‘পাঁচ তহবিলের মালানা’ সাঈদীর একাত্তরের কুৎসিত চেহারা-৩
আল ইহসান ডেস্ক:
************************************************************************
[২০১০ সালে আটক হয় দেইল্যা রাজাকার সাঈদী। এরপর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দেইল্যা রাজাকার সাঈদীর ফাঁসির দন্ডাদেশ হয়। কিন্তু পরে আপিল বিভাগের রায়ে রহস্যজনভাবে শাস্তি কমিয়ে আমৃত্যু কারাদন্ড দেয়া হয়। আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি বের হওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছে। এখন শুনানির অপেক্ষা। যথাযথ রিভিউ হলে অবশ্যই এই কুখ্যাত নরঘাতকের ফাঁসির আদেশ হতে পারে বলে দেশপ্রেমিক সচেতন মহলের দৃঢ় বিশ্বাস।
এদিকে ট্রাইব্যুনালে অপরাধকর্ম প্রমাণিত হওয়ার পরও ঘাতক যুদ্ধাপরাধী দেইল্যা রাজাকার সাঈদীর ফাঁসি কার্যকর না হওয়ায় দেশবাসী হতবাক।
১৯৭১ সালে আজকের জামাত নেতাদের মধ্যে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ভূমিকা পালন করেছিল, তাদের মধ্যে মালানা দেয়াওয়ার হোসাইন সাঈদী ওরফে দেইল্যা রাজাকার কুখ্যাততম। তার অপকর্মের কিছু নমুনা তুলে ধরা হলো।]
পাড়েরহাট ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিয়ন কমান্ডের মিজান একাত্তরে সাঈদীর তৎপরতার কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, ‘দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী স^াধীনতা যুদ্ধের সময় পাকী বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় লিপ্ত ছিলো। সে ধর্মের দোহাই দিয়ে পাড়েরহাট বন্দরের অনেকের ঘরবাড়ি লুট করেছে ও নিজে মাথায় বহন করেছে এবং মদন নামে এক ব্যবসায়ীর বাজারের দোকানঘর ভেঙে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে গেছে। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বাজারের বিভিন্ন মনোহরি ও মুদি দোকান লুট করে লঞ্চঘাটে দোকান দিয়েছিলো। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর অপকর্ম ও দেশদ্রোহিতার কথা এলাকায় হাজার হাজার মানুষ আজো ভুলতে পারেননি’ (মাসিক নিপুণ, আগস্ট ১৯৮৭)।
রিপোর্টে আরো বলা হয়, ‘পিরোজপুরের অ্যাডভোকেট আবদুর রাজ্জাক খান গণতদন্ত কমিশনকে জানিয়েছেন, রাজাকার সাঈদী যুদ্ধের সময় পাড়েরহাট বন্দরের বিপদ সাহার বাড়ি জোরপূর্বক দখল করে এবং তখন সে এ বাড়িতেই থাকতো। সে ওখানে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করতো। এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত করে পাকী সেনাদের কাছে সরবরাহ করতো রাজাকার সাঈদী। অ্যাডভোকেট রাজ্জাক আরো জানিয়েছেন, রাজাকার সাঈদী পিরোজপুরে পাকিস্তানি সেনাদের ভোগের জন্য জোরপূর্বক মেয়েদের ধরে এনে তাদের ক্যাম্পে পাঠাতো।
পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার সাঈদী পাড়েরহাট বন্দরটি আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিলো। সে বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণদের ধরে আনতো এবং আল-বাদর বাহিনীতে ভর্তি হতে বাধ্য করতো। কেউ এর বিরোধিতা অথবা আপত্তি করলে তাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হতো।’ পিরোজপুর মহকুমার এসডিপিও ফয়জুর রহমান আহমেদের হত্যাকা-ের সঙ্গেও রাজাকার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী জড়িত ছিলো বলে তার কন্যা সুফিয়া হায়দার এবং জামাতা আলী হায়দার খান অভিযোগ করেছে। তারা জানায়, রাজাকার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সহযোগিতায় ফয়জুর রহমান আহমেদকে পাকিস্তানি সৈন্যরা হত্যা করে এবং হত্যার পরদিন সাঈদীর বাহিনী পিরোজপুরে ফয়জুর রহমান আহমেদের বাড়ি সম্পূর্ণ লুট করে নিয়ে যায়। এমনকি ২০১০ সালের আটকের পূর্বপর্যন্ত একাত্তরের ঘাতক দালাল জামাত নেতা সাঈদী বিভিন্ন ওয়াজ-তফসিরের নামে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং বাংলাদেশের স^াধীনতা ও রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা অব্যাহত রাখে।
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।