অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ-
কমিশন বাণিজ্যের মহামারি রোগে আক্রান্ত দেশের চিকিৎসকরা; এর নেই কোনো চিকিৎসা।
অথচ নিম্নমানের ওষুধ গ্রহণ আর অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষায় প্রতারণার শিকার হচ্ছে রোগীরা। আক্রান্ত হচ্ছে জটিল রোগে।
******************************************************************************
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো চিকিৎসা। কিন্তু দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় চলছে সীমাহীন নৈরাজ্য। মানবসেবা নিশ্চিত করার শপথ নিয়ে চিকিৎসক সমাজ এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষকে অসহায় গিনিপিগে পরিণত করার মাধ্যমে লাগামহীনভাবে চলছে ডাক্তারদের কমিশন বাণিজ্য। তাই সাধারণ মানুষ চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসার নামে হচ্ছে প্রতারণার শিকার।
রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তাররা এ কমিশন বাণিজ্যে জড়িত। প্রেসক্রিপশনে নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধের নাম লেখা, বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করতে পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম বলে দেয়া এবং সরকারি হাসাপাতালের রোগীকে বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠিনো যেন অধিকাংশ চিকিৎসকের সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রোগীকে চিকিৎসকদের দেয়া প্রেসক্রিপশন নিয়ে মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভদের গলাবাজিতে নিম্নমানের ওষুধও খাঁটি হয়ে যায়। তাদের লোভনীয় কমিশন ও উপহার পেয়ে স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলে অনেক চিকিৎসক। কোম্পানি ও মান ভুলে গিয়ে অনেক চিকিৎসক রোগীদের প্রেসক্রিপশনে তুলে দিচ্ছে নিম্নমানের ওষুধের নাম। রোগীদের অবস্থা নিয়ে ভাবা হয় না। নিম্নমানের ওষুধ খেয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার হয় অনেক রোগী। এতে প্রলোভিত চিকিৎসকের বাণিজ্যিক মানসিকতার খপ্পরে পড়ে অনেক রোগী করুণভাবে মৃত্যুবরণ করছে। তারপরও প্রতিদিনই কমিশনের নামে মোটা অঙ্কের টাকা পকেটস্থ করছে এক শ্রেণীর চিকিৎসকরা।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ মোট বিলের ১৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে। পাশাপাশি কমিশন হিসেবে ডাক্তাররা পাচ্ছে ইলেক্ট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য, দামি মোবাইলফোন সেট, বাড়ি নির্মাণ সামগ্রী, জুয়েলারি সামগ্রী ও বিভিন্ন তৈজসপত্র। এমনকি চিকিৎসকদের সপরিবারে বিদেশ ভ্রমণের ব্যবস্থাও করে কোনো কোনো ওষুধ কোম্পানি। এছাড়া ‘কমিশন’-এর অংশ হিসেবে চিকিৎসকদের সংগঠনের সায়েন্টিফিক সেমিনার, এজিএমসহ (বার্ষিক সাধারণ সভা) বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ‘স্পন্সর’ হয় ওষুধ কোম্পানিগুলো।
তাদের এসব লেনদেন ‘কমিশন বাণিজ্য’ হিসেবে সবার কাছে ব্যাপক পরিচিত। যার খেশারত দিতে হচ্ছে সাধারণ রোগীকে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকরা যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কমিশন গ্রহণ করে, তারা প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে ওইসব প্রতিষ্ঠানের সেবা ও পণ্য গ্রহণে রোগীকে বাধ্য করে। ডাক্তাররা এখন প্রেসক্রিপশনে যে ওষুধের নাম লেখে, সে ওষুধ অনুসরণ করাটা আদেশতুল্য হয়ে উঠেছে। একই ওষুধ বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন দামে বিক্রি করছে। ডাক্তাররা ওষুধ কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে অনৈতিক উৎকোচ নিয়ে অখ্যাত কোম্পানির মানহীন ওষুধও রোগীকে কিনতে বাধ্য করছে।
ডাক্তারদের কমিশন বাণিজ্য শুধুমাত্র ওষুধেই সীমাবদ্ধ নয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে হাজার হাজার রোগী প্রতিদিন এক শ্রেণীর অসৎ দুর্নীতিবাজ চিকিৎসকের খপ্পরে পড়ে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে বাধ্য হয়। রাজধানীসহ সারাদেশে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে হাজার হাজার প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অভিযোগ রয়েছে, হাতেগোনা কয়েক প্রতিষ্ঠান ছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান মোটা অঙ্কের কমিশন (শতকরা ৩০ ভাগ থেকে ৫০ ভাগ) গোপন চুক্তিতে চিকিৎসকদের দিয়ে সুচিকিৎসার নামে বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল ও প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাচ্ছে। ডাক্তারদের কমিশন বাণিজ্যের জন্য প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকের নিয়োগকৃত দালাল রয়েছে। আবার অনেক চিকিৎসক নিজেই দালালদের হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। দালালরা হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিক, বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে রোগীদের বিড়ম্বনায় ফেলে। তাতে ডাক্তারের কমিশন বাণিজ্য একটু কম হয় বলেই এখন স্বয়ং ডাক্তাররাই সেই দালালদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। যেমন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী দালালের মাধ্যমে রোগীকে অন্যত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করালে মূল টাকার বিশ শতাংশ ডাক্তারের পকেটে আসে, সেক্ষেত্রে ডাক্তার নিজেই সরাসরি অন্যত্র নিয়ে গেলে বা পাঠালে মূল টাকার ত্রিশ থেকে চল্লিশ শতাংশই পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, চিকিৎসকদের কমিশন বাণিজ্য বিষয়টি অনৈতিক ও পেশাগত বিধিমালার পরিপন্থী। চিকিৎসা সেবায় সম্পৃক্ত ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক মনোভাবের কারণে চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি পায়। রোগীদের ভোগান্তি বাড়ে। চিকিৎসকদের কমিশন গ্রহণ একটি অন্যায় এবং অনৈতিক কাজ। এটি মোকবেলার জন্য উপযুক্ত আইন প্রণয়নের কাজও চলছে। এছাড়া এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পেশাগত নীতিমালা রক্ষায় বিবেক জাগ্রত করে চিকিৎসক সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। এটি বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তবে সরকারকেই সর্বাগ্রে এগিয়ে আসতে হবে।
মূলত, এসবসহ দেশের সব সমস্যা সমাধানে এবং প্রভূত সমৃদ্ধি অর্জনে চাই সদিচ্ছা ও সক্রিয়তা তথা সততা। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন নেক ছোহবত মুবারক, নেক সংস্পর্শ মুবারক তথা রূহানী ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক উনার মধ্যে কেবলমাত্র তা পাওয়া সম্ভব।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।