সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

বিভাগবিহীন

মিথ্যা

মিথ্যা মানবিক দোষাবলীর মধে প্রধানতম । সবাই বিষয়টি জানার পরও মানব সমাজে এর চর্চা অবারিত। অন্য দেশের কথা তেমন জানিনা, তবে আমাদের দেশে এটি ভয়াবহ মানবিক ব্যাধি রুপে বিরাজমান । জেনে বুঝে অথবা না জেনে না বুঝে যত্র তত্র এটি আমরা প্রয়োগ করে থাকি । কালক্রমে মিথ্যা আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে যাবে কিনা কে জানে ! সেদিন এক মাছ ব্যবসায়ী মাথায় টুকরিতে করে দু হালি ইলিশ মাছ নিয়ে মহল্লায় এসেছে। দাম চাইল ৪৮০০টাকা । একজন ১৮০০ টাকা দাম দিতে চাইলো । মাছওয়ালা এইদামে মাছ দিতে অপারগতা জানালো, বললো, ওগুলোর কেনা দামই ৩০০০ টাকা । অবশেষে বেশখানিকটা বাতচিতের পর সে ওগুলো ২০০০টাকায় দিয়ে দিল । তাহলে তার লোকসান হল ১০০০টাকা । সত্যি কি তাই ? এই একইরকম ঘটনা সেই মাছ ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে আরও কবার দেখেছি । দু একটি ব্রান্ডেড আইটেমের দোকান ছাড়া অন্যসবখানে একই অবস্থা । বিক্রেতা প্রকৃত মূল্যের কয়েকগুণ বেশি দাম হাকায় । ঘাঘু ক্রেতা ছাড়া বাকীরা ঠকেই চলেছে । ঠকানোর চেষ্টা আর মিথ্যা কি ব্যবসার অবিচ্ছেদ্য কৌশল হয়ে দাঁড়াল ? পণ্যের মানের ক্ষেত্রেও প্রায় একই অবস্থা । নিম্ন, মধ্য ও ভালো মানের সব পণ্যের বেলায়ই আশাপ্রদ শ্রুতিমধুর বিশেষণের অভাব নেই দোকানির মুখে । আর যে দোকানে আপনি কস্নিন কালেও যান নি, সেখানেও দোকানি আপনাকে বলবে, স্যার, আপনি আমাদের পরনো কাষ্টমার। এবার আসুন, শিক্ষার ক্ষেত্রে কি ঘটছে? ক্লাশ নাইনে রেজিষ্ট্রেশনের সময় কজন সঠিক জন্ম তারিখ লেখায়? এর জবাব হবে শতকরা ভগ্নাংশেরও নিম্নক্রমে। এতো গেল কাগজে কলমে। মুখে মুখে কি? কোন্ মা তার নিজের, সন্তানের, স্বামীর সঠিক বয়স বলে? স্বামীর বাড়িতে বাপের বাড়ির কথা আর বাপের বাড়িতে স্বামীর বাড়ীর কথা কত গুন বাড়িয়ে বলে থাকে? পুরুষরাও কিন্তু কম যায়না। তবে মহিলাদের সুযোগ বেশি। ছেলে মেয়েদেরতো মায়েরাই স্কুল আর কোচিং সেন্টারে আনা নেয়া করে থাকে এবং গেটে বা আশে পাশে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষাও করতে হয়। ফলে মেয়ের চেয়ে মায়ের বান্ধবীর সংখ্যাই বেশি হয়। তাছারা মাকেতো উপর ক্লাশের মেয়েদের মায়ের সাথেও সখ্য করতে হয় সাজেশনের জন্য। মায়েদের আলাপ চারিতায় দেখা যায় সব মায়ের মেয়েরাই একদম পড়তে চায়না। অথচ অনেকেই শতকরা ৮০-৯০ নম্বর পাচ্ছে। মায়ের বক্তব্য কি তাহলে মিথ্যা মিশ্রিত অতিরন্জন নয়? যে দামে ব্যবহারের বা সৌখিন কোন জিনিস কেনা হয়, কেও দাম জানতে চাইলে অনেকেই বাড়িয়ে বলে থাকে। যে দাম বলে সে ভাবে সঠিক দাম বললে প্রশ্নকর্তা জিনিসটির মূল্য কম বুঝে নিবে, তাই সে বেশি বলে। ওদিকে প্রশ্নকর্তাও যে দাম শুনল তার চেয়ে আসল দাম কমই ধরে নেয়। এ এক অদ্ভূত মিথ্যা মিথ্যা খেলা। দেখা যাচ্ছে বেশির ভাগ নিতান্তই অকারনে মিথ্যা বলা আমরা অভ্যাসে পরিনত করে ফেলছি। এর থেকে ধীরে ধীরে নিশ্চয়ই আমরা বের হয়ে আসার চেষ্টা করব। মহানবী হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একটি্ হাদিস বিশেষ ভাবে স্মর্তব্য, সত্য মানুষকে মুক্তি দেয় আর মিথ্যা মানুষকে ধ্বংস করে।

1 টি মন্তব্য

  • তাজদীদ

    ইসলাম যেকাজে হারাম বা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন তা অবশ্যই ক্ষতিকর, ধ্বংশযজ্ঞ। সেটা শারীরিক, মানসিক, রুহানী, ঈমানী যেকোন ভাবেই হতে পারে। মিথ্যা বলা মহাপাপ। ফিকির করলে এর কারণ লক্ষকোটি বের হতে পারে।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।