সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার

রাজাকার।

ফিরে দেখা ইতিহাস
ঘাতক রাজাকার, আল-বাদর
মওদুদী জামাতী, দেওবন্দী খারিজী, ওহাবী সালাফীদের দিনলিপি
২৭শে এপ্রিল, ১৯৭১ ঈসায়ী
সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা:
***************************************************************
সুনামগঞ্জের উত্তর ধরমপাশা উপজেলায় মধ্যনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলায় মধ্যনগর থানা চামারদানী ইউনিয়ননে রামদিঘা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মধ্যনগর থানার ওসি মাজহারুল হক বলেন, সকালে বাড়ির উঠানে বসে বাড়ির মালিক রঞ্জিত সরকারসহ এক পরিবারের চারজন মুড়ি খাচ্ছিলেন। এসময় হঠাৎ উঠানের উপরে থাকা বিদ্যুতের তার ছিড়ে তাদের গায়ের ওপর পড়ে। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়।
আল ইহসান ডেস্ক: এদিন রেডিও পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্রে বিএনপি নেতা যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর (সাকা চৌধুরীর) পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরী (ফকা চৌধুরী) ভাষণ দেয়। ভাষণে সে জানায়, ‘ভারতীয় দালালরা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ, রাস্তাঘাট ধ্বংস করে জনজীবন বিষিয়ে তুলেছে। সবচাইতে বড় কথা- ভারতীয় ক্রীড়নকদের চক্রান্ত যদি সফল হয়, তবে আমরা চিরদিনের জন্যে ভারতের গোলামে পরিণত হবো। পাকিস্তানের জন্ম থেকে শুরু করে ভারত কোনোদিন পাকিস্তানের অস্তিত্বকে মেনে নিতে পারেনি। প্রথম থেকেই শত্রুতা করেছে।’ ফজলুল কাদের চৌধুরী তার ভাষণে ভারতের চক্রান্ত নস্যাৎ করার জন্যে দুষ্কৃতকারীদের (তথা মুক্তিযোদ্ধাদের) বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানায় দলীয় কর্মী ও দেশবাসীর প্রতি।
এসময় চট্টগ্রাম জামাতের আমীর অধ্যাপক ওসমান রমজ পশ্চিম-পাকিস্তানে অবস্থান করছিল। এদিন সে করাচীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেছিল, পূর্ব-পাকিস্তানের কোনো দেশপ্রেমিক মুসলমান বিচ্ছিন্নতাবাদের পক্ষে নয়। এক শ্রেণীর ভারতীয় দালাল পাকিস্তানিদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে। এরা ইসলাম ও পাকিস্তানের আদর্শের পরিপন্থী বাইপুস্তক প্রকাশ করে বিভেদ সৃষ্টি করছে। সংবাদ সম্মেলনে সে জানায়, দুষ্কৃতকারীদের উৎখাতের পাশাপাশি পাকিস্তানের আদর্শবিরোধী এসব পুস্তকের প্রকাশনা বন্ধ করে দিতে হবে। একই সাথে সে পরামর্শ দেয় পাকিস্তানের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি হয় এরকম বিষয় যুক্ত করার। সে জোর দাবি জানায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাকিস্তানবিরোধীদের বহিষ্কারের। না হলে এদের সংস্পর্শে এসে ছাত্রদের মধ্যে বিজাতীয় ভাবধারা জন্ম নেবে।
পাবনা শান্তিকমিটির উদ্যোগে স্বাধীনতাবিরোধীরা মিছিল করে এদিন। ভারত ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উৎখাতের নামে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়া হয়। মিছিলের নেতৃত্ব দেয় কাইয়ুম মুসলিম লীগ নেতা ক্যাপ্টেন এমএ জায়দী এবং জামাত, নেজামে ইসলাম, কনভেনশন ও কাউন্সিল মুসলিম লীগের নেতারা।
শেরে বাংলার মৃত্যু বার্ষিকীকে কলঙ্কিত করে স্বাধীনতাবিরোধীরা। এ.টি. সাদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান দরদী সংঘের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করে অ্যাডভোকেট মোজাফফর হোসেন ও মীর আবুল ফজল। ডাক্তার নূরুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা হয় কনেভনশন মুসলিম লীগের। পাকিস্তানের প্রয়োজনীয়তার বিস্তৃত ব্যাখ্যা করা হয় শান্তি ও কল্যাণ পরিষদের আলোচনা সভায়। এ.কে. ফজলুল হকের মৃত্যুবার্ষিকীতে পাকিস্তানের সংহতি ও অখ-তা রক্ষার আহবান জানিয়ে বিবৃতি দেয় কৃষক শ্রমিক পার্টির সহ-সভাপতি এসএমকে জয়নুল আবেদীন। এএনএম ইউসুফের সভাপতিত্বে আলোচনা হয় মোক্তার বার সমিতির। সভায় বক্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে পাকিস্তান রক্ষার আহবান জানায়।
‘দৈনিক পাকিস্তান’ এদিন সম্পাদকীয় নিবন্ধে ঢাকাসহ দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করে। এদিন জমি উচ্ছেদ সম্পর্কে পৌর কর্তৃপক্ষ তার মনগড়া ব্যাখ্যা দেয়। এদেশের স্বাধীনতামনা মানুষদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয় ‘বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের’ নিরস্ত্র করে পাঠানো হচ্ছে।
পাকিস্তান শান্তি ও কল্যাণ পরিষদ বিভিন্ন জেলায় কমিটি গঠন করে জেলার নেতাদের উপর নিজ নিজ জেলার মহকুমা থানা ও ইউনিয়নে কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেয়। এ ব্যাপারে বরিশাল জেলায় আলহাজ্জ মালানা বশির উল্লাহ আতহারী ও নূর ইসলাম শিকদার অ্যাডভোকেট, সাবেক এমএনএ দিনাজপুর জেলার মৌলভী মতিউর রহমান চৌধুরী ও মৌলভী আহমদ জান মোক্তার, ঈশ্বরদীতে মমতাজুর রহমান, বগুড়া শহরের জামে মসজিদের ইমাম ও খুলনায় পটুয়াখালী জামে মসজিদের ইমাম কলিমুদ্দিন শিকদার এবং মাদারীপুর জামে মসজিদের ইমামকে ওই সব এলাকার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে কমিটি গঠন করে রিপোর্ট করতে নির্দেশ দেয়া হয়।
এদিন আখতার সোলায়মান এবং ইউসুফ খাটক ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। ইয়াহিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভুট্টো। এ সময় পাকী সরকারের কার্যকলাপ সম্পর্কে বিদেশে প্রচারণা চালানোর জন্যে ইয়াহিয়ার বিশেষ দূত হিসেবে সফরে যায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশরাফ হোসেন। এদিন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ রহিম খান ঢাকা আসে। আগমনের উদ্দেশ্য ঢাকায় সে সার্বিক অবস্থা প্রত্যক্ষ করে বিমান হামলা সম্পর্কে কৌশল নির্ধারণ করবে।
এদিন জারি করা হয় ১৪৮ নম্বর সামরিক বিধি। এ আদেশের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সহায়তাকারীদের পাইকারী হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়। ১৪৮ নম্বর সামরিক আদেশটি এমনি একটা কুখ্যাত আদেশ যাতে কোনো কারণ ছাড়াই কেবলমাত্র সন্দেহের উপর ভিত্তি করে চরম শাস্তির লাইসেন্স দেয়া হয় ঘাতকদের। এমনকি যে এলাকায় মুক্তিযোদ্ধারা তৎপরতা চালাবে সে এলাকার লোকদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হয়।
সিলেটে এদিন অনুষ্ঠিত হয় শান্তিকমিটির সভা। শহরের পরিচিত ব্যক্তি আলহাজ্জ আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখে নাজমুল হক প্রধান, তারা মিয়াসহ শান্তিকমিটির নেতারা।
(তথ্যসূত্র- দৈনিক পাকিস্তান, ধর্মব্যবসায়ী ঘাতক জামাতীদের সংগ্রাম ২৭, ২৮, ২৯ এপ্রিল ১৯৭১ ঈসায়ী।)

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।