বিসমিল্লাহীর রহমানির রহিম
বিশ্বাস
নাজিম স্যার হল নেটওয়াকিং কোম্পানির একজন এম.ডি। সরকারি নিয়ম অনুয়াযি প্রত্যেক নেটওয়াকিং কোম্পানিকে ছাত্রদে ট্রেনিং করাতে হবে ।তাই প্রতি বছর তার কোম্পানিতে ছাত্ররা আসে । এই বছর ও ১০জন ছাত্র আসল ট্রেনিং করতে ।তাদের মধ্যে ৪জন মেয়ে এবং ৬জন ছেলে । সেখানে রিতি নামে একটি মেয়ে ছিল সকলের আলোচনার পাত্র । কারণ সে তার ৩বছর এর প্রেমিক আকাশকে বাদ দিয়ে মিনস নামের একটি ছেলের সাথে তার বিয়ে হয় । কিন্তু আকাশ তা মেনে নিতে পারেনি তাই সে কষ্টে দিন কাটে । একদিন ক্লাস এর সময় আকাশ আসলে তা স্যার এর কানে যায় ।এরপর ঈদ এর ছুটি হয় । ঈদ এর ছুটির পর যখন সবায় ক্লাসে পিরে ক্লাস এর মাঝকানে আকাশ এর কথা উঠলে স্যার সবাযকে বলে আল্লাহতায়ালা কপালে য়া কে লিখে দিছে তার সাথে ত বিয়ে হবে, তখন একটি মেয়ে বলে যদি কেউ তা কেটে পেলে ইচ্ছা কর্ । স্যার –তা সম্ভব নয় । এরপর স্যর সকলে ছাত্রকে শুনাতে লাগলেন তার এক জন প্রিয় বন্ধু কিভাবে বিয়ে করলেন........ চট্টগ্রাম জেলার রূপসি গ্রামের অধিবাসি মিনহাজ । তারপূর্ব পুরুষগন জমিদার ছিলেন । তাছাড়া তার পরিবার এর সকল সদস্য ছিল শিক্ষিত । তাই তাদের পিরিবারে সুনাম ছিল পুরু গ্রাম জুড়ে ।তাছাড়া তারা চরিত্রবান ছিলেন ও অন্য উপকার করতেন সব সময় । মিনহাজ ডিগ্রি পরিক্ষার পর স্থানীয় একটি স্কুলে গনিতের শিক্ষক হিসাবে শিকক্ষতা শুরু করেন । শিকক্ষতার পশাপাশি সে প্রাইভেট পড়াতে স্কুল ছাত্র ছাত্রীদের । একটি ব্যাচ এ ছাত্র ছাত্রী তাকত ১৫ থেকে ২০ জন । সেই রখম একটি ব্যাচ এস.এস.সি পরিক্ষা সমাপ্ত করে । সেই ব্যাচ এ ২০ জন ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে থেকে ১৮ জন ছাত্র ছাত্রী উত্তীণ র্হয় । উত্তীণ র্ছাত্র ছাত্রীগন সকলে তাদের প্রিয় শিকক্ষ মিনহাজ স্যার এর কাজ থেকে বিদায় ও দোয়া নিতে আসে শুধু ০২ জন মেয়ে ছাড়া । সকলে স্যার এর কাজ থেকে বিদায় নিয়ে য়ার য়ার বাড়ি চলে গেল । এরপর দিন মেয়ে ২ টি আসল স্যার এর কাছে কিন্তু স্যার তখন বাসায় ছিলেন না । তারা স্যার কে না পেয়ে স্যার এর মা বাবা কে সালাম করে । স্যার এর মা মেয়ে ২টির দিখে তাকিয়ে বলেন মেয়ে ২টি থেকে একটি কে আমার ছেলে বউ হত । তখন স্যার এর বাবা সবচেয়ে সু্ন্দর মেয়েটিকে দেখিয়ে বলে একে আমার ছেলের বউ বানাব । স্যার এর মা বাবা কথা মেয়ে দুটি শুনে ছিল । সেখান থেকে বাকি মেয়েটি বাড়িতে গিয়ে সবায় কে বলে দিল মিনহাজ স্যার রিয়াকে পছন্দ করেছেন ।এই কথা দ্রুত চার দিকে ছড়িয়ে পড়ল । মিনহাজ লজ্জায় এখন আর আগের মত বাড়ি থেকে বের হয় না। রিয়া ছিল প্রবাসি বাবার এক মাত্র মেয়ে । তবে রিয়ার বতর্মান বাবা মা তার আসল বাবা মা নয় । তার জন্ম দাতা মা বাবা হল তার চাচা চাচী। রিয়া জন্মগ্রহন করার পর তার মা মরণ ব্যাদি রোগে আক্যান্ত হয়। তার পক্ষে এই নবজাত শিশুকে লালন পালন করা সম্ভব ছিল না । অন্য দিকে রিয়ার পালক মা বাবার কোন সন্তান নেই, তাই রিয়াকে তাদের সন্তানের মত করে মানুষ করে। রিয়া যখন ক্লাস ফোর এ তখন তার বাবা বন্ধুর ছেলের সাথে রিয়ার বিয়ে টিক করে রাখে। রিয়া ও তা জানতে পারে, তাছাড়া রিয়া ও মিনার ছিল তার ছোট বেলার বন্ধু । এক সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। রিয়া ধার্মিক ছিলেন , ইসলামের সকল বিষয় সে গভীর ভাবে পালন করেন। মিনহাজ স্যার যে রিয়াকে পছন্দ করে তা রিয়ার মা বাবার কানে গেল, এতে রিয়ার মা বাবা রিয়ার উপর বিষরন রাগকরে এবং তাকে জবাই করার হুমকি দেন । রিয়ার সাথে মিনার এর সম্পর্ক এখন ২০ বছর । কিন্তু তাদের মধ্যে অন্য কোন রকম সম্পর্ক গড়ে উঠেনি । মায়ের বকা শুনে রিয়া মিনার এর কাছে যায় । তখন মিনার রিয়ার শরীরে হাত দিতে চাইলে রিয়া মিনার এর সাথে রাগ করে বাড়িতে পিরে আসে । এরপর রিয়া মিনহাজ স্যার এর বড়িতে গিয়ে তার মা বাবা কে হাত করে । তখন মিনার রিয়ার বাড়িতে আসে সে বিদেশ চলে যাবে তাই । অন্যদিকে মিনহাজ তার মা বাবার কথায় রিয়াকে বিয়ে করতে রাজি হয় । তারপর মিনহজ রিয়ার বাসায় যায় । তখন রিয়া ফোনে মিনারের সাথে কথা বলে তা মিনহাজ শুনতে পাই ও তাদের বাসার এক ঘাদা সমস্যা সম্পর্কে জানতে পারে । মিনহাজ চলে আসার পর তার মোবাইল এ রিয়ার ফোন আসে । রিয়া য়ে মিনার এর সাথে কথা বলে তা অস্বিকার করে। মিনহাজ বলে আমি ত এই মাত্র শুনে আসলাম কিন্তু সে রিয়ার সাথে তর্ক করল না । রিয়া এক ঢিলে ২টি দিক ঠিক করে রাখে । কিন্তু রিয়া ছিল সুন্দরের পাগল তাই সে মিনহাজ স্যার এর চেয়ে মিনার কে বেশি পছন্দ করত । রিয়ার পালক মা বাবা কোন রকমে রিয়াকে মিনহাজ সাথে বিয়ে দিবেন না । কিন্তু রিয়ার আসল মা বাবা চায় তাদের মেয়ে রিয়াকে মিনহাজ এর সাথে বিয়ে দিতে ।রিয়ার বিয়ে নিয়ে তাদের ২পরিবার এর মধ্যে ঝগড়া লেগে রইল । তাদের পরিবারের এই অবস্থা দেখে মিনহাজ রিয়ার ফুফুর কাছে যায় এবং ফুফুকে রাজি করে । ফুফুকে রাজি করার পর রিয়াবর নানা নানীকে রাজি করাল । এভাবে রিয়ার সকল আত্তীয় স্বজনকে রাজি করাল রিয়া ও মিনহাজের বিয়ের সম্পর্কে ।রিয়ার সকল চাচা চাচীকে রাজি করালেন রিয়ার ফুফু । রিয়ার পালক বাবা ছাড়া সবাই রাজি তাকায় মিনহাজ ও রিয়ার মধ্যে আকদ্দ হয়ে গেল । তাদের মধ্যে আকদ্দ হলে ও মিনহাজ রিয়াকে তার বাড়িতে তুলতে পারলনা ।এভাবে অনেক দিন চলার পর মিনহাজের বাড়ি থেকে মিনহাজ কে চাপ সৃষ্টি করে রিয়াকে আনুষ্টানিক ভাবে বাড়িতে আনার জন্য কিন্তু মিনহাজের কোন উপায় ছিলনা য়ে রিয়াকে তার বাড়িতে তুলবে । এর মধ্যে মিনহাজের ছোট ভাই বিয়ে করে বউ নিয়ে এল বাড়িতে । এর মধ্যে বিদেশে মিনারের বাবা রিয়ার পালক বাবার সাথে লেনদেনে টাকা আত্তসাত করেন । এরপলে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ভাঁটা পড়ে । এই ঘটানা পর সে মিনহাজ ও রিয়ার বিয়েতে রাজি হয় । সুতরাং ৩বছর পর মিনহাজ রিয়াকে তার বাড়ি তুলতে পারল । মিনহাজ তার সততা ও ধৈর্য়্য দিয়ে সকলের মন জয় করেন । মিনহাজ এখন তাদের পরিবারের একজন আদরের ব্যক্তি । নাজিম স্যার কথা শুনে তার সামনে উপস্তিত ছাত্রদের মধ্যে অনেক ছাত্রের চোখে পানি চলে আসে । এরপর নাজিম স্যার সকল ছাত্রকে উপদেশদেন :- জীবনে বড় হতে হলে আল্লাহতায়ার উপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখতে হবে । আজ যদি রিয়া মিনার কে বিশ্বাস করত আর মিনার ও যদি রিয়ার উপর বিশ্বাস করত তাহলে তাদের ২৪বছর এর সম্পর্ক শুদু মাত্র ৩বছর সম্পর্কের কাছে হার মানতনা ।মিনহাজের ৩বছর সম্পর্ক সফল হওয়ার পিছনে ছিল প্রবল বিশ্বাস । য়ারা আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখে তারা সফল কাম । আর য়ারা আল্লাহর উপর বিশ্বাস করে না নিজেদের মন গড়া কিছু করতে চাই তারা অনেকটা সফল হতে পারে না, কারন অাল্লাহ য়া জানেন তা আমরা জানিনা । এর মধ্যে ক্লাসের সময় শেষ স্যার সবাইকে ছুটি দিয়েদে । কিন্তু ছাত্ররা স্যারের কথা বুকের মধ্যে গেতেনে ও সেই ভাবে চলার জন্য চেষ্টা করবে বলে ইচ্ছা পূশন করে । *** সমাপ্ত ***
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।