সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

বিভাগবিহীন

সম্পাদকীয়।

অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ : পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি যতœশীল না হলে পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিপন্ন বলে আওয়াজ উঠবে। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দোহাই দানকারীরা সুযোগ নিবে। ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধিতা করে কোনো মঞ্চ বা রাষ্ট্রযন্ত্র টিকে থাকতে পারবে না।
সব ছানা-ছিফত খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য- এমন ছানা-ছিফত যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। অপরিসীম, অকৃত্রিম, অগণিত দুরূদ ও সালাম মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি- এমন দুরূদ ও সালাম মুবারক যা তিনি পছন্দ করেন। মহজোট সরকারের অন্যতম শরীক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বলেছেন, ‘পবিত্র দ্বীন ইসলামে হাত দিলে দেশে রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে। প্রসঙ্গত আলোচিত হতে পারে যে, সাবেক রাষ্ট্রপতি স্বীয় রাজনৈতিক স্বার্থে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার পক্ষে এসব কথা বলেছেন। কিন্তু দেখার বিষয় হচ্ছে যে- এসব কথা ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করছে। আনন্দিত হচ্ছে। উল্লসিত হচ্ছে। তাদের প্রাণের কথা প্রতিধ্বনিত হয়েছে বলে মনে করছে। প্রতিভাত হচ্ছে- এদেশের ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী সর্বাগ্রে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে চায়। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে মনে-প্রাণে ললন করে। অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধারণ করে। বহন করে। বিস্তার করে। অনেক সময় সুরত-শেকেলে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার নিদর্শন না থাকলেও অন্তরে ঠিকই পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বীজ লুকায়িত থাকে। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার জজবা অটুট থাকে। এ কারণে দেশে হারাম সংস্কৃতির বেসামাল পরিবেশে অনেকে ভেসে গেলেও এক সময় তারা তটস্থ হয়। কাজেই নাট্যমঞ্চ বা সংষ্কৃতি মঞ্চের সামনে ভীড়, সিনেমা হলগুলিতে প্রচুর দর্শক, টিভি সেটগুলোর সামনে অগণিত দর্শক ইত্যাদি দেখে কল্পনা করার কারণ নেই যে- তারা সব পবিত্র দ্বীন ইসলাম ছেড়ে দিয়েছে। একথা ঠিক যে, তারা অনৈসলামী কাজ করেছে। কিন্তু একথাও যুগপৎভাবে প্রযোজ্য যে, প্রতিটি মুসলমান মাত্রই কোনো পাপ কাজের পর তাদের অন্তরে অনুভব হয় যে- তারা গুনাহর কাজ করেছে। তাদের অন্তরে উদয় হয় “মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন ক্ষমা করে দেন।” অথবা তারা এসব গুনাহর কাজ স্মরণ করেই প্রায়ই বলে থাকে- ‘সারা জীবন অনেক গুনাহ করেছি’। (নাঊযুবিল্লাহ)। এছাড়া এরপরে তারা নামায পড়ে থাকে অথবা কমপক্ষে জুমুয়ার দিন পবিত্র জুমুয়া উনার নামায বা পবিত্র ঈদ উনার নামায পড়ে থাকে। এসব নামাযে উপস্থিতি মূলত তাদের বিগত গুনাহ থেকে তওবা করার বিষয়টাও সংযুক্ত বা মুখ্য থাকে। কাজেই দেশের মানুষ অনৈসলামী কাজে লিপ্ত থাকলেই যে এখান থেকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উঠে গেছে- একথা মনে করার কোনো অবকাশ নেই। প্রসঙ্গত, কথিত তরুণ প্রজন্ম এলোমেলো চললেও পবিত্র দ্বীন ইসলাম তারা ঠিকই অন্তরে রারন করে। এজন্য শাহবাগ চত্বর থেকেও বারবার উচ্চারিত হয়েছে আমরা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিপক্ষে নই। প্রমাণিত ও প্রতিভাত হচ্ছে- পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিপক্ষে স্থান নিলে যেমন শাহবাগ চত্বরের অস্তিত্ব থাকবে না, তেমনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিপক্ষে অবস্থান নিলে রাষ্ট্রযন্ত্রও টিকে থাকতে পারবে না। সম্প্রতি সরকারের অতি উৎসাহী কিছু মুখপাত্র রাষ্ট্রধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম উঠিয়ে দেয়া হবে এমন কথা ছড়াচ্ছে। (নাঊযুবিল্লাহ)। তাহলে পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিপন্ন একথাও বহুগুণ সম্প্রসারিত হবে এবং দেশের ৯৮ ভাগ ধর্মপ্রাণ মুসলমান ফুঁসে উঠবে। কথিত তরুণ প্রজন্ম দেশের ভিত্তি নয়। আবার তরুণ প্রজন্মের নামে সবাই পবিত্র দ্বীন ইসলাম থেকে দূরে নয়। আর দেশের মূলভিত্তি দেশের ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ। তাদেরকে অবহেলা করলে সরকার নিজের পায়ে কুড়াল মারবে। সরকারকে অবিলম্বে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি যতœশীল হতে হবে। এবং নাস্তিক্যবাদী শিক্ষানীতিসহ সব অনৈসলামিক তৎপরতা বন্ধে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। সদিচ্ছা ও সক্রিয়তার প্রমাণ দিতে হবে। মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয, তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে তা নছীব করুন। (আমীন)
 

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।