সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

ইসলাম ও জীবন

সম্পাদকীয়।

অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ-
প্রসঙ্গ: নওগাঁয় সদ্য আবিষ্কৃত বিশাল চুনাপাথর খনি।
অতীতের অবহেলা এবং গাফলতির পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে।
*********************************************************************
সমস্ত প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলায় আবিষ্কৃত হয়েছে চুনাপাথরের বিশাল খনি। এটা পাওয়া গেছে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের কাঁচপুর গ্রামে। এখানে মাটির দুই হাজার ২২৪ ফুট গভীরে চুনাপাথরের সন্ধান মিলেছে। খনিটির সম্ভাব্য বিস্তৃতি ৫০ বর্গকিলোমিটার।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, দেড়শ বছর ধরে বাংলাদেশের সব সিমেন্ট কারখানার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের পরও নওগাঁর চুনাপাথরের মজুদ ফুরাবে না। ইনশাআল্লাহ!
দেশে ত্রিশটির বেশি সিমেন্ট কারখানায় বছরে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় দুই কোটি টন সিমেন্ট। এসব কারখানার কাঁচামালের বেশিরভাগ চাহিদা মেটানো হয় চুনাপাথর দিয়ে। বদলগাছি নিয়ে প্রত্যাশা পূরণ হলে ক্লিংকার আমদানির বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে বলে সরকার আশা করছে।
তবে এরও আগে ৪ঠা জুন ২০১২ সালে দৈনিক আল ইহসান লীড নিউজ হয়- “জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় চুনাপাথরের খনির সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি)।” ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৪৯৮ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন শেষে চুনাপাথরের বড় মজুদ সম্পর্কে নিশ্চিত হয় খননকারী দল।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সেখানে প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে চুনাপাথরের মজুদ রয়েছে, “১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৮ কিলোমিটার প্রস্থের একটি বেসিনে এ পাথর রয়েছে।”
তখনও ধারণা করা হয়েছিল, জয়পুরহাটের পাঁচবিবির চুনাপাথর থেকে দেশে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামালের চাহিদার পুরোটাই এই খনি থেকে মেটানো সম্ভব হবে।” ইনশাআল্লাহ!
জয়পুরহাটের এই চুনাপাথর ৩ কোটি ৪০ লাখ থেকে ৫ কোটি ৫০ লাখ বছর আগের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, “অনুসন্ধান কূপ খনন করে যে চুনাপাথর পাওয়া গেছে তা সিলেট লাইমস্টোন ফরমেশনের আপার স্টেজের পাথর।” আরো নিচের দিকে খনন কাজ এগিয়ে গেলে এই পাথরের নিচে কয়লা পাওয়ারও সম্ভবনা রয়েছে। ইনশাআল্লাহ!
চুনাপাথরের ক্ষেত্রে ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর বলছে- এ পর্যন্ত আবিষ্কার হওয়া সবচেয়ে বড় চুনাপাথরের খনি হলো নওগাঁয় সদ্য আবিষ্কৃত চুনাপথরের খনি। এই খনি থেকে উৎপাদন সম্ভব হলে বাংলাদেশের কোনো সিমেন্ট কারখানাকে আর চুনাপাথর আমদানি করতে হবে না। ইনশাআল্লাহ!
এরও আগে ১৯৬৩ সালে পাশের জেলা জয়পুরহাটে এমন চুনাপাথরের খনি আবিষ্কৃত হলেও বাণিজ্যিকভাবে তা উত্তোলন সম্ভব হয়নি।
নওগাঁর চুনাপাথর খনি সম্পর্কে খনিজ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে যত সিমেন্ট কারখানাগুলোর আমদানিকৃত চুনাপাথরের সবটুকু এ খনি থেকে সরবরাহ করা সম্ভব। ইনশাআল্লাহ! আশা করা যায়- কয়েক লক্ষ কোটির টাকার চুনাপাথর ব্যবহার করা যাবে। ইনশাআল্লাহ!
প্রসঙ্গত, নওগাঁর জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান জানান, বদলগাছী উপজেলার তাজপুরে চুনাপাথরের অন্যান্য খনির ন্যায় নওগাঁর চুনাপাথরের খনি আবিষ্কার হওয়ায় সেখানে কয়লা পাওয়ারও সমূহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যদি কয়লার খনিও পাওয়া যায়, তাহলে তা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার আরো ব্যাপক উন্নতির কারণ হবে। দেশে ভারি শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। লোকজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নতি হবে। ইনশাআল্লাহ!
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় খনি আবিষ্কার, সম্পদ উত্তোলন ও তা সংরক্ষণে পারদর্শিতা দেখিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাপেক্স। তা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের দুর্বলতা লক্ষণীয়। সুন্দলপুর থেকে গ্যাস উত্তোলনের পর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সময় সমস্যা হয়েছিলো। এক্ষেত্রে খনিজ সম্পদ আহরণে আরো দক্ষ জনবল ও কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন বাপেক্সের।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আবিষ্কৃত কয়লাখনি থেকে সম্পদ আহরণে জটিলতা রয়ে গেছে এখনো। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে উত্তোলন পদ্ধতি এবং এতে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিয়ে। এক্ষেত্রে পরিবেশগত ঝুঁকি তো রয়েছেই; তার চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে রাজনৈতিক বিবেচনা। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছে, ফুলবাড়ী থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলা হলেই কেবল তা লাভজনক হবে। এ মতের বিরোধিতাও করছে অনেকে। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এমন জটিলতা পাঁচবিবি থেকে চুনাপাথর উত্তোলনের ক্ষেত্রেও তৈরি হতে পারে, যদি আবিষ্কৃত খনির নিচে সত্যিই কয়লা পাওয়া যায়। তাই এসব মূল্যবান সম্পদ আহরণে দেশপ্রেমিক বিশেষজ্ঞ মতকেই প্রাধান্য দিতে হবে।
তবে যা করার করতে হবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করে, স্বচ্ছভাবে। আধুনিককালে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনিজ সম্পদ আহরণে পরিবেশগত ঝুঁকি কমে এসেছে, যদিও তথাকথিত পরিবেশবাদীরা বিদেশী এজেন্ট হয়ে এ ব্যাপারে ষড়যন্ত্রমূলক হৈ চৈ করছে। তাই খনির বহুমুখী ব্যবহার নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়া দরকার। এক্ষেত্রে যত দ্রুত গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছা যাবে, ততই মঙ্গল। নইলে কিন্তু কয়লার মতো অব্যবহৃত থেকে যেতে পারে চুনাপাথরও। সঙ্কটের সময় সম্পদ আগলে নিষ্ক্রিয় থাকাটা আত্মঘাতী ছাড়া কিছুই নয়।
পাশাপাশি উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের উপর বিদেশী অপশক্তিগুলোর বদনজর নেই- এমনটি বলা যাবে না। আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ কুক্ষিগত করার জন্য অনেক ধরনের ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তারের ঘটনা আমরা লক্ষ্য করেছি। তবে বর্তমান সরকার দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ যাতে বিদেশীরা লুণ্ঠন চালাতে না পারে সে ব্যাপারে সক্রিয় ও সচেতন রয়েছে। দেশের সম্পদ দেশের মানুষের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। এর কোনো বিকল্প চিন্তার সুযোগ নেই বলে আমরা মনে করি।
পরিশেষে, নওগাঁয় চুনাপাথরের যে বিশাল ভা-ার আবিষ্কৃত হয়েছে, এটা দেশের জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে শতভাগ ব্যবহার করা হবে বলে আমরা আশাবাদী। যেসব এলাকাবাসী তাদের জমির ন্যায্য দাম পাবে না বলে শঙ্কিত রয়েছে, তাদের আশ্বস্ত করার দায়িত্ব সরকারের। তাদের যথাযথভাবে পুনর্বাসনও করতে হবে। কারণ, খনি আবিষ্কৃত হওয়ায় পরবর্তীতে চুনাপাথর উত্তোলনের সময় অনেকের ঘরবাড়ি জমি থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এতে তারা যে পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সরকারকে। ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে এলাকাবাসী যেন প্রতারণার শিকার না হয়- সেটাও মনে রাখতে হবে সংশ্লিষ্টদের।
মূলত, সব সমস্যা সমাধানে চাই সদিচ্ছা ও সক্রিয়তা তথা সততা। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন নেক ছোহবত মুবারক, নেক সংস্পর্শ মুবারক তথা রূহানী ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক উনার মধ্যে কেবলমাত্র তা পাওয়া সম্ভব।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।