অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ :
ধুমপান রোধে প্রচলিত প্রচারণার ব্যার্থতার বিপরীতে
৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের জন্য ইসলামী মূল্যবোধের প্রচারণা পরিপূর্ণ ফলপ্রসূ হবে।
| সব ছানা-ছিফত খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। এমন ছানা-ছিফত যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। অপরিসীম, অকৃত্রিম, অগণিত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। এমন পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক, যা তিনি পছন্দ করেন। শুধুমাত্র তামাক সেবনের কারণে দেশে প্রতিবছর ৫৭ হাজার মানুষ মারা যায় বলে সম্প্রতি রিপোর্ট হয়েছে দৈনিক আল ইহসান শরীফ উনার মধ্যে। একই কারণে ৩ লাখ ৮৩ হাজার মানুষকে পঙ্গুত্ববরণ করতে হচ্ছে। কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ২ কোটি মানুষ। তামাকের মধ্যে ৪ হাজারের বেশি উপাদান রয়েছে, যা মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এসবের মধ্যে ৬০টির বেশি উপাদান থেকে ক্যান্সার হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৯৫ সালের মে মাসে জেনেভায় অনুষ্ঠিত ৪৮তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে সারাবিশ্বে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে একটি আন্তজার্তিক স্বাস্থ্যচুক্তি প্রণয়নের প্রস্তাব (১১নং প্রস্তাব) গৃহীত হয়। যার ফলশ্রুতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৯২টি সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সম্মতিতে ২০০৩ সালের মে মাসে ৫৬তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে এই প্রথম আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য চুক্তি ‘ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি)’ অনুমোদন হয়। ১৬ জুন ২০০৩ সালে বাংলাদেশ এই চুক্তিতে প্রথম স্বাক্ষর করে। এতদসত্ত্বেও সরকার জনস্বাস্থ্যের ২০০৫ সালে ধূমপান ও তামাকজাতদ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণয়ন করে। ২০১৫ সালে সংশোধিত আইনের বিধিও প্রণয়ন করা হয়। ২০১৩ সালে সংশোধিত আইনে ৩০%-এর স্থলে ৫০% জায়গাজুড়ে ধোঁয়াযুক্ত ও ধোঁয়াবিহীন তামাকজাতদ্রব্যের প্যাকেটে মোট ৯টি সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রতি ৩ মাস অন্তর অন্তর পর্যায়ক্রমে মুদ্রণের বিধান আরোপ করা হয়। এর পেছনে বলা হয়েছে- “একটি ছবি হাজার শব্দের চেয়েও শক্তিশালী। নাঊযুবিল্লাহ! সিগারেটের প্যাকেটে ছবিসহ সতর্কবাণী প্রদানের ফলে হয়তো অনেক মানুষেরই জীবন রক্ষা পাবে। নাউযুবিল্লাহ! বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক যারা লিখতে পড়তে জানে না বা নিরক্ষর তাদের জন্য এ ছবি অধিক কার্যকর হবে। নাউযুবিল্লাহ! আবার লিখতে পড়তে জানে তাদের জন্যও এ ছবি ক্ষতিকর দ্রব্য হিসেবে সচেতনতা সৃষ্টিতে সহায়তা করবে।” নাউযুুবিল্লাহ! অপরদিকে আইনে বলা হয়েছে, তামাকজাতদ্রব্যের প্যাকেটে ৫০% জায়গাজুড়ে চার রঙের নির্দিষ্ট ফন্ট ও সাইজে যে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদানের বিধান রয়েছে, এ বিধান সংশ্লিষ্ট তামাক কোম্পানিগুলো মুদ্রণ নিশ্চিত করবে। নাঊযুবিল্লাহ! মনগড়া আইন প্রণয়নকারীদের ভ্রান্ত দাবি, ‘তামাকের ব্যবহার নিরুৎসাহিতকরণে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর গুরুত্ব সারাবিশ্বে স্বীকৃত। গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক এক প্যাকেট সিগারেট ব্যবহারকারী একজন ধূমপায়ী সিগারেট কেনা ও ব্যবহার করার সময় দিনে কমপক্ষে ২০বার, বছরে ৭০০০বার সিগারেটের প্যাকেটে ছাপানো ছবি দেখে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! অর্থাৎ এটি এমন একটি কার্যকর এবং সরকারের জন্য সাশ্রয়ী পন্থা, যা তামাক ব্যবহারের সময় প্রতিবারই ব্যবহারকারীকে তামাকের ক্ষতি সম্পর্কিত বার্তা প্রদান করতে থাকে। একই সাথে এ সচিত্র প্যাকেটটি বহন করে তার বাসায় নিলে তার পরিবারের লোকজনও বিশেষ করে কিশোর, শিশু এবং যুবক বয়সের ছেলেমেয়েরাও জীবনের প্রথম ধাপেই এ বিষয়ে সতর্ক হবে।’ নাউযুবিল্লাহ! প্রসঙ্গত বলতে হয় যে, তামাক থেকে বিরত থাকার জন্য এতসব প্রচারণার পরও কিন্তু বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের পরিমাণ কমেনি। সঙ্গতকারণেই ৯৮ ভাগ মুসলমান জনগোষ্ঠীর দেশে সমসাময়িক প্রচার বাণী এক কথায় মানুষের সাবধান বাণী দিয়ে সতর্ক করা অসম্ভব। তার বিপরীতে ইসলামী অনুসাসন ব্যক্ত করেই ব্যক্তিকে উন্নত করা সম্ভব। সাধারণ মুসলমান অবগত আছেন যে, কাঁচা-পেঁয়াজ-রসুন খাওয়া মাকরূহে তানযীহী। আর তা খেয়ে মসজিদে যাওয়া মাকরূহ তাহরীমী। পক্ষান্তরে ধূমপান করা মাকরূহে তাহরীমী হচ্ছে আম ফতওয়া। আর খাছ ফতওয়া হচ্ছে হারাম আর তা খেয়ে মসজিদে প্রবেশ করাও কাট্টা হারাম। উল্লেখ্য, এই হারাম আমলটি জাহান্নামীদের সাথেও সাদৃশ্য করে তোলে। কারণ ধূমপানের অনুষঙ্গ আগুন। আর জাহান্নামীদেরও সাথী আগুন। পাশাপাশি ধূমপান বিধর্মীদের থেকেই প্রচলিত হওয়ায় তা তাদের সাথেও একাত্মতা প্রমাণ করে। অপরদিকে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, অপব্যয়কারী শয়তানের ভাই। আর ধূমপানে হাজার হাজার কোটি টাকা অপব্যয় হয়। শুধু তাই নয়, পাশাপাশি তা লাখ লাখ লোকের করুণ মৃত্যুর কারণ হয়। সুতরাং যেকোনো মূল্যেই ধূমপান থেকে সবারই বিরত হওয়া উচিত। মূলত, এসব ইসলামী অনুভূতি ও প্রচার এক সময় জোরদার ছিল। কিন্তু ইদানীংকালে ধর্মব্যবসায়ীদের নিষ্ক্রিয়তা সে মূল্যবোধকে নিস্তেজ করে দিয়েছে। বলাবাহুল্য, ধূমপানের ক্ষেত্রেও যে বিষয়টি সুস্পষ্ট প্রতিফলিত হয়েছে তা শুধু আইন করে সংস্কার করা সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার মূল্যবোধ তথা ইসলামী অনুভূতির প্রতিফলন। শুধুমাত্র পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যেই রয়েছে তামাক তথা মাদকবিরোধী অকাট্য বিধান মুবারক। সুতরাং তমাকের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হলে সরকারকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিধানের দিকেই ধাবিত হতে হবে। মূলত, যাবতীয় সমস্যা সমাধানে চাই সদিচ্ছা ও সক্রিয়তা তথা সততা। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন নেক ছোহবত মুবারক, নেক সংস্পর্শ মুবারক তথা রূহানী ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা পাওয়া সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন) |
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।