সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার

রাজাকার।

একাত্তরে জামাত :
পাকিস্তানিদের চোখে ॥
আর্মির ডেথ স্কোয়াড হিসেবে কাজ করতো ছাত্রসংঘ ক্যাডাররা
আল ইহসান ডেস্ক:
****************************************************************
একাত্তরে ‘আল-বাদর ও আল-শামস কাজ করতো পাকি সেনাবাহিনীর ডেথ স্কোয়াড হিসেবে। দেশের বাঘা বাঘা অধ্যাপক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও চিকিৎসক তথা বুদ্ধিজীবীদের হত্যার জন্য এদের দায়ী করা হয়।’ এ মন্তব্য বাংলাদেশের কারোর নয়, পাকিস্তানের একজন গবেষকের। তার নাম হুসাইন হাক্কানি। তিনি একজন নামকরা কূটনীতিকও।
হুসাইন হাক্কানি তার ‘পাকিস্তান : বিটুইন মস্ক অ্যান্ড মিলিটারি’ গ্রন্থের ৭৯ নম্বর পৃষ্ঠায় লিখেছেন, পূর্ব-পাকিস্তানে বসবাসরত অবাঙালি ও পাকিস্তানপন্থী ধর্মব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর কর্মীদের নিয়ে এক লাখ সদস্যের একটি রাজাকার বাহিনী গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেনাবাহিনী। দুটি আধাসামরিক কাউন্টার ইনসারজেন্সি ইউনিট গড়ার লক্ষ্যে জামাত এবং বিশেষ করে এর ছাত্র সংগঠনটি ১৯৭১ ঈসায়ী সালের মে মাসে সামরিক বাহিনীর ওই উদ্যোগে শরিক হয়। জামাতের ছাত্র সংগঠন তাদের অনেক কর্মী-সমর্থককে এসব বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করায়। একই বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ রাজাকারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০ হাজারে।
২০০৫ ঈসায়ী সালে প্রকাশিত এ বইয়ে হাক্কানি আরো লিখেছেন, ‘আল-বাদর ও আল-শামস নামে দুটি আলাদা বিশেষ ব্রিগেডও গড়ে তোলা হয়েছিল ওই (জামাতের) ছাত্র ক্যাডারদের নিয়ে। আল-বাদরদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল বিশেষ অভিযানের জন্য। আর ব্রিজসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার দায়িত্ব দেয়া হতো আল-শামস বাহিনীর উপর।’
বইটিতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, ‘আল-বাদর ও আল-শামস কাজ করত সেনাবাহিনীর ডেথ স্কোয়াড হিসেবে।’ আল-বাদর বাহিনী যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন অধ্যাপক, প্রথিতযশা পাঁচজন সাংবাদিকসহ অনেক বুদ্ধিজীবীকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে সে তথ্যও উল্লেখ আছে বইটিতে।

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।