অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ :
বহুজাতিক কোম্পানীর স্বার্থ রক্ষার জন্যই কৃষিক্ষেত্রে কীটনাশকের অসম ও অতিরিক্ত ব্যবহার হচ্ছে।
ফসল ও খাবার হয়ে উঠছে মারাত্মক বিষ।
জনগণকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে কীভাবে?
| সমস্ত প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক। দেশের কৃষিব্যবস্থায় বিশেষ ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। একদিকে যেনতেন প্রকারে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে বিদেশী কোম্পানীর হাইব্রিড ও জিএমও বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থা এবং কৃষকদের বিদেশী এগ্রো-কেমিক্যাল কোম্পানীর হাতে জিম্মি করে ফেলা হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ ও বাছ-বিচারহীনভাবে রাসায়নিক সার, পেস্টিসাইড, ফাঙ্গিসাইড, হার্বিসাইড তথা বিষ ব্যবহারের মাধ্যমে মাটি, পানি, বাতাস, পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। জানা গেছে, ব্যবহারের আগে বা পরের পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা মূল্যায়ন ছাড়াই বর্তমানে বাংলাদেশে ৪,২০০’র বেশি ব্রান্ডের নানাজাতের কীটনাশক আমদানী ও ব্যবহার হচ্ছে। কৃষিখাতে ব্যবহৃত কীটনাশক আমদানী ও ব্যবহারের অনুমোদনের পূর্বে কৃষি বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ অধিদফতরসহ বিভিন্ন সংস্থার তরফ থেকে এমআরএল (মেক্সিমাম রেসিডিউ লিমিট) টেস্টিং বা পরিবেশের উপর এর প্রভাবের মাত্রা নিরূপণ একটি অনিবার্য বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। কিন্তু এখানে হাজার হাজার ব্রান্ডের কীটনাশক ও রাসায়নিক কৃষি উপকরণ আমদানী ও ব্যবহার হচ্ছে কোনো রকম এমআরএল টেস্ট ছাড়াই। দেশের কোটি কোটি মানুষ ইতোমধ্যেই নানা রকম স্বাস্থ্য জটিলতার শিকার হয়ে পড়েছে। মাটি দূষণের ফলে আমাদের খাদ্যচক্রে মারাত্মক বিষ ঢুকে পড়েছে। এছাড়া দেশে খাদ্য নিরাপত্তা আইন বলবৎ বা কার্যকর না থাকা এবং নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দফতরের প্রয়োজনীয় তদারকি না থাকায় প্রিজারভেটিভের নামে, এডিটিভের নামে, ফরমালিনসহ নানা রকম রাসায়নিক উপাদানের লেবেলে প্রতিটি খাদ্যপণ্যে মিশ্রিত হচ্ছে বিষ। এর ফলে কোটি মানুষ কিডনী সমস্যা, নানা ধরনের ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ, পরিপাকতন্ত্রের নানা জটিলতার শিকার হচ্ছে। কীটনাশক আকারে অপরীক্ষিত উচ্চমাত্রার রাসায়নিক বিষ ফসলি জমিতে যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে অল্পদিনের মধ্যে মাটির উর্বরতা যেমন নষ্ট হচ্ছে, একইভাবে হাজার হাজার টন কীটনাশক বৃষ্টি ও বর্ষার পানির সাথে মিশে দেশের নদ-নদী ও নীরাশয়ের পানির গুণাগুণ নষ্ট করে দিচ্ছে। এর ফলে ইতোমধ্যেই অনেক প্রকার দেশীয় মাছ এবং পোকা-মাকড়ের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। কৃষি বিজ্ঞানীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, কীটনাশক ক্ষেতে প্রয়োগের পর সবজি ২১ দিনের মধ্যে রান্না করে খেলে শরীরে নানা প্রকারের রোগ-ব্যাধি দেখা দেবে। এছাড়া সবজিক্ষেতে অনুমোদনপ্রাপ্ত কীটনাশক প্রয়োগের পরও কমপক্ষে এক সপ্তাহের পূর্বে ক্ষেত থেকে তুলে তা বিক্রি না করা এবং না খাওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। অথচ কীটনাশক ব্যবহারের পরদিনই কৃষকরা জমি থেকে সবজি তুলে বাজারে বিক্রি করে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সামনেই প্রকাশ্যে এসব রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করলেও সেদিকে ওই কর্মকর্তাদের কোনো নজরদারি নেই। বর্তমানে দেশে ৯২টি রাসায়নিক গ্রুপের ২ হাজারের অধিক নামে কীটনাশক রয়েছে। দেশে গত ১০ বছরে যেভাবে কীটনাশকের ব্যবহারের বেড়েছে, তাতে গভীর উদ্বেগের বিষয়। ১৯৯৯ সালে দেশে ১৪ হাজার ৩৪০ টন পেস্টিসাইড ব্যবহার হতো। ২০১৪ সালে সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, বর্তমানে পেস্টিসাইডের ব্যবহার বেড়েছে ৫ গুণ বেড়ে ৬০ হাজার টনের উপরে। প্রসঙ্গত আমরা মনে করি কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করা না করা প্রশ্নটা আসেব যদি কীটনাশক আসলে প্রয়োজন থাকত তাহলে এর ব্যবহার হত। কিন্তু আসলে যারা কীটনাশক ব্যবহার করছেন তারা কীটনাশক প্রয়োজনের জন্য করছেন না তারা করছেন কীটনাশক ব্যবসার জন্য। কীটনাশক কোম্পানীগুলো কৃষি কাজের ক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে বহুজাতিক কোম্পানীগুলো যারা উন্নত প্রযুক্তির নিয়ে আসছে তারা কখনই কৃষির সাথে সম্পৃক্ত ছিলনা। তারা ছিল মুলত কীটনাশক কোম্পানী। ফলে তারা তাদের ব্যবসার প্রয়োজনে এই কাজটা করছে। আমরা কীট দমন বা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলতে পারি এবং সেটার জন্য কৃিষতে কৃষকদের জ্ঞান সমৃদ্ধ, অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার অনেক পদ্ধতি আছে। কীট দমনের জন্য যে কীটনাশকই ব্যবহার করতে হবে এমন না। প্রশ্ন হচ্ছে- কীটনাশক ব্যবহার করে উৎপাদন বেশি করে মানুষকে কী রক্ষা করা যাচ্ছে? ভেজাল খাদ্য গ্রহনের ফলে এখন যে পরিমাণ রোগ বাড়ছে যেমন- ক্যান্সার থেকে শুরু করে, নানা রকম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এখন সংখ্যাটা যদি সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে কী বিষ দিয়ে মানুষকে মেরে ফেলতে চাওয়া হচ্ছে? অথচ বাংলাদেশে যে জনসংখ্যা তার চেয়ে বহুগুণ বেশি ফসল হয়। কাজেই জনসংখ্যা বেশি সেটা সমস্যা না। আসলে আমাদের দেশে যে কৃষি নীতি আছে সেটা বহুজাতিক কোম্পানীর স্বার্থ রক্ষার জন্যই করা হচ্ছে। এখানে মানুষের সংখ্যাটা অজুহাত মাত্র। উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বের ২৬টি দেশের ২ কোটি ৫০ লাখ হেক্টর জমিতে জৈবিক উপায়ে কৃষিপণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোও এদিক থেকে পিছিয়ে নেই; কারণ সেখানেও কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিকের ব্যবহার বাদ দিয়ে শুধুমাত্র জৈবিক পদ্ধতির চাষাবাদের আওতায় এসেছে প্রায় ২ কোটি হেক্টর কৃষি জমি। আমরা মনে করি, আমাদের দেশেও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে এনে জৈবিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। মূলত, সব সমস্যা সমাধানে চাই সদিচ্ছা ও সততা। এই সততা ও সদিচ্ছা আসে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ অনন্তকালব্যাপী পালন করার ইলম, চেতনা ও জজবা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারকেই কেবলমাত্র সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। আর ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম দিচ্ছেন অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মহামহিম নিয়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন) |
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।