাঠি, চান্দার মূল, সর্পগন্দা, গোক্ষর কাটা, ভূই কুমড়া, সোনাপাতা, রাখাল শসা, যঞ্জ ঢুমুর, যষ্ঠি মধু, বচ, সিটকি গোটা, আনুই গোটা, একাঙ্গি, মৌডাল, কদবেল, শতমূল, তেজবল, অশোক, তোকমা, ইছুবগুল, যকৃত, চাল মুগড়া, কালো মেঘ, তেলা কোচা, ছাতিমসহ প্রায় ৬০ প্রজাতির ঔষধি গাছ ও লতা গুল্ম পাওয়া যেতো। সত্তোর দশকের শেষের দিকে ঘাটাইল বনাঞ্চলে ব্যাপক হারে লুটপাট শুরু হয়। একদিকে অবৈধ ভাবে বন উজার অন্য দিকে বনভূমি বে-দখলের ফলে এ অঞ্চলের ঔষদি গাছ বিলুপ্ত হতে থাকে। ফলে শাল বনের ফাকে ফাকে ঔষদি গাছ এবং বিচিত্র ধরনের লতা গুল্মের ঝোপ এখন আর পথচারীদের নজরে পরে না। স্থানীয় ভেষজ চিকিৎসকদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, ১৯৮৫-৮৬ সালের পর এ বনাঞ্চলে পিপুল, বানর লাঠি এবং গুলঞ্চ লতা কখনো চোখে পড়েনি তাদের। তবে একটা সময় ছিল যখন সারা দিন বনের ভিতর ঘুরলে যে ঔষধি গাছ পাওয়া যেতো তার বর্তমান বাজার মূল্য ছিল প্রায় তিন-চার হাজার টাকা। তবে সে সময় প্রায় ৬০ প্রজাতির ঔষধি ও লতা গুল্ম ছিল। বর্তমানে সারা দিন খোজা খুজি করলে ১০-১৫ প্রজাতির ঔষধি গাছ পাওয়া কঠিন ব্যাপার। এলাকার কবিরাজ হিসেবে খ্যাত চারিয়া বাইদ গ্রামের ভেষজ চিকিৎসক সুরিন্দ্র চন্দ্র বর্মনের দাবি, তিনি এ বনাঞ্চলের ঔষদি গাছের উপর অর্জন করে ছিলেন গভীর ঔষধি জ্ঞান। কিন্তু বর্তমানে প্রয়োজনীয় গাছ পাওয়া যায় না তাই সে জ্ঞান এখন অর্থহীন হয়ে গেছে। গাছই তাদের জীবন-জীবিকা। গাছ নেই জীবিকাও কমে গেছে। কামালপুর গ্রামের সিকান্দর আলী জানান, খুব বেশি প্রয়োজন না হলে তিনি ডাক্তারের কাছে শরানাপন্ন হতেন না। এখন ঔষধি গাছ না থাকায় ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। তার মতে নির্বিচারে বন উজার ও বিদেশী গাছের উপর গুরুত্ব দেওয়ায় ঔষধি গাছ ধ্বংসের কারন। জানা যায়, ৯০ দশকের প্রথম দিকে এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক’র আর্থিক সহযোগীতায় এ বনাঞ্চলে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে কৃত্রিম বন (আকাশী বন) সৃষ্টি করা হয়। বিদেশী ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছ লাগিয়ে কৃত্রিম বন সৃষ্টির ফলে এসব গাছের নিচে কিংবা আশে পাশে ঔষধি গাছ ও লতা গুল্ম গজায় না। ফলে এসব লাগিয়ে কৃত্রিম বন সৃষ্টির ফলে এ অঞ্চলে ঔষধি গাছ হারিয়ে যাচ্ছে। উত্তর টাঙ্গাইলের বিস্তৃত এলাকা জুড়ে বনাঞ্চলের শালবনে (গজারী বনে) এক সময় যে বিচিত্র প্রজাতির গুল্মলতা শোভা পেতো তা এ অঞ্চলের বয়োবৃদ্ধদের কাছে শুধুই স্মৃতি, নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাপ্নিক। তাই স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানের দিন বদলের ডিজিটাল সরকার বিদেশী বৃক্ষ রোপনের পারির্বতে পরিবেশ বান্ধব বৃক্ষ রোপন করে উত্তর টাঙ্গাইলের গড়, বনাঞ্চল সমতল ভূমিতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগিয়ে অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগী হবে এটাই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।