পবিত্র মি’রাজুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লক্ষ-কোটি মুবারক শানসমূহের অন্যতম একটি মুবারক শান ।
***********************************************************************************************************************************************
মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রথম যেটা বলেছেন سبحان الذى اسرى সেই মহান আল্লাহ পাক তিনি রাত্রিতে পরিভ্রমণ করিয়েছেন। بعبده এখানে عبد শব্দের একাধিক ব্যাখ্যা রয়েছে- এখানে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে যখন আসবে তখন এর ব্যাখ্যা হবে- بحبيبه অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার যিনি রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ভ্রমণ করিয়েছেন।
ليلا من المسجد الحرام الى المسجد الاقصى
এখানে ليلا বলতে সামান্য অনির্দিষ্ট সময় বলা হয়েছে। আসলে পবিত্র মি’রাজ শরীফ-এ কিন্তু কোনো সময়ই ব্যয় হয়নি। এটা বান্দাদেরকে বুঝানোর জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, রাত্রের সামান্য সময়। অর্থাৎ রাত্রিতে ভ্রমণ করানো হয়েছে এতে কোনো সময় ব্যয় হয়নি
من المسجد الحرام الى المسجد الاقصى
পবিত্র কা’বা শরীফ থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ পর্যন্ত।الذى بركنا حوله যার আশপাশ হচ্ছে বরকতময়। এটা হচ্ছে اسرى পরিভ্রমণের বর্ণনা। এরপর মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, لنريه من اياتنا এটা হচ্ছে পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার বর্ণনা, যে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিদর্শন মুবারকসমূহ দেখানোর জন্য। এখন নিদর্শন মুবারক কী? এখানে اياتنا এটা যদিও বহু বচন ব্যবহার হয়েছে। নিদর্শনসমূহ্ এখানে একাধিক ব্যাখ্যা রয়েছে। যিনি খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার শানে পবিত্র কুরআন শরীফ-এ অনেক জায়গায় বহুবচন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে সম্মানসূচক। এটা অন্যান্য ভাষায়ও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন বলেন- نحن اقربه اليه من حبل الوريد অর্থাৎ আমি মানুষের প্রাণ রগের চেয়েও নিকটবর্তী। এখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি বহুবচন ব্যবহার করেছেন সম্মানার্থে। لنريه من اياتنا অর্থাৎ আমার নিদর্শন অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাৎ মুবারক দেয়ার জন্য উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিয়ে গিয়েছেন, সাক্ষাৎ মুবারক দিয়েছেন। انه هو السميع البصير মহান আল্লাহ পাক তিনি শ্রবণকারী এবং দর্শক। সাথে সাথে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বায়িম-মাক্বাম হওয়ার কারণে তিনিও শ্রবণকারী ও দর্শক। তিনি সব কিছু শুনেছেন মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট থেকে। সাক্ষাৎ মুবারক করেছেন, দেখা করেছেন। দীদারে মাওলা হয়েছে এবং প্রত্যাবর্তন করেছেন। এ বিষয়টি এখানে বলা হয়েছে। যদিও অনেকে বলে থাকে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে সরাসরি পবিত্র মি’রাজ শরীফ তথা পবিত্র বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ থেকে দীদার মুবারক লাভ প্রত্যাবর্তনের দলীল নেই। এ কথাটি সঠিক ও শুদ্ধ নয়। এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে। প্রায় ৪৫ জন ছাহাবী সেটা বর্ণনা করেছেন। কাজেই পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস করতে হবে। আরো বিষয় হচ্ছে পবিত্র মি’রাজ শরীফ-এ যাওয়ার পরে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক যিনি খালিক্ব মালিক রব তিনি উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার উম্মতের জন্য পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায থেকে কমিয়ে ৫ ওয়াক্ত নামায হাদিয়া করেছেন। এখন এই নামায কিন্তু পবিত্র মি’রাজ শরীফ থেকেই আমরা পেয়েছি। মহান আল্লাহ পাক তিনি দিয়েছেন তখন পরবর্তীতে সেটা অস্বীকার করলে যদি বিদয়াতী হয়। তাহলে নামাযটা কী সে বাদ দিয়ে দিবে। নাঊযুবিল্লাহ!
অর্থাৎ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এবং প্রত্যাবর্তন সবটাই বিশ্বাস করা ফরয। এই বিষয় যদি কেউ অস্বীকার করে সে কাট্টা কাফির, সে চির জাহান্নামী হবে। সেটাই আক্বাইদের কিতাবে বর্ণিত রয়েছে المعراج حق পবিত্র মি’রাজ শরীফ হচ্ছে সত্য। এটা বিশ্বাস করতেই হবে। কেননা স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এই শান, মান, খুছুছিয়াত, বৈশিষ্ট্য, ফযীলত মুবারক হাদিয়া দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।