সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

ইসলাম ও জীবন

সম্পাদকীয়।

অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ:
দেশে ইটভাটার ৬৭% অবৈধ, তৈরি হচ্ছে ১২শ’ কোটি ইট।
ইটখোলা যে পরিমাণ ফসলি মাটি ধ্বংস করছে, তা বন্ধ হলে বছরে অন্তত ৫০ লাখ টন খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়তো।
শুধুমাত্র সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রচারণার অভাবে পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ইটের ব্যবহার হচ্ছে না।
*******************************************************************************
সব ছানা-ছিফত খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; এমন ছানা-ছিফত যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। অপরিসীম, অকৃত্রিম, অগণিত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি; এমন পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক যা তিনি পছন্দ করেন।
দেশে বর্তমানে ইটভাটার সংখ্যা ৮ হাজার ৫০০। এর মধ্যে ১ হাজার ৯০০টি ড্রাম চিমনিবিশিষ্ট। আর ৬৭ শতাংশ ইটভাটাই অবৈধ। অনেক ইটভাটায় সরকার কর্তৃক নির্ধারিত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে না। ফলে পরিবেশগত বিপর্যয়সহ জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
সারা দেশে ইটভাটাগুলোয় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে জ্বালানি কাঠ। এতে উজাড় হচ্ছে গাছপালা। অধিকাংশ ইটভাটারই পরিবেশগত ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স নেই। আধুনিক প্রযুক্তির পরিবর্তে ব্যবহার হচ্ছে ১২০ ফুট উচ্চতার স্থায়ী চিমনি বা সম্পূর্ণ অবৈধ ড্রাম চিমনি। বেশির ভাগ ইটভাটাই নিয়মবহির্ভূতভাবে স্থাপন করা হয়েছে লোকালয় তথা মানুষের বসতবাড়ি, গ্রামগঞ্জ, শহর-বন্দরের অতি সন্নিকটে, কৃষিজমিতে, নদীর তীরে, পাহাড়ের পাদদেশে। এছাড়া ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে আবাদি জমির উপরিভাগের মাটি, নদীর তীরের মাটি ও পাহাড়ের মাটি। কাঠ পোড়ানো ও স্বল্প উচ্চতার ড্রাম চিমনি ব্যবহার করায় ইটভাটাগুলোয় নির্গত হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে কালো ধোঁয়া। এ কারণে মানুষের ফুসফুসের সমস্যা, শ্বাসকষ্ট ও ঠা-াজনিত নানা রোগ দেখা দেয়। পাশাপাশি ধুলা-ময়লা উড়ে মানুষের দেহে প্রবেশ করে অ্যালার্জির সমস্যাও দেখা দেয়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালের ইট পোড়ানো আইনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, ‘উপজেলা সদর সীমানা হতে তিন কিলোমিটার, সংরক্ষিত, রক্ষিত, হুকুম দখল বা অধিগ্রহণকৃত বা সরকারের নিকট ন্যস্ত বনাঞ্চল, সিটি কর্পোরেশন, মিউনিসিপ্যালিটি, আবাসিক এলাকা, ফলের বাগান ও নীরাধার হতে তিন কিলোমিটার এলাকার দূরত্বের মধ্যে কোনো ইটভাটা স্থাপন করার লাইসেন্স প্রদান করা যাইবে না। ইহার ব্যত্যয় ঘটিলে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স বাতিল করা হইবে। এই উপধারায় ‘আবাসিক এলাকা’ অর্থ অন্যূন ৫০টি পরিবার বসবাস করে এমন এলাকা এবং ‘ফলের বাগান’ অর্থ, অন্যূন ৫০টি ফলদ বা বনজ গাছ আছে এমন বাগানকে বুঝাইবে’। অথচ অধিকাংশ ইটভাটা গড়ে উঠেছে আবাদি, বসতবাড়ি, বনজ, ফলদ বাগানের ১০০ গজের মধ্যেই। এমনও ইটভাটা আছে, যার ১০ গজের মধ্যেই আবাসিক এলাকা, শতশত বনজ-ফলদ গাছ ও আবাদি জমি রয়েছে।
ইউএনডিপি’র এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, প্রতিবছর বাংলাদেশে ১২শ’ কোটি পিস ইট উৎপাদন হয়। ইটভাটা নির্মাণের আইন থাকলেও তা প্রয়োগ হচ্ছে না। পরিসংখ্যান বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী সারাদেশে ইটভাটার সংখ্যা ২০ হাজারের উপরে। প্রতি হাজার ইটের জন্য কাঠ পোড়াতে হয় ৮ থেকে ১০ মণ। গড় মানের সাড়ে ৯ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য, সাড়ে ৪ ইঞ্চি প্রস্থ ও ৩ ইঞ্চি পুরুত্বের একেকটি ইটে মাটি লাগে ৩ থেকে সাড়ে ৩ কেজি। গড়ে ৩ কেজি ধরলেও সাড়ে ৪ হাজার কোটি ইটে মাটি লাগে বছরে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি কেজি বা সাড়ে ১৩ কোটি টন, যার পুরোটাই পুড়ে লাল হয়ে যায়।
কৃষিবিদ ও মৃত্তিকা গবেষকরা বলছে, স্বাভাবিক নিয়মে জমির উপরিভাগে পলি জমে জমে এক ফুট পুরু হতে সময় নেয় তিন থেকে চার দশক। তাদের হিসাবে, ইটখোলা যে পরিমাণ ফসলি মাটি ধ্বংস করছে, তা বন্ধ হলে বছরে অন্তত ৫০ লাখ টন খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়তো। ইউএনডিপি’র গবেষণা থেকে জানা যায়, ইটখোলাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে দশমিক চার মিলিয়ন ইউএস ডলার (প্রায় বাংলাদেশী ২৮০ কোটি টাকার ধান, গম, সয়াবিন ও আলু) সমমূল্যের কৃষি ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ইট তৈরিতে কাঁচামাল হিসেবে প্রতিবছর ব্যবহৃত হচ্ছে লক্ষাধিক হেক্টর জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি।
ইটের বিকল্প কংক্রিট ব্লক সনাতন পদ্ধতির ইটভাটা পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি কৃষিজমি ক্রমাগত গ্রাস করে চললেও ইটের বিকল্প পরিবেশবান্ধব ও দামে সস্তা কংক্রিট ব্লক চালুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। ফলে বিকল্প ইট তৈরির জন্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগকারী শিল্পদ্যোক্তারা হতাশায় পড়েছে। জানা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও ১৯৯৯ সাল থেকে কংক্রিটের ব্লক নির্মাণ কাজে ব্যবহার শুরু হয়েছে। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে প্রচারণা না থাকায় এর কার্যক্রম প্রসারিত হচ্ছে না। অথচ কংক্রিটের সলিড ব্লক হলো আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি, পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী। এর ব্যয়ও ইটের তুলনায় অর্ধেকেরও কম এবং স্থাপনা দীর্ঘস্থায়ী। কংক্রিট ইট পরিবেশ সংরক্ষক ও ভূমিকম্প সহনীয়। শুধু প্রচারণার অভাবে এর বিকাশ ঘটছে না। সরকার ইচ্ছা করলেই বিশেষ নির্দেশনায় সরকারি স্থাপনাগুলোতে কংক্রিট ব্লক ব্যবহার করতে পারে।
কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার বাড়লে পোড়ামাটির ইটের চাহিদা কমে আসবে। পরিবেশ-গাছপালা নিরাপদ থাকবে। আবাদি জমি বিনষ্ট হবে না।
মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ অনন্তকালব্যাপী পালন করার ইলম ও জজবা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারকেই কেবলমাত্র সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। আর ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম দিচ্ছেন অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার মহামহিম নিয়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।