অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণÑ
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে নিত্যপণ্যের সঙ্গে ঝুঁকিতে পড়বে প্রবৃদ্ধি।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় যেখানে ২ টাকা করা সম্ভব ছিল, সেখানে ৭ টাকার দায়ভার আমরা কেন নেবো?
| সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সব সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক। বর্তমান সরকারের এই সাড়ে ৬ বছরের শাসনামলে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হয়েছে ৮বার এবং গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হয়েছে ৩বার। এবার গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে বিদ্যুতের দাম ৯ বার ও গ্যাসের মূল্য ৪ বার বৃদ্ধি করা হবে। অথচ বিশ্ববাজারে অনেক দিন থেকেই জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী। দেশীয় বাজারেও ফার্নেস অয়েলের দাম কমানো হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুতের দাম কমার কথা। তবে দাম না কমিয়ে উল্টো সরকার বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে সংবাদ মাধ্যমে। এদিকে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা গত সপ্তাহে বিতরণ কোম্পানিগুলো আবার গ্যাসের দাম বাড়ানোরও প্রস্তাব দিয়েছে। অথচ গত আগস্ট মাসেই এক দফা বাড়ানো হয়েছে গ্যাসের দাম। সত্যি সত্যি যদি এ সময় আরেক দফা গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয় তাহলে তা সাধারণ জনজীবনে নাভিশ্বাস তুলবে। গ্রাহকদের কথা একেবারেই বিবেচনায় না নিয়ে খেয়ালমতো গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে যাওয়া কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের কাজ হতে পারে না। গ্যাস এবং বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির ফলে জনগণের দুঃখ ও দুর্দশা আরো বাড়বে। গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য আরো বৃদ্ধি পাবে। সকল পণ্যের পরিবহন খরচ ও উৎপাদন খরচ বাড়বে। বাড়িভাড়া, যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধি পাবে। ফলে মানুষের জীবন যাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়বে। কৃষক, শ্রমিক, চাকরিজীবীসহ সীমিত আয়ের লোকদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করবে। গ্যাস ও বিদ্যুতের এ মূল্যবৃদ্ধির ফলে সকল স্তরের জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কুইক রেন্টালের নামে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সরকারী আশীর্বাদপুষ্টরাই কেবল লাভবান হবে। উল্লেখ্য, গ্যাস থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় এক টাকারও কম। একই পরিমাণ অর্থাৎ এক ইউনিট বিদ্যুৎ যখন জ্বালানি তেল ব্যবহার করে উৎপাদন করা হয়, তখন খরচ হয় ১৫ থেকে ১৮ টাকা। আবার জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র যদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা করে নির্মাণ করা হয়, তাহলে যে ব্যয় হবে, তা বেসরকারি ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের খরচের তিন-চার বছরের ব্যয়ের সমান। সুতরাং স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সরকারের পরিকল্পনা জাতীয় স্বার্থে কার্যকর। আওয়ামী সরকার ২০১০ সালে দায়মুক্তি বিল পাস করে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সব কিছুকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থাপন করে। তারপর থেকেই শুরু বিদ্যুৎ খাতে কিছু গোষ্ঠীর দ্রুত মুনাফার স্বার্থে আত্মঘাতী দুর্নীতির নানা প্রকল্প; যদিও বন্ধ গ্যাস কূপের উত্তোলনসহ গ্যাস খাতে কিছু নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। কিন্তু তা না করে- ১. গ্যাসের সরবরাহ আরো বাড়ানো সম্ভব ছিল, ২. যে পরিমাণ গ্যাস দিয়ে বর্তমানে যতটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে, সেখানে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব ছিল। এছাড়া বেশ কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎপ্ল্যান্ট নবায়ন ও মেরামতের অভাবে প্রায়ই অচল হয়ে থাকছে। এই দুটি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ মোটেও ব্যয়সাপেক্ষ ছিল না। বরং এ উদ্যোগ যথাযথ পরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রহণ করলে সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১৭০০ মেগাওয়াট বাড়তি বিদ্যুৎ পাওয়া যেত। কিন্তু সরকার এ পদক্ষেপ গ্রহণ না করে দেশের বিদ্যুৎ খাতকে অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। সরকার বেসরকারি ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র চুক্তি করার মাধ্যমে দেশের সব মানুষকে ঋণের জালে জড়িয়ে ফেলছে; যদিও এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও কম হচ্ছে। ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ৩০০ শতাংশের বেশি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রশ্ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় যেখানে ২ টাকা করা সম্ভব ছিল, সেখানে ৭ টাকার দায়ভার আমরা কেন নেব? উল্লেখ্য, সরকার যদি রেন্টাল, কুইক রেন্টাল বিষয়ে নেয়া তার ভুল সিদ্ধান্ত বাতিল করে বিদ্যুৎ খাত বিকাশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতো, তাহলে বিদ্যুতের দাম কমানো সম্ভব ছিল। কিন্তু সরকার উল্টো ১. দায়মুক্তি বিলের মেয়াদ সম্প্রসারণ করেছে অনির্দিষ্টকাল, ২. কুইক রেন্টাল বিদ্যুতের মেয়াদ বাড়িয়েছে ২০২১ সাল পর্যন্ত, ৩. বিভিন্ন ব্যবসায়ী গোষ্ঠী কুইক রেন্টালের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করা সত্ত্বেও ভাড়া বাবদ ঋণ শোধ করে, সময়মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন না করে তার ধার্যকৃত জরিমানা মওকুফ করেছে। এছাড়া নানাবিধ আর্থিক সুবিধা প্রদান করেছে। এসবের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির চাপ অযথাই বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু এর আগে ৬বার বিদ্যুতের দাম বাড়ার কারণে মানুষ বিদ্যুৎ খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করলেও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সেই টাকা ব্যবহৃত হচ্ছে না। টাকা চলে যাচ্ছে কুইক রেন্টালের কিছু ব্যবসায়ী ও কমিশনভোগী সরকারি ব্যক্তিদের কাছে। অবস্থাদৃষ্টে যে কেউ সঙ্গতকারণেই ধারণা করতে পারে, বিদ্যুৎ বিভাগে চরম দুর্নীতি গাফিলতি ও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় স্বার্থান্বেষী মহলের চরম লুটপাট চলছে। এতে বিপত্তি ঘটায় খেসারত দিতে হচ্ছে জনগণকে। এটা চলতে পারে না। চলতে দেয়া যায় না। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক, তোমরা তোমাদের রক্ষিত বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।” সুতরাং পবিত্র হাদীছ শরীফ অনুযায়ী সরকার জনগণের রক্ষক। জনগণ সরকারের কাছে সর্বোচ্চ সেবা, সুযোগ-সুবিধা আশা করে। শোষণ, নিপীড়ন থেকে পরিত্রাণ আশা করে। এখন যদি সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়ায়, তাহলে জনগণ আরো শোষণ, নিপীড়ন, ভোগান্তির শিকার হবে। ফলে সরকারকে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে কঠিন জবাবদিহি করতে হবে। মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয, তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম দিচ্ছেন অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার মহামহিম নিয়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন) |
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।