সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার

রাজাকার।

ফিরে দেখা ইতিহাস
ঘাতক রাজাকার, আল-বাদর
মওদুদী জামাতী, দেওবন্দী খারিজী, ওহাবী সালাফীদের দিনলিপি
২৯শে এপ্রিল, ১৯৭১ ঈসায়ী
আল ইহসান ডেস্ক:
**************************************************************
জুলফিকার আলী ভুট্টো এদিন সাংবাদিকদের জানায়, সে শিগগিরই পূর্ব-পাকিস্তান সফরে যাবে। পূর্ব-পাকিস্তান সফর করে সে দলীয় কর্মী এবং পাকিস্তানপ্রিয় নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা যাতে পাকিস্তানের সংহতি রক্ষায় কাজ করে সে ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করবে। দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় পাকিস্তানকে সমর্থন দানের জন্যে সে চীন সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। সে-ই সঙ্গে সে দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানায়, ‘মে দিবস’কে সামনে রেখে শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার।
এদিন একজন সরকারি মুখপাত্র কলকাতায় পাকিস্তানি দূতাবাসের কর্মচারীদের ফেরত পাঠানোর দাবির কথা স্বীকার করে। কলকাতা মিশনের অধিকাংশ কর্মচারীই ছিল বাঙালি এবং এরা সবাই পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করে।
মুখপাত্রটি জানায়, ‘তারা নিজেদের অস্তিত্ববিহীন বাংলাদেশে সরকারের প্রতিনিধি বলে অভিহিত করে দূতাবাসটি দখল করেছে।’ এদেরকে নাগালে পাওয়ার জন্যে ঢাকার ভারতীয় মিশনের কর্মচারীদের আটক করে বিনিময় করার চেষ্টা চালায়। এদিন ভারতীয় প্রচারণার তীব্র নিন্দা করে পূর্ব-পাকিস্তানের প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আসগর হোসেন। সে জানায়, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও অনুপ্রবেশকারীদের (মুক্তি যোদ্ধাদের) অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে পূর্ব-পাকিস্তানে পাঠিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে ভারত। মিথ্যা ও বানোয়াট খবর প্রচার করে শান্তিপ্রিয় পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে বিভেদ ও ভীতি এবং বিশ্বের মানুষের কাছে পাকিস্তান সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণার জন্ম দিচ্ছে।
সে ভারতের প্রতি আহ্বান জানায়, প্রচারণা বন্ধ ও দুষ্কৃতিকারীদের সাহায্য না কারার। ভারতের নিন্দা করে বিবৃতি দেয় ইসলাম পুনর্জাগরণ সংস্থার সভাপতি মালানা আব্দুল জব্বার। ভারতের বিরুদ্ধে চরম বিদ্বেষ প্রকাশ করে পূর্ব-পাকিস্তান আঞ্জুমান ফালাই কাশ্মীরের জেনারেল সেক্রেটারি।
এদিন সিলেট বেতার কেন্দ্রে ভাষণ দেয় সিলেট শান্তিকমিটির সদস্য খন্দকার আব্দুল জলিল। ভাষণে সে দেশপ্রেমিক পাকিস্তানিদের প্রতি আহ্বান জানায় প্রত্যেক এলাকায় শান্তিকমিটি গঠন করে দুষ্কৃতকারীদের প্রতিহত করার। এপিপি প্রতিনিধি আলতাফ জাওয়ার দেশের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তার পাবনা সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে।
পাবনা শহর সম্পর্কে সে বলেছিল, পাবনা জেলার দুষ্কৃতিকারীরা হয় নিহত অথবা বন্দি হয়েছে, না হয় হিন্দু মনিবদের কাছে আশ্রয় নেয়ার জন্যে ভারত গেছে। দুষ্কৃতিকারীদের নেতা এমএনএ আমিনুদ্দিন নিহত হয়েছে। ভারতে পালিয়ে গেছে আব্দুর রব এমএনএ। সেনাবাহিনী আসার খবর পেয়ে ভয়ে মারা গেছে আমজাদ হোসেন। এদের বাড়িতে ছিলো অস্ত্রের গুদাম। সেনাবাহিনী যেগুলো উদ্ধার করেছে। বর্তমানে বকুল পাবনায় দুষ্কর্মের নেতৃত্ব দিচ্ছে। সে পাবনাবাসীর জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। জনগণের মধ্যে প্রচারপত্র বিলি করে বিভ্রান্ত করছে।
এদিন বিশ্ব মুসলিম কংগ্রেস ভারতকে দুষ্কৃতকারীদের সাহায্য ও সমর্থন দান থেকে বিরত থাকতে বলে। এ ব্যাপারে কংগ্রেসের সভাপতি আমিনুল হোসেনী ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে তারবার্তা পাঠায়।
ভারতীয় ভূমিকার নিন্দা করে কুয়েতী ‘দৈনিক আল রয় আলম’ পিপিআই সংবাদদাতা ফজল কোরেশী সিলেট ও আশেপাশের এলাকা দুষ্কৃতিকারী (মুক্তিযোদ্ধা) মুক্ত হয়েছে বলে জানায়। সে জানায়, এখন থেকে দুষ্কৃতকারীদের উৎখাতের পর সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এবং জীবনযাত্রা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। খুলনা বাগেরহাট পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে বর্ণনা করে এপিপি প্রতিনিধি আফজাল খান।
এদিন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চীফ অব স্টাফ জেনারেল আব্দুল হামিদ ময়মনসিংহ, খুলনা, যশোর এলাকায় সেনাবাহিনীর তৎপরতা পরিদর্শন করে। সফল অভিযান পরিচালনার জন্যে সে এলাকাসমূহের জোয়ান কমান্ডারদের প্রশংসা করে। সে সৈনিকদের উৎসাহিত করে আরো তৎপর হয়ে কাজ করতে।
এদিন এক সামরিক বিজ্ঞপ্তিতে ১ মে থেকে ফুলবাড়িয়া রেলওয়ে কলোনী, সেক্রেটারিয়েট এলাকা ও শাহজাহানপুর কলোনি এলাকায় বসবাসকারী বেসরকারি লোকদের উৎখাতের নির্দেশ দেয়া হয়। আর এক ঘোষণায় নির্দেশ দেয়া হয় শহরে সকল দেয়াল থেকে রাজনৈতিক শ্লোগানসমূহ মুছে ফেলার। কারাগারসহ সারা শহরের দেয়ালে দেয়ালে শোভা পাচ্ছিলো মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে ঐতিহাসিক শ্লোগানসমূহ। এসব শ্লোগান পড়া মাত্রই দেশপ্রেমিক বাঙালির রক্তে আগুন ছড়িয়ে পড়তো। নির্যাতিত মানুষ (স্বাধীনতাকামী) ফিরে পেত সাহস। (তথ্যসূত্র: পাকিস্তান, পূর্বদেশ, ধর্মব্যবসায়ী ঘাতক জামাতীদের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম, ২৯, ৩০ এপ্রিল, ২ মে ১৯৭১।)

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।