শিউলি ফুল ও গাছ[/caption]
শিউলি
জগৎ/রাজ্য: Plantae
বিভাগ: Magnoliophyta
শ্রেণী: Magnoliopsida
বর্গ: Lamiales
পরিবার: Oleaceae
গণ: Nyctanthes
প্রজাতি: N. arbor-tristis
দ্বিপদী নাম: Nyctanthes arbor-tristis
বাংলা ভাষায় – শিউলি বা শেফালি
সংস্কৃত : নালাকুমকুমাকা, হারসিঙ্গারাপুস্পক, সুকলাঙ্গি, রাজানিহাসা, মালিকা, অপরাজিতা, বিজয়া, নিসাহাসা, প্রহার্ষিনী, প্রভোলানালিকা, বাথারি, ভুথাকেশি, সীতামাঞ্জারি, সুবাহা, নিশিপুস্পিকা, প্রযক্তা, প্রযক্তি। ।
সীতামাঞ্জারি, সুবাহা, নিশিপুস্পিকা, প্রযক্তা, প্রযক্তি।
তামিল ভাষায় – পাভাঝা মাল্লি বা পাভালা মাল্লি
ওড়িয়া ভাষায় – গঙ্গা শিউলি
মনিপুরী ভাষায় - সিঙ্গারেই
অসমিয়া ভাষায় - শেওয়ালি (শেৱালি)
বাংলা সমনাম : শিউলি, শেফালি, শেফালিকা
বৈজ্ঞানিক নাম : Nyctanthes arbor-tristis
লাতিন Nyctanthes-এর অর্থ হচ্ছে “সন্ধ্যায় ফোটা” এবং arbor-tristis-এর মানে হচ্ছে “বিষণ্ন গাছ”। সন্ধ্যায় ফোটা আর সকালে ঝরা ফুলের মাঝে বিষণ্নভাবে দাঁড়িয়ে থাকাটাই এই রকম নামকরণের কারণ বলে ধারণা করা হয়। শিউলিকে কখনও কখনও "tree of sorrow" বা "দুঃখের বৃক্ষ"-ও বলা হয় কারণ দিনের আলোতে এই ফুল তাদের উজ্জ্বলতা হারায়।
শিউলিকে মাঝে মাঝে Nyctanthes arbortristis বা Nyctanthes arbor tristis নামেও উচ্চারণ করা হয়, যদিও সাধারণভাবে এটি শিউলি নামেই পরিচিত।
প্রচলিত নাম: Night-flowering Jasmine (নাইট ফ্লাওয়ার জেসমিন), Harsingar (হারসিঙ্গার), কোরাল জেসমিন, পারিজাত, শেফালিকা, পারিজাতা, পারিজাতাকা, রাগাপুস্পি, খারাপাত্রাকা, প্রজক্তা.
পরিচিতি: Oleaceae গোত্রের Nyctanthes গণের গুল্ম জাতীয় সুগন্ধি ফুলের উদ্ভিদ। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, মায়ানমার, থাইল্যান্ড এই গাছ প্রচুর জন্মে। এই ফুল পশ্চিমবঙ্গের ও থাইল্যান্ডের কাঞ্চনাবুরি প্রদেশের রাষ্ট্রীয় ফুল। শিউলি মাঝারি আকারের গাছ। ১৫ বা ১০ ফুট পর্যন্ত বড় হতে দেখা যায়। মোটামুটি অনেক দিন বাঁচে। তবে গাছের গোড়ায় পানি জমলে মরে যায়। বানে ডুবলে শিউলির মৃত্যু অনিবার্য। বাংলাদেশের প্রায় সবখানে এ গাছ জন্মে। উঁচু ঝোপ-জঙ্গলে এর বাড়-বৃদ্ধি একটু বেশি। বাগানের শোভার জন্য শিউলি আদর্শ গাছ। অল্প জায়গায়, দেয়ালের পাশ, উঠানের কাণে, বেড়ার পাশে এক চিলতে জায়গায় অনায়াসে বেড়ে ওঠে।
শিউলি ফুল: এই ফুলে পাঁচ থেকে সাতটি সাদা পাপড়ি থেকে। ফুলের মাঝে লালচে-কমলা টিউবের মত বৃন্তযুক্ত। ফুলে সুগন্ধ আছে। ফুলগুলি রাতে ফোটে এবং সকালে ঝরে যায়। শরৎ ও হেমন্ত কালের শিশির ভেজা সকালে ঝরে পড়া শিউলি দেখা যায়। এর ফল চ্যাপ্টা ও বাদামী হৃদপিণ্ডাকৃতির। ফলের ব্যাস ২ সেন্টিমিটার এবং এটি দুই ভাগে বিভক্ত। প্রতিটি ভাগে একটি করে বীজ থাকে। আশ্বিন-কার্তিক ফল ধরতে দেখা যায়। তবে শীতকালেই এই গাছের বেশি ফল দেখা যায়। শিউলির যে বৈজ্ঞানিক নামের দ্বিতীয় অংশ আববরট্রেসটিস, তার অর্থ বিষাদিনী তরু। আর প্রথম অংশ নিকটেনথাস গ্রিক শব্দ। মানে রাতের ফুল। ল্যাটিন শব্দ নিক্টান্থেস অর্থ সন্ধ্যায় ফোটা। আরবর-ট্রিসটিস হচ্ছে বিষণ গাছ। চোখ জোড়ানো সৌন্দর্য নিয়ে সন্ধ্যায় ফুল ফোটে তার পর অল্প সময় বাঁচে এবং সকাল হতেই ঝরে যায় বলে এমন নামকরণ। একই কারণে শিউলিকে বলা হয় ট্রি অব সরো।
শিউলি পাতা: শিউলি গাছ নরম ধূসর ছাল বা বাকল বিশিষ্ট হয়। লম্বায় ১০ মিটারের মত হয়। গাছের পাতা গুলো ৬-৭ সেন্টিমিটার লম্বা ও সমান্তরাল প্রান্তের বিপরীতমুখী থাকে। পাতার দণ্ডে লোম থাকে। পাতার আকার ডিম্বাকৃতির হয়। পাতার উপরের দিকটা সবুজ কিন্তু নিচের সাদাটে। অধিকাংশ পাতার প্রান্তদেশ অখণ্ডিত। পাতাগুলো বেশ খসখসে।
ঔষধী গুনাগুন:
>>> এর পাতা পিত্ত ও কফ নাশক।
>>> এর পাতা টাটকা রস মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে পুরানো জ্বর উপশম হয়।
>>> এর পাতার ক্বাথ কোমরের বাতের ব্যথা উপশম করে।
>>> এর পাতার রস চিনির সাথে মিশিয়ে খেলে, কিশোর বয়সীদের ক্রিমি দূর হয়।
>>> এর ফুলের পাপড়ি বেটে, তার সাথে আদার রস মিশ্রিত করে খেলে জ্বরের আরাম হয়।
>>> এর বীজের গুঁড়া মাথায় ব্যবহার করলে খুসকি দূর হয়।
ঔষধবিজ্ঞান
Immunostimulant, Hepatoprotective, antileishmanial, Antiviral এবং Antifungal ঔষধ গুলো তৈরি করতে শিউলির বীজ, পাতা ও ফুল ব্যবহার করা হয়।
এর পাতা sciatica, arthritis, fevers, নানারকম যন্ত্রণাদায়ক সমস্যার চিকিৎসার জন্যে ঔষধ বা বড়ির মত করে আয়ুর্বেদিক ঔষধ তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়।
অন্যান্য ব্যবহার:
এই ফুল হলুদ রঙ তৈরী করতে ব্যবহার করা যায়। এই ফুলের বোঁটা গুলো শুকিয়ে গুঁড়ো করে পাউডার করে হালকা গরম পানিতে মেশালে চমৎকার রঙ হয়। শিউলি এর গুন!
[caption id="" align="alignleft" width="250"]
শিউলির ফল[/caption]
[caption id="" align="aligncenter" width="250"]
শিউলি ফুল ও গাছ[/caption]
শিউলি
জগৎ/রাজ্য: Plantae
বিভাগ: Magnoliophyta
শ্রেণী: Magnoliopsida
বর্গ: Lamiales
পরিবার: Oleaceae
গণ: Nyctanthes
প্রজাতি: N. arbor-tristis
দ্বিপদী নাম: Nyctanthes arbor-tristis
বাংলা ভাষায় – শিউলি বা শেফালি
সংস্কৃত : নালাকুমকুমাকা, হারসিঙ্গারাপুস্পক, সুকলাঙ্গি, রাজানিহাসা, মালিকা, অপরাজিতা, বিজয়া, নিসাহাসা, প্রহার্ষিনী, প্রভোলানালিকা, বাথারি, ভুথাকেশি, সীতামাঞ্জারি, সুবাহা, নিশিপুস্পিকা, প্রযক্তা, প্রযক্তি। ।
সীতামাঞ্জারি, সুবাহা, নিশিপুস্পিকা, প্রযক্তা, প্রযক্তি।
তামিল ভাষায় – পাভাঝা মাল্লি বা পাভালা মাল্লি
ওড়িয়া ভাষায় – গঙ্গা শিউলি
মনিপুরী ভাষায় - সিঙ্গারেই
অসমিয়া ভাষায় - শেওয়ালি (শেৱালি)
বাংলা সমনাম : শিউলি, শেফালি, শেফালিকা
বৈজ্ঞানিক নাম : Nyctanthes arbor-tristis
লাতিন Nyctanthes-এর অর্থ হচ্ছে “সন্ধ্যায় ফোটা” এবং arbor-tristis-এর মানে হচ্ছে “বিষণ্ন গাছ”। সন্ধ্যায় ফোটা আর সকালে ঝরা ফুলের মাঝে বিষণ্নভাবে দাঁড়িয়ে থাকাটাই এই রকম নামকরণের কারণ বলে ধারণা করা হয়। শিউলিকে কখনও কখনও "tree of sorrow" বা "দুঃখের বৃক্ষ"-ও বলা হয় কারণ দিনের আলোতে এই ফুল তাদের উজ্জ্বলতা হারায়।
শিউলিকে মাঝে মাঝে Nyctanthes arbortristis বা Nyctanthes arbor tristis নামেও উচ্চারণ করা হয়, যদিও সাধারণভাবে এটি শিউলি নামেই পরিচিত।
প্রচলিত নাম: Night-flowering Jasmine (নাইট ফ্লাওয়ার জেসমিন), Harsingar (হারসিঙ্গার), কোরাল জেসমিন, পারিজাত, শেফালিকা, পারিজাতা, পারিজাতাকা, রাগাপুস্পি, খারাপাত্রাকা, প্রজক্তা.
পরিচিতি: Oleaceae গোত্রের Nyctanthes গণের গুল্ম জাতীয় সুগন্ধি ফুলের উদ্ভিদ। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, মায়ানমার, থাইল্যান্ড এই গাছ প্রচুর জন্মে। এই ফুল পশ্চিমবঙ্গের ও থাইল্যান্ডের কাঞ্চনাবুরি প্রদেশের রাষ্ট্রীয় ফুল। শিউলি মাঝারি আকারের গাছ। ১৫ বা ১০ ফুট পর্যন্ত বড় হতে দেখা যায়। মোটামুটি অনেক দিন বাঁচে। তবে গাছের গোড়ায় পানি জমলে মরে যায়। বানে ডুবলে শিউলির মৃত্যু অনিবার্য। বাংলাদেশের প্রায় সবখানে এ গাছ জন্মে। উঁচু ঝোপ-জঙ্গলে এর বাড়-বৃদ্ধি একটু বেশি। বাগানের শোভার জন্য শিউলি আদর্শ গাছ। অল্প জায়গায়, দেয়ালের পাশ, উঠানের কাণে, বেড়ার পাশে এক চিলতে জায়গায় অনায়াসে বেড়ে ওঠে।
শিউলি ফুল: এই ফুলে পাঁচ থেকে সাতটি সাদা পাপড়ি থেকে। ফুলের মাঝে লালচে-কমলা টিউবের মত বৃন্তযুক্ত। ফুলে সুগন্ধ আছে। ফুলগুলি রাতে ফোটে এবং সকালে ঝরে যায়। শরৎ ও হেমন্ত কালের শিশির ভেজা সকালে ঝরে পড়া শিউলি দেখা যায়। এর ফল চ্যাপ্টা ও বাদামী হৃদপিণ্ডাকৃতির। ফলের ব্যাস ২ সেন্টিমিটার এবং এটি দুই ভাগে বিভক্ত। প্রতিটি ভাগে একটি করে বীজ থাকে। আশ্বিন-কার্তিক ফল ধরতে দেখা যায়। তবে শীতকালেই এই গাছের বেশি ফল দেখা যায়। শিউলির যে বৈজ্ঞানিক নামের দ্বিতীয় অংশ আববরট্রেসটিস, তার অর্থ বিষাদিনী তরু। আর প্রথম অংশ নিকটেনথাস গ্রিক শব্দ। মানে রাতের ফুল। ল্যাটিন শব্দ নিক্টান্থেস অর্থ সন্ধ্যায় ফোটা। আরবর-ট্রিসটিস হচ্ছে বিষণ গাছ। চোখ জোড়ানো সৌন্দর্য নিয়ে সন্ধ্যায় ফুল ফোটে তার পর অল্প সময় বাঁচে এবং সকাল হতেই ঝরে যায় বলে এমন নামকরণ। একই কারণে শিউলিকে বলা হয় ট্রি অব সরো।
শিউলি পাতা: শিউলি গাছ নরম ধূসর ছাল বা বাকল বিশিষ্ট হয়। লম্বায় ১০ মিটারের মত হয়। গাছের পাতা গুলো ৬-৭ সেন্টিমিটার লম্বা ও সমান্তরাল প্রান্তের বিপরীতমুখী থাকে। পাতার দণ্ডে লোম থাকে। পাতার আকার ডিম্বাকৃতির হয়। পাতার উপরের দিকটা সবুজ কিন্তু নিচের সাদাটে। অধিকাংশ পাতার প্রান্তদেশ অখণ্ডিত। পাতাগুলো বেশ খসখসে।
ঔষধী গুনাগুন:
>>> এর পাতা পিত্ত ও কফ নাশক।
>>> এর পাতা টাটকা রস মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে পুরানো জ্বর উপশম হয়।
>>> এর পাতার ক্বাথ কোমরের বাতের ব্যথা উপশম করে।
>>> এর পাতার রস চিনির সাথে মিশিয়ে খেলে, কিশোর বয়সীদের ক্রিমি দূর হয়।
>>> এর ফুলের পাপড়ি বেটে, তার সাথে আদার রস মিশ্রিত করে খেলে জ্বরের আরাম হয়।
>>> এর বীজের গুঁড়া মাথায় ব্যবহার করলে খুসকি দূর হয়।
ঔষধবিজ্ঞান
Immunostimulant, Hepatoprotective, antileishmanial, Antiviral এবং Antifungal ঔষধ গুলো তৈরি করতে শিউলির বীজ, পাতা ও ফুল ব্যবহার করা হয়।
এর পাতা sciatica, arthritis, fevers, নানারকম যন্ত্রণাদায়ক সমস্যার চিকিৎসার জন্যে ঔষধ বা বড়ির মত করে আয়ুর্বেদিক ঔষধ তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়।
অন্যান্য ব্যবহার:
এই ফুল হলুদ রঙ তৈরী করতে ব্যবহার করা যায়। এই ফুলের বোঁটা গুলো শুকিয়ে গুঁড়ো করে পাউডার করে হালকা গরম পানিতে মেশালে চমৎকার রঙ হয়।
শিউলি ফুল ও গাছ[/caption]
শিউলি
জগৎ/রাজ্য: Plantae
বিভাগ: Magnoliophyta
শ্রেণী: Magnoliopsida
বর্গ: Lamiales
পরিবার: Oleaceae
গণ: Nyctanthes
প্রজাতি: N. arbor-tristis
দ্বিপদী নাম: Nyctanthes arbor-tristis
বাংলা ভাষায় – শিউলি বা শেফালি
সংস্কৃত : নালাকুমকুমাকা, হারসিঙ্গারাপুস্পক, সুকলাঙ্গি, রাজানিহাসা, মালিকা, অপরাজিতা, বিজয়া, নিসাহাসা, প্রহার্ষিনী, প্রভোলানালিকা, বাথারি, ভুথাকেশি, সীতামাঞ্জারি, সুবাহা, নিশিপুস্পিকা, প্রযক্তা, প্রযক্তি। ।
সীতামাঞ্জারি, সুবাহা, নিশিপুস্পিকা, প্রযক্তা, প্রযক্তি।
তামিল ভাষায় – পাভাঝা মাল্লি বা পাভালা মাল্লি
ওড়িয়া ভাষায় – গঙ্গা শিউলি
মনিপুরী ভাষায় - সিঙ্গারেই
অসমিয়া ভাষায় - শেওয়ালি (শেৱালি)
বাংলা সমনাম : শিউলি, শেফালি, শেফালিকা
বৈজ্ঞানিক নাম : Nyctanthes arbor-tristis
লাতিন Nyctanthes-এর অর্থ হচ্ছে “সন্ধ্যায় ফোটা” এবং arbor-tristis-এর মানে হচ্ছে “বিষণ্ন গাছ”। সন্ধ্যায় ফোটা আর সকালে ঝরা ফুলের মাঝে বিষণ্নভাবে দাঁড়িয়ে থাকাটাই এই রকম নামকরণের কারণ বলে ধারণা করা হয়। শিউলিকে কখনও কখনও "tree of sorrow" বা "দুঃখের বৃক্ষ"-ও বলা হয় কারণ দিনের আলোতে এই ফুল তাদের উজ্জ্বলতা হারায়।
শিউলিকে মাঝে মাঝে Nyctanthes arbortristis বা Nyctanthes arbor tristis নামেও উচ্চারণ করা হয়, যদিও সাধারণভাবে এটি শিউলি নামেই পরিচিত।
প্রচলিত নাম: Night-flowering Jasmine (নাইট ফ্লাওয়ার জেসমিন), Harsingar (হারসিঙ্গার), কোরাল জেসমিন, পারিজাত, শেফালিকা, পারিজাতা, পারিজাতাকা, রাগাপুস্পি, খারাপাত্রাকা, প্রজক্তা.
পরিচিতি: Oleaceae গোত্রের Nyctanthes গণের গুল্ম জাতীয় সুগন্ধি ফুলের উদ্ভিদ। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, মায়ানমার, থাইল্যান্ড এই গাছ প্রচুর জন্মে। এই ফুল পশ্চিমবঙ্গের ও থাইল্যান্ডের কাঞ্চনাবুরি প্রদেশের রাষ্ট্রীয় ফুল। শিউলি মাঝারি আকারের গাছ। ১৫ বা ১০ ফুট পর্যন্ত বড় হতে দেখা যায়। মোটামুটি অনেক দিন বাঁচে। তবে গাছের গোড়ায় পানি জমলে মরে যায়। বানে ডুবলে শিউলির মৃত্যু অনিবার্য। বাংলাদেশের প্রায় সবখানে এ গাছ জন্মে। উঁচু ঝোপ-জঙ্গলে এর বাড়-বৃদ্ধি একটু বেশি। বাগানের শোভার জন্য শিউলি আদর্শ গাছ। অল্প জায়গায়, দেয়ালের পাশ, উঠানের কাণে, বেড়ার পাশে এক চিলতে জায়গায় অনায়াসে বেড়ে ওঠে।
শিউলি ফুল: এই ফুলে পাঁচ থেকে সাতটি সাদা পাপড়ি থেকে। ফুলের মাঝে লালচে-কমলা টিউবের মত বৃন্তযুক্ত। ফুলে সুগন্ধ আছে। ফুলগুলি রাতে ফোটে এবং সকালে ঝরে যায়। শরৎ ও হেমন্ত কালের শিশির ভেজা সকালে ঝরে পড়া শিউলি দেখা যায়। এর ফল চ্যাপ্টা ও বাদামী হৃদপিণ্ডাকৃতির। ফলের ব্যাস ২ সেন্টিমিটার এবং এটি দুই ভাগে বিভক্ত। প্রতিটি ভাগে একটি করে বীজ থাকে। আশ্বিন-কার্তিক ফল ধরতে দেখা যায়। তবে শীতকালেই এই গাছের বেশি ফল দেখা যায়। শিউলির যে বৈজ্ঞানিক নামের দ্বিতীয় অংশ আববরট্রেসটিস, তার অর্থ বিষাদিনী তরু। আর প্রথম অংশ নিকটেনথাস গ্রিক শব্দ। মানে রাতের ফুল। ল্যাটিন শব্দ নিক্টান্থেস অর্থ সন্ধ্যায় ফোটা। আরবর-ট্রিসটিস হচ্ছে বিষণ গাছ। চোখ জোড়ানো সৌন্দর্য নিয়ে সন্ধ্যায় ফুল ফোটে তার পর অল্প সময় বাঁচে এবং সকাল হতেই ঝরে যায় বলে এমন নামকরণ। একই কারণে শিউলিকে বলা হয় ট্রি অব সরো।
শিউলি পাতা: শিউলি গাছ নরম ধূসর ছাল বা বাকল বিশিষ্ট হয়। লম্বায় ১০ মিটারের মত হয়। গাছের পাতা গুলো ৬-৭ সেন্টিমিটার লম্বা ও সমান্তরাল প্রান্তের বিপরীতমুখী থাকে। পাতার দণ্ডে লোম থাকে। পাতার আকার ডিম্বাকৃতির হয়। পাতার উপরের দিকটা সবুজ কিন্তু নিচের সাদাটে। অধিকাংশ পাতার প্রান্তদেশ অখণ্ডিত। পাতাগুলো বেশ খসখসে।
ঔষধী গুনাগুন:
>>> এর পাতা পিত্ত ও কফ নাশক।
>>> এর পাতা টাটকা রস মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে পুরানো জ্বর উপশম হয়।
>>> এর পাতার ক্বাথ কোমরের বাতের ব্যথা উপশম করে।
>>> এর পাতার রস চিনির সাথে মিশিয়ে খেলে, কিশোর বয়সীদের ক্রিমি দূর হয়।
>>> এর ফুলের পাপড়ি বেটে, তার সাথে আদার রস মিশ্রিত করে খেলে জ্বরের আরাম হয়।
>>> এর বীজের গুঁড়া মাথায় ব্যবহার করলে খুসকি দূর হয়।
ঔষধবিজ্ঞান
Immunostimulant, Hepatoprotective, antileishmanial, Antiviral এবং Antifungal ঔষধ গুলো তৈরি করতে শিউলির বীজ, পাতা ও ফুল ব্যবহার করা হয়।
এর পাতা sciatica, arthritis, fevers, নানারকম যন্ত্রণাদায়ক সমস্যার চিকিৎসার জন্যে ঔষধ বা বড়ির মত করে আয়ুর্বেদিক ঔষধ তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়।
অন্যান্য ব্যবহার:
এই ফুল হলুদ রঙ তৈরী করতে ব্যবহার করা যায়। এই ফুলের বোঁটা গুলো শুকিয়ে গুঁড়ো করে পাউডার করে হালকা গরম পানিতে মেশালে চমৎকার রঙ হয়। 1 টি মন্তব্য
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।
গোলামে মাদানী আক্বা