শকুন সমাচার

মার্কিন মুলুকে আবার বিষদাঁত বসাচ্ছে ঠাণ্ডা গত কয়েকদিন আগে অনেকটা কমে এসেছিল। ভেবেছিলাম এ বছরের মতো বুঝি শান্তি পেলাম। এই বাড়াবাড়ি রকমের ঠাণ্ডা দেখে হিজরী ১৪২৭ বা ২৮ সালের একটা কথা মনে পড়ে গেল। সেবছর খুব তুষার আর ঠাণ্ডা পড়েছিল। সে ঠাণ্ডার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আমার মা বলেছিলেন, “আল্লাহ পাক এসব দেশে তীব্র ঠাণ্ডা দেন কারন বেহায়া লোকেরা কাপড় পরতে চায় না। একমাত্র ভারী ঠাণ্ডাতেই এরা ভদ্রভাবে কাপড় পরতে বাধ্য হয়!”
ইদানীং শরয়ী পর্দা উনাকে ইহানত করছে কিছু লোক। প্রথম যার কথা শুনেছি সে মুসলিম নামধারী নাহক মহিলা, নাম মিতা হক। জনরোষ ঠেকাতে তার পক্ষ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে অদিতি ফাল্গুনি নামের আরেক আগাছা। অতি সম্প্রতি একই বিষয়ে আলোচনায় এসেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা। প্রশ্ন হচ্ছে, এরা কারা? বাংলাদেশের মত একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশে থেকে, খেয়ে, পরে এ দেশেরই প্রায় সব মানুষের ধর্ম ইসলাম উনাকে নিয়ে বাজে কথা বলার সাহস এরা কোথায় পায়? কেন পায়?
উপরের ঘটনাগুলো বিস্তারিত ঘেটে দেখিনি। কারণ, রুচি হয়নি। এরই মাঝে শুনলাম শাহরিয়ার কবীর নামের উঁচুদরের বুদ্ধিব্যবসায়ী উপরোল্লিখিত সর্বশেষ ঘটনার প্রেক্ষিতে টিভি চ্যানেলে জ্ঞান ঝেড়েছে। সে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য উপস্থাপন করেছে টক শোতে। তাই শুনার ইচ্ছে হলো। তার মতে, নাচ-গান ইসলামে সিদ্ধ এবং সূফী সংস্কৃতির অংশ। সূফীজম কি- সে বিষয়ে এ লোকের যা জ্ঞানের বাহার তাতে অডিওর বাকি অংশটুকু শুনার ইচ্ছে হলো। সে মিশর এবং পাকিস্তানের উদাহরণ দিয়ে বলছে- ওসব দেশের পুরনো সিনেমা দেখলে পাওয়া যাবে যে- মুসলিম মেয়েরা আগে বেপর্দা ছিলেন। ছোটখাট জামা-কাপড় পরতেন। পর্দা নতুন ব্যাপার। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, কোনো মুসলিম মেয়ে কি গীতবাদ্য করে সিনেমায় নটীর ভূমিকায় অবতীর্ন হবে? কোনোদিনও না। এই লোক সিনেমার মেয়েদের দিয়ে মুসলিম মেয়েদের মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। এর পর সে বলেছে হিজাব ছিল শুধু আরব দেশে। আরবীয়রা হিজাব পরত পরিবেশগত কারণে, মরুঝড়ের ধূলা থেকে রক্ষা পেতে। তার মানে কি দাঁড়াচ্ছে? বাংলাদেশে মরুর ঝড় নেই। অতএব, হিজাবের দরকারও নেই। নাউযুবিল্লাহ! সে আরো বলেছে- বাংলাদেশে হিজাব ছড়িয়েছে ওহাবীদের টাকায়। ওহাবীদের কার্যক্রম কি- তা এই লোক নিশ্চয়ই জানে না। হয়তো কোথাও “ওহাবিজম” কথাটা শুনেছে এবং সেটা ব্যাবহার করে কিছু বাহবা কুঁড়াবে ভেবেছিল। মূর্খের পা-িত্য ওই লেজেগোবরে পর্যন্তই।
ঠাণ্ডার কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম যে কারণে, এই মূর্খ এবং বেহায়া ব্যক্তিদেরকে আমেরিকা/কানাডায় নির্বাসন দেয়া সরকারের কর্তব্য। এসব দেশে এলে মাথার তালু থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত ভারী কাপড়ে আবৃত করতে বাধ্য হবে তারা। তাতে করে যদি তাদের বেহায়াপনার অবসান হয়।
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।