সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার

রাজাকার।

ফিরে দেখা ইতিহাস
ঘাতক রাজাকার, আল-বাদর
মওদুদী জামাতী, দেওবন্দী খারিজী, ওহাবী সালাফীদের দিনলিপি
২৬শে এপ্রিল, ১৯৭১ ঈসায়ী
আল ইহসান ডেস্ক:
****************************************************************
অতিক্রান্ত হয়েছে পাকিস্তানি যুলুম-নির্যাতনের একমাস। এ একমাস পাকী বাহিনী নির্বিচারে হত্যাকা-, রাহাজানি, লুণ্ঠন, অগ্নি সংযোগ করেছে। কিন্তু পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়েও স্বাধীনতাকামীদের স্তব্ধ করতে পারেনি। তাই আরো কঠোরভাবে দমন করতে পাকী শাসক চক্র তাদের কৌশল পাল্টায়। সামরিক সেক্টরের পরিবর্তন করে সেনাবাহিনীকে তিনটি সেক্টরে বিভক্ত করে। সমস্ত সেনাবাহিনীকে ঢাকা, কুমিল্লা ও বগুড়া এই তিনটি সেক্টরের আওতায় আনে। এলাকায় সামরিক তৎপরতা আরো জোরদার করতে ঢাকা, কুমিল্লা ও বগুড়ার অধীনে ১০টি উপ-সেক্টর গঠন করে। এভাবে পাকী সেনারা নতুন করে বিস্তার করে আক্রমণের জাল।
অত্যন্ত ত্বরিৎ গতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছিল ঘাতক শান্তিকমিটির কার্যক্রম। দেশের সর্বত্র শান্তিকমিটি ভিজিলেন্স কমিটি গঠন করে স্বাধীনতাবিরোধীদের সংগঠিত করার কাজ অত্যন্ত দ্রুত চালাতে থাকে। এদিন থেকেই ঘাতক শান্তিকমিটির কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভিন্ন অঞ্চল ভাগ করে কেন্দ্রের বাইরে পাঠানো শুরু হয়। এদের উপর দায়িত্ব দেয়া হয় জেলা-মহকুমায় শান্তিকমিটি গঠন এবং সেখানে স্বাধীনতাবিরোধীদের মধ্যে বিদ্বেষী মনোভাব জাগিয়ে তোলার। এ কাজ তারা সফলতার সঙ্গেই পালন করে। শান্তিকমিটির তৎপরতার প্রমাণ মেলে এদিনের দৈনিক পাকিস্তানে প্রকাশিত ঢাকা ও ঢাকার বাইরে গঠিত কতিপয় শান্তিকমিটি ও নেতৃস্থানীয়দের তালিকা থেকে। যাদের নেতৃত্বে এ সময় শান্তিকমিটি গঠিত হয় তারা হলো- ফজলুর রহমান পূর্ব-তেজগাঁও ইউনিয়ন কমিটি, এসএম হাবিবুল হক ধানমন্ডি ইউনিয়ন কমিটি, এ আজিজ সরদার নারায়ণগঞ্জ শহর কমিটি, মনসুর আলী দিলকুশা ইউনিয়ন শান্তিকমিটি, ড. আইয়ুব আলী খিলগাঁও কমিটি, জিএম খান দিলুরোড কমিটি, মজিবুর রহমান নিউ ইস্কাটন কমিটি, এমএ খালেক পূর্ব-ধানমন্ডি কমিটি, একেএম আবদুল্লাহ খান মহাখালী মহল্লা কমিটি, পেয়ার আলী আহসান দোহার শহর ইউনিয়ন কমিটি, গিয়াসউদ্দিন আহমদ শরাফতগঞ্জ ইউনিয়ন কমিটি, মৌলবী সেকান্দার আলী কুমিল্লার নবীনগর থানা কমিটি, ইদরিস বেপারী রেকাবী বাজার ইউনিয়ন কমিটি।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানায় শান্তিকমিটি গঠন করে এ সময় ঘাতক দালালরা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে নেমে পড়ে। এখানে ড. খন্দকার আবু সাঈদকে সভাপতি এবং শামসুল হুদাকে সেক্রেটারি করে ১৬৫ সদস্য বিশিষ্ট শান্তিকমিটি গঠিত হয়।
পাকী বাহিনী এদিন বেলা ১২টায় জোর করে ঢাকার ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশন বন্ধ করে দেয়। এর পূর্বে ২৩ এপ্রিল পাকী বাহিনী মিশন বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের যেসব বাঙালি কর্মকর্তা পাকী শাসক চক্রের সঙ্গে অসহযোগিতা করে বা সন্দেহজনক তাদেরকে অপসারণ করে। এভাবে অসংখ্য কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। তাদের বরখাস্তের খবর দেশ-বিদেশেও প্রকাশ পায়। কিন্তু এদিন একজন সরকারি মুখপাত্র সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাদের বহিষ্কারের কথা অস্বীকার করে। মুখপাত্র বলে যে, পাকিস্তানের শত্রুরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব খবর প্রচার করছে।
এদিন রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী চীফ অব স্টাফ জেনারেল হামিদ খান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নির্ধারণ করার জন্যে ঢাকা আসে। টিক্কা খানসহ উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা হামিদ খানকে বিমান বন্দরে অভ্যর্থনা জানায়।
পাকিস্তানের সে সময়ের পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিরিয়ার সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল আলখিমী। তবে তার এ উদ্বেগ এদেশের মানুষ নিধনের জন্যে ছিল না। অনুরূপ উদ্বেগ প্রকাশ করে ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
(তথ্যসূত্র- দৈনিক পাকিস্তান, পূর্বদেশ ২৬, ২৭, ২৮ এপ্রিল ১৯৭১ ঈসায়ী।)

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।