অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ:
শব্দদূষণ মারাত্মক ঘাতক।
শুধু নীতিমালা নয়, জরুরীভিত্তিতে সরকারকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
*******************************************************************************
সব ছানা-ছিফত খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; এমন ছানা-ছিফত যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। অপরিসীম, অকৃত্রিম, অগণিত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি; এমন পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক যা তিনি পছন্দ করেন।
শব্দদূষণ ৩০টি রোগের কারণ। শব্দদূষণের ফলে শ্রবণ শক্তি, কার্যক্ষমতা কমে যায়, মানসিক অশান্তি এবং ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। অথচ নগর জীবনের অধিকাংশ সময় আমাদের অসহনীয় শব্দের সঙ্গে বাস করতে হচ্ছে।
শব্দদূষণের ফলে উচ্চমাত্রার শব্দ শ্রবণশক্তি হ্রাস ও শরীরের রক্তচাপ বৃদ্ধি করে, হৃদযন্ত্রের কম্পন বাড়িয়ে দেয়, হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত করে, গোশতপেশীর খিঁচুনি সৃষ্টি করে এবং সর্বোপরি শিশুদের বেড়ে উঠা বাধাগ্রস্ত করে।
গত ২৩ এপ্রিল-২০১৬ ইয়াওমুস সাব্ত (শনিবার) থেকে ঢাকা শহরের ১০টি স্থানে একযোগে শব্দের মাত্রা পরিমাপ কার্যক্রম চালু হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী রাতে শব্দের মানমাত্রা সর্বনিম্ন ৪০ ডেসিবল এবং সর্বোচ্চ ৭৫ ডেসিবল নির্ধারণ করা হয়েছে।
সে হিসেবে শব্দের মাত্রা পরিমাপ করে দেখা যায়, ঢাকায় নির্ধারিত মানমাত্রার চেয়ে প্রায় দেড়গুণ শব্দ সৃষ্টি হচ্ছে।
ঢাকা শহরে যেভাবে শব্দদূষণ বেড়ে চলেছে তাতে এ শহরের অর্ধেক মানুষের শ্রবণ ক্ষমতা আগামী ২০১৭ সালের মধ্যে ৩০ ডেসিবেল পর্যন্ত কমে যাবে। এর প্রতিকারের জন্য চাই আত্মসচেতনতা। শুধু রাজধানী ঢাকাই নয়; দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরের চিত্র এক্ষেত্রে প্রায় অভিন্ন। যার ফলে পরবর্তী প্রজন্ম হারাতে বসেছে শ্রবণশক্তি। শুধু শ্রবণশক্তিই নয়, শব্দদূষণের কারণে উচ্চ রক্তচাপ, মাথাধরা, অজীর্ণ, পেপটিক আলসার, অনিদ্রা ও ফুসফুসের প্রদাহসহ নানা রকম মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত শব্দদূষণে শিশুদের বুদ্ধিমত্তা নষ্ট হয়, সন্তানসম্ভবা মায়েদের যেকোনো ধরনের উচ্চ শব্দ মারাত্মক ক্ষতিকর। শুধু তাই নয়, যানবাহনের শব্দদূষণ স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ায় বহুমাত্রায়। রাজধানী ঢাকার শব্দদূষণের ভয়াবহ চিত্র সত্যিই আতঙ্কজনক। সারা বিশ্বে এপ্রিল মাসের শেষ ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পালিত হয় কথিত ‘আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস’।
রাস্তায় বেরুলেই দেখা যায় এই শব্দদূষণের এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা। রিক্সা ওভারটেক করতে চায় বাসকে, বাস ওভারটেক করতে চায় প্রাইভেট কারকে, প্রাইভেট কার ওভারটেক করতে চায় এ্যাম্বুলেন্সকে। আর এসব প্রতিযোগিতায় ভোঁ ভ্যাঁ প্যাঁ পুঁ শব্দে হর্ণ বাজানো অস্ত্র হিসেবে কাজ করে।
শব্দদূষণের কারণে আগামী প্রজন্ম মানসিক ও দৈহিকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছে বিশেষজ্ঞরা।
গত ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) (২৭ এপ্রিল-২০১৬) পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস উপলক্ষে ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক কর্মসূচি’ শীর্ষক এক আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা এ আহ্বান জানায়।
জানা গেছে, ঢাকা শহরের শব্দদূষণ কমাতে না পারলে লাখ লাখ শিশু শ্রবণ প্রতিবন্ধী হয়ে বড় হবে।
শব্দদূষণের ভয়াবহ ক্ষতির হাত থেকে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। যেখানে শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া আছে কিন্তু এ মাত্রা কোথাও মানা হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস আসলে অর্থাৎ প্রতিবছর এপ্রিল মাসের শেষ ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) দিবসটি ঘরোয়াভাবে পালন এবং শব্দদূষণ বিরোধী একটা নীতিমালা প্রণয়ন ছাড়া তেমন কোনো সরকারি উদ্যোগ দেখা যায় না। শব্দদূষণের মাত্রা যে পর্যায়ে যাচ্ছে, তাতে শিল্প-কারখানা, পরিবহন এবং সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে শব্দের সুনির্দিষ্ট তীব্রতা সম্পর্কিত আরো স্পষ্ট ও শক্তিশালী আইন প্রণয়ন এবং তার কঠোর প্রয়োগ দরকার। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ প্রয়োজন।
এক্ষেত্রে আমরা মনে করি, ‘শব্দদূষণের উৎসসমূহ বন্ধ করার পাশাপশি আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। সকলকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। সরকার শব্দদূষণ রোধে বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আমাদের বিশ্বাস- এই কর্মসূচির মাধ্যমে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে একধাপ এগিয়ে যাওয়া যাবে। শব্দদূষণের মতো এই মারাত্মক ঘাতক থেকে জনসাধারণকে রক্ষা করতে শিক্ষপ্রতিষ্ঠানসহ মসজিদের খতীব, ইমাম, মাদরাসার শিক্ষকসহ সর্বস্তরের জনগণের সচেতন হওয়া উচিত এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করা উচিত।
মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ অনন্তকালব্যাপী পালন করার ইলম ও জজবা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারকেই কেবলমাত্র সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। আর ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম দিচ্ছেন অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার মহামহিম নিয়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।