সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

সমসাময়িক

সম্পাদকীয়।

অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ:
কৃষি অর্থনীতির দেশ- বাংলাদেশকে আমদানি নির্ভর করার জন্য চলছে গভীর ষড়যন্ত্র।
কৃষি জমি ভয়াবহরূপে অকৃষিখাতে চলে যাওয়ার পরও নির্বিকার সরকার।
*************************************************************************
সব ছানা-ছিফত খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; এমন ছানা-ছিফত যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। অপরিসীম, অকৃত্রিম, অগণিত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি; এমন পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক, যা তিনি পছন্দ করেন।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের জন্য চাষযোগ্য জমি রয়েছে ৮০ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর। এর এক-চতুর্থাংশই এখন হুমকির মুখে। তাছাড়া বাণিজ্যিক কারণে দেশে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৯৬ বিঘা বা ৬৯২ একর কৃষি জমি হারিয়ে যাচ্ছে। রূপান্তরিত জমির পুরোটাই অকৃষি খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। নীরাশয় ভরাট করে প্রতিদিন মোট কৃষি জমি কমছে ৯৬ বিঘা। তামাক চাষের কারণে প্রতিবছর ৯ হাজার একর কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত ১১ বছরে মোট ২৬ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩১ একর কৃষি জমি অকৃষি খাতে চলে গেছে।
বাংলাদেশের মোট ভূমির পরিমাণ ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৬৩ হাজার একর। বছরে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ১ হাজার হেক্টর জমি। সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই ৮০ শতাংশ সরকারি খাস জমিতে। নির্মাণ কাজের কারণে বছরে বিলীন হচ্ছে ৩ হাজার হেক্টর জমি। গত ৩৭ বছরে শুধু ঘরবাড়ি নির্মাণ হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার একর জমিতে। এমন প্রেক্ষাপটেও বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে ‘জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতি-২০১০’ এবং ‘কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি জোনিং আইন-২০১০।’
প্রস্তাবিত কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে-কৃষিজমিতে আবাসন, শিল্পকারখানা, ইটভাটা বা অন্য কোনো রকম অকৃষি স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। জমি যে ধরনেরই হোক না কেন, তা কৃষি জমি হিসেবেই ব্যবহার করতে হবে। দেশের যেকোনো স্থানের কৃষি জমি এ আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত হবে এবং কোনোভাবেই তা ব্যবহারে পরিবর্তন আনা যাবে না। কোনো অবস্থাতেই উর্বর জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেয়া যাবে না। যেকোনো ধরনের জমির শ্রেণী পরিবর্তন করা যাবে না। আইনে বিচার ও দ- হিসেবে বলা হয়েছে, আইন লঙ্ঘনকারী বা সহায়তাকারীর অনূর্ধ্ব দুই বছর কারাদ- বা সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদ- কিংবা উভয়দ-ে দ-িত হবে। এ আইনের অধীনে অপরাধ আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য ও আপোসযোগ্য হবে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তা কিংবা বন ও মৎস্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মামলা করতে পারবেন।
তবে ভূমি রক্ষায় রাষ্ট্রের সমন্বিত কোনো পরিকল্পনা না থাকায় অপরিকল্পিতভাবে চলছে জমির ব্যবহার। যেখানে সেখানে হচ্ছে বাড়ি। নির্মাণ করা হচ্ছে শিল্প-প্রতিষ্ঠান, রাস্তা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার দোকানসহ বিভিন্ন রকমের স্থাপনা। হচ্ছে অপরিকল্পিত নগরায়ন। গ্রামের কৃষি জমি দ্রুত অকৃষি খাতে যাচ্ছে। সংরক্ষিত ভূমি বলতে কিছু নেই। তবে নীরাধার ও বন রক্ষায় আইন ও নীতিমালা থাকলে সরকারের মনিটরিংয়ের অভাবে এর তোয়াক্কা করছে না কেউ।
১৯৩০-এর দশকে এ ভূখ-ে মাথাপিছু জমির পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৮ হেক্টর। ১৯৬০-এর দশকে মাথাপিছু জমির পরিমাণ ১ দশমিক ৭ হেক্টরে দাঁড়ায়। ১৯৮৩-৮৪ সালে পরিচালিত কৃষি শুমারি অনুযায়ী মাথাপছিু জমির পরিমাণ ছিল শূন্য দশমিক ৯ হেক্টর। আর ১৯৯৬ সালের কৃষি শুমারিতে মাথাপছিু জমির পরিমাণ কমে শূন্য দশমিক ৬৮ হেক্টরে দাঁড়ায়।
এভাবে কৃষি জমি কমতে থাকলে দেশের ৬৮ শতাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা চরম হুমকির সম্মুখীন হবে। বাংলাদেশে ১ কোটি ৭৬ লাখ ৮০৪ কৃষক পরিবার রয়েছে। তাদের শতকরা প্রায় ৬০ ভাগই প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক। কৃষিজমি অকৃষিতে রূপান্তরিত হওয়ায় এসব প্রান্তিক কৃষক সংসারের হিসাব মেলাতে পারছে না।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেই ঐতিহাসিকভাবে কৃষিপ্রধান। তাই এখানকার অর্থনীতির ভিত্তিটাও হওয়ার কথা কৃষিকেন্দ্রিক। তবে বিশ্বব্যাপী নয়া উদারনৈতিক অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের মধ্য দিয়ে এখানে একদিকে ভারী শিল্পের পরিবর্তে গড়ে উঠেছে গার্মেন্টসের মতো শ্রমঘন খাত আর পরিষেবা খাতে ঘটেছে ব্যাপক বাণিজ্যিকীকরণ। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখানকার গ্রামীণ অর্থনীতিও চলে যাচ্ছে অকৃষি খাতে।
প্রসঙ্গত, ১৯৭০-এর দশকেও জাতীয় আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ আসত কৃষি থেকে। সে সময় প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মসংস্থান ছিল কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ৮০-এর দশক পর্যন্ত দেশটির অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষিভিত্তিক। অথচ ২০১৫ সালের হিসাব মতে, জিডিপি’তে খাদ্যশস্য ও শাকসবজির হিস্যা ৯ শতাংশ এবং কৃষি, বনজ ও মৎস্য খাত মিলিয়ে এ হিস্যা ছিল ১২ শতাংশ। অথচ গত চার দশকে কৃষি উৎপাদন অনেক বেড়েছে, কিন্তু আনুপাতিক হারে এর চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে অকৃষি খাতের বিভিন্নমুখী তৎপরতা। সে কারণে জাতীয় আয়ে কৃষির অনুপাত অনেক কমে গেছে। এ ক্ষেত্রে কৃষিজমি কমে যাওয়ার সঙ্কটটি বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে।
কিন্তু এ সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা না করে উল্টো চলছে। আবাদি কৃষিজমি ধ্বংসের আরেকটি ক্ষেত্র হলো- বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের মতো রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ। সম্প্রতি আমরা চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে দেখতে পাই, নিজ জীবন-জীবিকা রক্ষার জন্য সেখানকার জনগণ প্রাণ বিসর্জন দিতেও পিছপা হয়নি।
এদিকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (স্পেশ্যাল ইকোনমিক জোনÑসেজ) নির্মাণের সরকারি উদ্যোগের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জের চান্দপুরের চা-শ্রমিকদের আন্দোলন এখনো চলছে। ওই চা-বাগানের ৯৫১ একর জমিতে চাষাবাদ করা হয়। এই জমি বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটিকে (বেপজা) দেয়ার লক্ষ্যে প্রায় ৫১১ একর দুই ফসলি কৃষিজমিকে অকৃষি দেখানো হয়। উল্লেখ্য, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার কৃষক জমি ব্যবহার করে এরূপ ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে।
একইভাবে বিভিন্ন জায়গায় আবাদি জমিতে এমনকি সুন্দরবনের অতি নিকটে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। আর এসব কয়লাভিত্তিক বা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যেমন ব্যাপক পরিবেশ দূষণের কারণ হবে, তেমনি আবাদি জমিও নষ্ট হচ্ছে ব্যাপক হারে।
আবাদি কৃষিজমি কমার এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের মোট কৃষিজমির পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাবে। দেশে বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাত বন্ধ করে যে আমদানিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার ষড়যন্ত্র চলছে, তা পূর্ণতা পাবে তখন।
কৃষি অর্থনীতির দেশ হিসেবে সবার আগে বাংলাদেশে ভূমি ব্যবহারের জন্য নীতিমালা থাকা উচিত ছিল। হল্যান্ড, তাইওয়ানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পরিকল্পনা অনুযায়ী ভূমির ব্যবহার করা হচ্ছে। সেসব দেশে এক ইঞ্চি জমিও পরিকল্পনার বাইরে ব্যবহারের সুযোগ নেই।
অথচ আমাদের দেশে ভূমি ব্যবহারের সমন্বিত পরিকল্পনা নেই। তাই রাষ্ট্র জমির পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারছে না বা ব্যর্থ হচ্ছে। এজন্য দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ অনন্তকালব্যাপী পালন উনার ইলম ও জজবা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারকেই কেবলমাত্র সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। আর ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম দিচ্ছেন অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মহামহিম নিয়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।