সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

আবিষ্কার

বাসক এর গুন!

বাসক এর গুন!

বাসক একটি ভারত উপমহাদেশীয় ভেষজ উদ্ভিদ।

বৈজ্ঞানিক নাম: আড়াটোডা বাসিকা।

ভারত উপমহাদেশের প্রায় সর্বত্র এটি জন্মে।

হিন্দীতে এক বলা হয় ‘আডুসা’, ‘বানসা’ অথবা ‘ভাসিকা’। তবে সংস্কৃত নামের ভিত্তিতে এটির ব্যবসায়িক নাম “বাসক”। বাসক অর্থ সুগন্ধকারক। বাসকের আরেক নাম ‘বসায়।

কোথায় জন্মে: আর্দ্র, সমতলভূমিতে এটি বেশী জন্মে। লোকালয়ের কাছেই জন্মে বেশী।

বাসকের বর্ণনা: হালকা হলুদে রংয়ের ডালপালায়ক্ত ১ থেকে ২ মি. উঁচু গাছ, ঋতুভেদে সর্ব্বদাই প্রায় সবুজ থাকে। বল্লমাকারের পাতা বেশ বড়। গাছটি লম্বায় ১-১৫ মিটার (৩-৫ ফুট) পযর্ন্ত হয়। কচি অবস্থায় গাছের গোড়া সবুজ হলেও পরিণত অবস্থায় হাল্কা বেগুনী রঙের মত দেখায়। পাতাগুলি লম্বায় ৫-১২ সেন্টিমিটারের মত হয়। ফুল ঘন, ছোট স্পাইকের ওপর ফোটে। স্পাইকের বৃন্ত পাতার চেয়ে ছোট। স্পাইকের ওপর পাতার আকারে উপপত্র থাকে যার গায়ে ঘন এবং মোটা শিরা থাকে। ফুলের দল (কোরোল্লা বা পত্রমূলাবর্ত) সাদা বর্ণ। তার ওপর বেগুনী দাগ থাকে। ফল সুপারি আকৃতির; বীজে ভর্তি।

ব্যবহার্য অংশ: - মূল, পাতা, ফুল, ছাল।

উপকারিতা:  আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বাসকের গুনাগুণ অপরিসীম। সর্দি-কাশির মহা ঔষধ বাসক, একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ উদ্ভিদ।

  •  বাসক পাতার রস ১-২ চামচ হাফ থেকে এক চামচ মধুসহ খেলে শিশুদের সদির্কাশি উপকার পাওয়া যায়।
  • বাসক পাতার রস গোছলের আধা ঘন্টা আগে মাথায় কয়েকদিন মাখলে উকুন মরে যায়।
  • আমবাত ও ব্রণশোথে (ফোঁড়ার প্রাথমিক অবস্থা) বাসক পাতা বেটে প্রলেপ দিলে ফোলা ও ব্যথা কমে যায়।
  • যদি বুকে কফ জমে থাকে এবং তার জন্যে শ্বাসকষ্ট হলে বা কাশি হলে বাসক পাতার রস ১-২ চামচ এবং কন্টিকারীরস ১-২ চামচ, ১ চামচ মধুসহ খেলে কফ সহজে বেরিয়ে আসে।
  • ছোট ইস্তেন্জায় জ্বালা-যন্ত্রনা থাকলে বাসকের ফুল বেটে ২-৩ চামচ মিছরি ১-২ চামচ সরবত করে খেলে এই রোগে উপকার পাওয়া যায়।
  • জ্বর হলে বা অল্প জ্বর থাকলে বাসকের মূল ৫-১০ গ্রাম ধুয়ে থেঁতো করে ১০০ মিলি লিটার পানি ফোটাতে হবে। এবং ২৫ মিলি লিটার পর্যন্ত থাকতে নামিয়ে তা ছেঁকে নিয়ে দিনে ২ বার করে খেলে জ্বর এবং কাশি দুইই চলে যায়।
  • বাসকের কচিপাতা ১০-১২ টি এক টুকরো হলুদ একসঙ্গে বেটে দাউদ বা চুলকানিতে লাগালে কয়েকদিনের মধ্যে তা সেরে যায়।
  • বাসকপাতা বা ফুলের রস ১-২ চামচ মধু বা চিনি ১চামচসহ প্রতিদিন খেলে জন্ডিস রেগে উপকার পাওয়া যায়।
  • পাইরিয়া বা দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়লে বাসক পাতা ২০ টি থেঁতো করে ২ কাপ পনিতে সিদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে তাদিযে কুলি করলে এই রোগে উপকার পাওয়া যায়।

অন্যান্য উপকারিতা:

বাসকের পাতা সবুজ খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং পাতা থেকে হলদে রং পাওয়া যায়। বাসক পাতায় এমন কিছু ক্ষারীয় পদার্থ আছে যায় ফলে ছত্রাক জন্মায় না এবং পোকামাকড় ধরে না বলে ফল প্যাকিং এবং সংরক্ষণ করার কাজে ব্যবহৃত হয়। পাতায় কিছু দুর্গন্ধ আছে বলে পগুরা মুখ দেয় না। সেই কারণে চাষ আবাদের জন্য জমি উদ্ধারের কাজে বাসকের পাতা বিশেষ উপকারী।

কি ভাবে চাষ করা যায়:

বাগানের চারপাশে বেড়ার মত কিংবা রাস্তার ধারে ধারে বড় গাছের নীচে বাসক গাছকে জন্মাতে দেখা যায়। প্রধানতঃ উঁচু জমিতে যেখানে অন্য ফসলের চাষ প্রায় অসম্ভব এবং যেখানে গাছের গোড়ায় পানি জমবে না এমন জমিতে বাসক গাছের চাষ ভাল হয়। সাধারণতঃ কাটিং থেকেই এই গাছের বংশ বৃদ্ধি হয়। পরিণত গাছ থেকে কাটিং এমনভাবে কাটতে হবে যাতে প্রতিটি কাটিং- এ অন্ততঃ একটি করে গাঁট থাকে। গাঁট যুক্ত কাটিং ভেজা বালিতে পুঁতলে ১৫ দিনের মধ্যে গাঁট অংশ থেকে মূল বের হবে। প্রতিদিন অল্প অল্প করে পানি দিয়ে বালি ভিজিয়ে রাখলে একমাসের মধ্যে চারা তৈরী হয়ে যাবে।

[caption id="" align="alignleft" width="220"] বাসক পাতা[/caption]

9 টি মন্তব্য

  • chader alo

    গুরুত্বপুর্ণ একটা তত্ত। শুখরিয়া :rose:
  • বাংলা ব্লগ

    কষ্ট করে লিখাটি পড়ার জন্য আপনাকেউ :rose:
  • গোলামে মাদানী আক্বা

    priyote nilam
  • বাংলা ব্লগ

    আপনাকে অশেষ শুকরিয়া!!!
  • বাংলা ব্লগ

    অম্লপিত্ত , কৃমি, রক্তশ্রুতি শ্বাসকষ্ট , গাত্র দুর্গন্ধ , খোস পাঁচড়া ,অর্শ , বসন্ত , টিউমার , এবং জীবাণুনাশে এমনকি গায়ের রং ফর্সা করণেও বাসক পাতার ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে ।


    বিশেষ করে ফুসফুস সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগে –এর ব্যবহার সার্বজনীন ।
  • গোলামে মাদানী আক্বা

    basok pata amar onek proyojon.kothai pabo?
  • gmakas

    আপনি মিরপুর জাতিয় উদ্যানে পাবেন
  • gmakas

    খুব উপকারি পোস্ট
  • বাংলা ব্লগ

    শুকরিয়া!!

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।