মৃত্যুদন্ডঃ

বর্তমান বিশ্বে মৃত্যু দন্ড একটি বহুল আলোচিত বিষয়।অনেক দেশই এই শাস্তি রোহিত করার পক্ষে মত দিয়েছে।আবার অনেক দেশ এই ধরনের শাস্তির বিধান রেখে আইন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।
যাই হোক, এর পক্ষে-বিপক্ষে উভয়ের ই জোরাল যুক্তি আছে।আমাকে যদি যে কোন একটি মত গ্রহন করতে বলা হয় তাহলে আমি মৃত্যু দন্ডে্র পক্ষে মত দিব।নিশ্চই এর পেছনে আমার কিছু নিজস্ব যুক্তি আছে।এবার মুল কথায় আসি……
মানুষ মাত্রই অপরাধ প্রবণ।প্রত্যেক মানুষের মাঝেই অপরাধ করার সুপ্ত বাসনা থাকে।তাই বলে আবার এই নয় যে সব মানুষ ই সারাক্ষন শুধু কু-চিন্তা নিয়ে ঘুরাঘুরি করে।আসলে মানুষের মনের মধ্যে একটা বিশেষ শক্তি(শয়তান) আছে যা মানুষ কে প্রতিনিয়ত অন্যায় কাজ করতে প্রলুব্ধ করে।আবার আরেকটি শক্তি(ফেরেশ্তা) আছে যা মানুষ কে ভাল কাজের প্রতি প্রলুব্ধ করে।কোন মানুষ যদি ভাল কাজের প্রতি আগ্রহি হয় তাহলে মন্দ কাজ থেকে সে দূরে থাকতে পারে।অথাৎ ভাল কাজের অনুশীলন করলে মন্দ কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যায়।আবার কেউ যদি মন্দ কাজের অনুশীলন করতে থাকে তাহলে তার ভাল কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যায়।প্রথমে ছোট-খাটো খারাপ কাজ দিয়ে শুরু হয়।এরপর যত দিন যেতে থাকে ততই সে দুরন্ত হয়ে উঠে।পরে এমন একটা সময় আসে যখন সে বড় রকমের অন্যায় করতে আর ভয় পায় না।তখন সে সমাজ ও দেশের জন্য ত্রাসে পরিনত হয়।যা সুস্থ সামাজিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি স্বরুপ।তখন তাকে নিয়ন্ত্রন করা জরুরি হয়ে পড়ে।সমাজ থেকে অপরাধ-বিশৃংখলা দূর করার জন্যে আইন করা হয়।অন্যায়ের ধরনের উপর নির্ভর করে শাস্তির মাত্রা ও বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। অন্যায় যদি এমন হয় যার কারনে দেশ ও জাতির অকল্যাণ সাধিত হয় অথবা কেউ যদি এমন কোন অন্যায় করে যা মানবতা বিরোধি অর্থাৎ হত্যা,ধর্ষণ,এসিড নিক্ষেপ ইত্যাদি জঘন্য রকমের মানবতা বিরোধি অপরাধ করে তাহলে এই রকমের অন্যায়ের জন্য উপযুক্ত শাস্তির বিধান থাকা জরুরি।কিন্তু প্রশ্ন হল বিশেষ কি কি কারনে মৃত্যুদন্ড কে প্রাধান্য দিয়ে শাস্তির বিধান রাখতে হবে?যদিও কারন অনেক গুলো কিন্তু সবগুল কারন নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করা এখানে সম্ভব নয়।অল্প কিছু কারন নিচে আলোচনা করা হলঃ
১।সামাজিক শৃংখলা রক্ষাঃ
সামাজিক শৃংখলা রক্ষার জন্যে মৃত্যুদন্ডের বিধান থাকা জরুরি।খুব বড় ধরনের অন্যায়ের জন্য মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে আইন করা যায়।এতে অন্য অপরাধিরা অন্যায় করতে ভয় পাবে।তারা এই ব্যাপারে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে।এর ফলে সমাজে অপরাধের পরিমাণ কমে আসে।
২।ইনসাফঃ
ইন্সাফ প্রতিষ্ঠার জন্যে এই রকমের শাস্তি থাকা দরকার।দেখা যায় একজন অপরাধি অন্য মানুষের এমন ক্ষতি করল যে ক্ষতির উপযুক্ত শাস্তি হতে পারে একমাত্র মৃত্যুদন্ড।বেশিরভাগ সময় দেখা যায় এই রকম শাস্তি না দিলে ক্ষতিগ্রস্ত নিজেকে ন্যায়বিচার বঞ্চিত ভাবে।যদি ক্ষতিগ্রস্ত নিজেকে ন্যায়বিচার বঞ্চিত মনে করে তাইলে বুঝতে হবে তার প্রতি ইন্সাফ করা হয় নাই।তাইইন্সাফ প্রতিষ্ঠার জন্যেও মৃত্যুদন্ডের বিধান থাকা জরুরি।
৩।অপরাধ প্রবনতা হ্রাসঃ
মৃত্যুদন্ডের মত শাস্তির বিধান থাকার ফলে মানুষের মাঝে অপরাধ প্রবনতা হ্রাস পায়।যখন বড় কোন অপরাধের জন্য কাউকে মৃত্যুদন্ডের মত বড় রকমের শাস্তি দেয়া হয় তখন অন্যরা সেই একি রকমের অন্যায় করতে ভয় পায়।এর ফলে অপরাধ প্রবনতা হ্রাস পায়।
তথাপি যারা মৃত্যুদন্ডের মত শাস্তির বিধানের বিরোধিতা করেন তাদের ও নিজস্ব কিছু যুক্তি আছে।
মৃত্যুদন্ড একজন মানুষের মানবাধিকারের লংঘন।অথাৎ প্রত্যেক মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার আছে।সেই হিসেবে একজন অপরাধির ও বেচে থাকার অধিকার আছে।কিন্তু তাকে যদি মৃত্যুদন্ডের মত শাস্তি দেয়া হয় তাইলে তার বেচে থাকার অধিকার খর্ব হয়।তাদের আরেক্টি জোরালো যুক্তি হল একজন অপরাধিকে সংশোধিত হওয়ার সুযোগ দেয়া।অর্থাৎ একজন অপরাধিকে সংশোধনাগারে নিয়ে সংশোধন করা।সংশোধিত হয়ে সে সুস্থ জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দেয়া।
মৃত্যুদন্ডের বিরোধিতাকারিদের একটি শক্ত যুক্তি হল মৃত্যুদন্ড হল মানুষের মৌলিক মানবাধিকারের লংঘন।কিন্তু প্রশ্ন হল অপরাধি যখন এই রকম শাস্তি পাবে না তখন কি ক্ষতিগ্রস্তের মানবাধিকার লংঘন হবে না?তাই এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।তাদের আরেকটা দাবি হল অপরাধিকে মৃত্যুদন্ড না দিয়ে দ্বিতীয়বার সুযোগ দিয়ে নতুন করে জীবন কাটানোর সুযোগ দেয়া উচিত।কিন্তু পরিসংখ্যানে দেখা যায় এভাবে মুক্তি প্রাপ্ত প্রায় ৯৮% অপরাধি ই পরবরতিতে আরো বেশি অপরাধ প্রবণ হয়ে উঠে।তারা আরো বেশি আত্ববিশ্বাসি হয়ে উঠে।এর ফলে অপরাধের পরিমান আরো বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।সুতরাং তাদের এই যুক্তিও গ্রহণোগ্য নয়।আরো একটি বিশেষ কারনে মৃত্যুদন্ড থাকা দরকার বিশেষ করে আমাদের মত তৃ্তীয় বিশ্বের দেশে এই আইন থাকা অত্যন্ত জরুরি।এই রকম দেশগুলোতে রাজনৈতিক পট পরিবরতনের সাথে সাথে অপরাধির শাস্তি মউকুফের বেপার জড়িত।অনেক সময় দেখা যায় এক সরকারের আমলে যে লোক অপরাধি ঠিক একি অপরাধি রাজনৈ্তিক পট পরিবরতনের সাথে সাথে অন্য সরকারের আমলে শাস্তি না পেয়ে বরং পুরস্কৃত হয়।তাই তৃ্তীয় বিশ্বে এই শাস্তির বিধান রাখা খুবই দরকার।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে আস্তে পারি আর তা হল মানুষের কল্যানের স্বারথেই মৃত্যুদন্ডের মত শাস্তির বিধান রাখা দরকার।এটা নিষিদ্ধ করা উচিত না।
2 টি মন্তব্য
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।
দূর্গম গিরি
খিলাফত নিয়া লেইখা খিলাফত কাইত কইরা দিলেন। অহন ইসলাম উনার ফয়সালা বাদ দিয়া মৃত্যুদন্দ এর ব্যপারে নিজের মত প্রতিষ্ঠীত করলেন।আপনি কি জার্মানির প্রসিডেন্ট এনজেলা মার্কেল আপনের টা মানুম।
কাজী মুহাম্মদ ইলিয়াস