সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার

রাজাকার।

ফিরে দেখা ইতিহাস
ঘাতক রাজাকার, আল-বাদর
মওদুদী জামাতী, দেওবন্দী খারিজী, ওহাবী সালাফীদের দিনলিপি
২১ এপ্রিল, ১৯৭১ ঈসায়ী
আল ইহসান ডেস্ক:
***************************************************************
ঘাতক শান্তিকমিটি এদশের স্বাধীনতাকামীদের ধ্বংস করে পাকিস্তান টিকিয়ে রাখতে চতুর্দিক থেকে জাল বিস্তার করে। জেলা-মহকুমা-পাড়া-মহল্লায় কমিটি গঠন করে নির্যাতনমূলক কাজসহ প্রচারণা চালাতে থাকে। কেন্দ্রীয় শান্তিকমিটির আহবায়ক খাজা খয়েরউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস রিলিজে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। এ প্রেস রিলিজের মূল লক্ষ্য ছিলো সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের মধ্যে উগ্র মনোভাব জাগ্রত করা; যাতে করে তারা নব উদ্যোমে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। প্রেস রিলিজে বলা হয়, তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধারা সেনাবাহিনীর হাতে মার খেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বর্তমানে তারা পোড়ামাটি নীতি অবলম্বন করেছে। পাকিস্তানপ্রিয় নাগরিকদের হয়রানি করছে। লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে চালাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের হিংসাত্মক কাজ। দেশের অর্থনৈতিক মেরুদ-কে ভেঙে দেয়ার জন্যে মিল-কারখানা এবং রাস্তাঘাট ধ্বংস করছে। পক্ষান্তরে আমাদের বীর সেনাবাহিনী অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা-বিধানে সচেষ্ট রয়েছে। সেনাবাহিনী দেশের শত্রুদের নির্মূল করে পাকিস্তানের অখ-তা বজায় রাখবেই। সুতরাং আমাদের উচিত সেনাবাহিনীর আগমনের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পতাকা হাতে তাদের অভিনন্দন জানানো এবং দুষ্কৃতিকারী দমন অভিযানে শামিল হওয়া। প্রেস রিলিজে নিজ নিজ এলাকায় দেশপ্রেমিকদেরকে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানানো হয়।
আল্লামা কবি ইকবালের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া তার স্বপ্নের পাকিস্তানকে জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে রক্ষা করার আহবান জানায়। সে জানায়, এই মহাপুরুষের স্বপ্নকে কিছুতেই আমরা বিদেশী শক্তির ক্রীড়নকদের হাতে নষ্ট হতে দিতে পারি না।
পাকিস্তানের পতাকা চিরদিন সমুন্নত রাখার দৃঢ়অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে আসার আহবান জানায় ঘাতক মালানা নূরুজ্জামান।
পূর্ব-পাকিস্তানের জনগণের পক্ষ থেকে শপথ বাক্য উচ্চারণ করে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কাইয়ুম মুসলিম লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট আফাজউদ্দিন আহমদ। সে জানায়, পূর্ব-পাকিস্তানিরা জীবন দিয়ে মাতৃভূমির প্রতিইঞ্চি মাটি রক্ষা করবে। পাকিস্তানের অখ-তা রক্ষার অঙ্গীকার করে সাবেক এমপিএ আবুদল মতিন লস্কর, ঢাকা জেলা পিপলস পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ বদরুল হাসান।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মার্কিন মনোভাব এবং তাদের তৎপরতা ছিলো সম্পূর্ণরূপে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপক্ষে। পরোক্ষ হুমকি হিসেবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর জানায়, প্রশান্ত মহাসাগরে মোতায়েন মার্কিন নৌবহর মহড়ার জন্যে ভারত মহাসাগরে একটি বিমানবাহী জাহাজ, চারটি ডেস্ট্রায়ার ও একটি ডুবোজাহাজ প্রেরণ করেছে।
যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনাসহ অন্যান্য সীমান্তবর্তী জেলার বেনাপোল, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, চৌগাছা দর্শনা অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাধান্য ছিলো সবচেয়ে বেশি। এপিপি’র বিশেষ প্রতিনিধি আফজাল খান জানায়, এসব এলাকা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জঘন্য মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে সে বলে যে, গ্রামাঞ্চলের জনগণ দুষ্কৃতিকারীদের নির্মূলে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে।
এসময় বিভিন্ন রাষ্ট্রকে পক্ষে টানার জন্যে পাকী সরকার ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরি করতে উদ্যোগ নেয়। এর জন্যে দ্রুত পাট রফতানি শুরু করার চেষ্টা চালায়। এদিন জুট এক্সটেনশন অফিসার নির্দেশ দেয় কর্মচারীদের কাজে যোগদানের। বীর মুক্তিযোদ্ধারা লড়াই করে যাচ্ছিল পাকী বাহিনীর বিরুদ্ধে। এক পর্যায়ে তারা রংপুরে পাকী বাহিনীর সীমান্তঘাঁটি উড়িয়ে দেয়। অথচ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় ভারত সরকারের কাছে। সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে পাকী শাসকগোষ্ঠীর প্রচারণা ছিলো মিথ্যা এবং স্থূল। যেমন এদিনে প্রচার করে যে, ঢাকাসহ দেশের পরিস্থিতি সম্পূর্র্ণরূপে স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে। এমনি আর একটি মিথ্যা প্রচারণা হচ্ছে, সেনাবাহিনীর কাছে দলে দলে দলত্যাগ সৈন্যরা আত্মসমর্পণ করেছে।
ইয়াহিয়ার কাছে পাঠানো এক বাণীতে পাকিস্তানি বাহিনীর কার্যক্রমের প্রতি তার সমর্থন রয়েছে বলে জানায় আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বুমেদীন।
(তথ্যসূত্র: পূর্বদেশ, দৈনিক পাকিস্তান ২১, ২২, ১৩ এপ্রিল, ১৯৭১ ঈসায়ী।)

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।