সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

মুসলিম নির্যাতন

রাজাকার।

একাত্তরে জামাত : পাকিস্তানিদের চোখে ॥
আর্মির ডেথ স্কোয়াড হিসেবে কাজ করতো ছাত্রসংঘ ক্যাডাররা
আল ইহসান ডেস্ক:
**************************************************************
একাত্তরে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধ্বংসযজ্ঞ, নারী নির্যাতন ও সম্ভ্রমহরণের মতো জঘন্যতম অপরাধের সঙ্গী হয়েছিল এ দেশেরই কিছুসংখ্যক নরপিশাচ। ধর্মব্যবসায়ী জামাতসহ কয়েকটি জনবিচ্ছিন্ন ডানপন্থী রাজনৈতিক দল মিলে পাকিস্তানিদের সহায়তায় গড়ে তুলেছিল শান্তিকমিটি নামের এমন এক সংগঠন, যা মূলত অশান্তির আগুনে পোড়ায় গোটা দেশকে। শান্তিকমিটিরই পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠেছিল ঘাতক রাজাকার বাহিনী, যা ছিল পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর অধীনে ন্যস্ত। তবে এ রাজাকার বাহিনী নিয়ে দালাল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছু মতভেদও দেখা দিয়েছিল। কারণ এ ঘাতক বাহিনীটি ছিল পুরোপুরি জামাত ও এর ছাত্রসংগঠন তৎকালীন ছাত্রসংঘের (বর্তমান- ছাত্রশিবির) নিয়ন্ত্রণে। রাজাকার বাহিনীর ছিল দুটি বিশেষ খুনি ব্রিগেড:- আল-বাদর ও আল-শামস।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এই রাজাকার, আল-বাদর বাহিনীর সদস্যদের অপকর্মের বিবরণ পাওয়া যায় পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা ও রাজনীতিকদের লেখা ও বক্তব্যেও।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের রাস্তাঘাট, অলিগলি এবং মানুষের চেহারা চিনত না পাকিস্তানি সেনারা। বাংলা লেখা বাড়ির নম্বরও বুঝত না তারা। সাধারণ মানুষ তাদের কোনো সহযোগিতা করত না। ওই সময় পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতা করতে ‘যারা এগিয়ে আসে, তারা ছিলো দক্ষিণপন্থী; যেমন- কাউন্সিল মুসলিম লীগের খাজা খয়ের উদ্দিন, কনভেনশন মুসলিম লীগের খান ফজলুল কাদের চৌধুরী, কাইয়ুম মুসলিম লীগের খান এ সবুর খান, জামাতের অধ্যাপক গো’আযম ও নেজামী ইসলামী পার্টির মৌলভী ফরিদ আহমাদ।’ একাত্তরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা মেজর (পরে ব্রিগেডিয়ার) সিদ্দিক সালিক তার ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ বইয়ে এভাবেই দালালদের পরিচয় দিয়েছেন।

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।