অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ:
মুসলমানদের জন্য বিধর্মীদের কোন দিবসই মূল্যায়নের কোনো অবকাশ নেই।
**************************************************************************
সব ছানা-ছিফত খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; এমন ছানা-ছিফত যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। অপরিসীম, অকৃত্রিম, অগণিত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি; এমন পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক, যা তিনি পছন্দ করেন।
উল্লেখ্য, চৌদ্দশ’ বছর আগেই পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে শ্রমিক স্বার্থ পুরোই সংরক্ষিত হয়েছে। শ্রমিককে মালিকের ভাই বলে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। সব মুসলমান ভাই ভাই বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তদুপরি মালিককে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে, “প্রত্যেকেই রক্ষক, তাকে তার রক্ষিত বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।” (বুখারী শরীফ)
শ্রমজীবী মানুষের মেহনত সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই আমি (মহান আল্লাহ পাক) মানুষকে সৃষ্টি করেছি শ্রমনির্ভর করে। (পবিত্র সূরা বালাদ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৪)
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, প্রত্যেকের মর্যাদা তার কর্মানুযায়ী; এটা এজন্য যে- মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেকের কর্মের পূর্ণ ফল দেবেন এবং তাদের প্রতি অবিচার করা হবে না” (পবিত্র সূরা আল আহকাফ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৯)
এজন্য সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘শ্রমিকের পারিশ্রমিক ও ঋণ পরিশোধ নিয়ে ধনী ব্যক্তিদের টালবাহানা করা যুলুম। (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)
শ্রমিকের মজুরি প্রদান সম্পর্কে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সুস্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, “শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি দিয়ে দাও।” (ইবনে মাজাহ)
স্মরণিয় প্রথম মানব, প্রথম রসূল হযরত আদম আলাইহিস্্ সালাম উনাকে থেকে শুরু করে, আখিরী নবী, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পর্যন্ত সবাই শ্রমের মর্যাদা দিয়েছেন। এমনকি নিজেরা পর্যন্ত কায়িক শ্রম করেছেন।
প্রথম নবী ও রসূল হযরত আদম আলাইহিস্্ সালাম তিনি কৃষি কাজ করেছেন, কাপড় বুনেছেন। হযরত নূহ আলাইহিস্্ সালাম তিনি কিশতী তৈরি করেছেন। হযরত দাউদ আলাইহিস্্ সালাম তিনি বর্ম তৈরি করেছেন। এমনকি আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও বকরী চরিয়েছেন। কূপ থেকে পানি তুলেছেন, ঘর ঝাড়– দিয়েছেন।
হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পৃথিবীতে মহান আল্লাহ পাক তিনি এমন কোনো হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাকে পাঠাননি, যিনি বকরি চরাননি। (বুখারী শরীফ)
সম্মানিত ইসলামী বিধান অনুযায়ী কৃষক, শ্রমিক বা কোনো কর্মজীবীকে কেউ বিনা পারিশ্রমিকে খাটাতে পারবে না। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণ না করে তাকে কাজে নিয়োগ করতে নিষেধ করেছেন। (বায়হাক্কী)
পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে শ্রমিক ও মালিকের সম্পর্ক ভাইয়ের মতো। শ্রমিক মালিকের অর্পিত দায়িত্ব ভাই হিসেবে আঞ্জাম দেবে আর মালিক থাকবে শ্রমিকের প্রতি সহানুভূতিশীল, দয়াবান ও দরদী। মালিক শ্রমিককে কখনো শোষণ করবে না এবং সাধ্যাতীত কোনো কাজের বোঝাও তার উপর চাপিয়ে দেবে না। অকারণে শ্রমিক ছাঁটাই করে তাদের অসহায়ত্বের দিকে ঠেলে দিতে পারবে না। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “তারা তোমাদের ভাই, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে তোমাদের অধীন করেছেন। অতএব, মহান আল্লাহ পাক তিনি কারও ভাইকে তার অধীন করে দিলে সে যা খাবে, তাকে তা থেকে খাওয়াবে এবং সে যা পরিধান করবে তাকে তা থেকে পরিধান করতে দেবে। আর যে কাজ তার জন্য কষ্টকর ও সাধ্যাতীত, তা করার জন্য তাকে বাধ্য করবে না। আর সে কাজ যদি তার দ্বারাই সম্পন্ন করতে হয়, তবে সে তাকে অবশ্যই সাহায্য করবে।” (বুখারী শরীফ)
উল্লেখ্য, মহান আল্লাহ পাক উনার ভয়, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত তথা ওহী মুবারক উনার চেতনা মানুষের মাঝে যতটা প্রভাবিত হতে পারে অন্য কিছু তার কাছেও যেতে পারে না। কাজেই বিধর্মীদের কোন দিবসের ঘটনা ও চেতনা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে শ্রমিকের স্বার্থ ও মর্যাদার প্রেক্ষিতে কিছুই নয়। তাই বিধর্মীদের প্রত্যেক দিবসের চেতনা পথভ্রষ্ট ও অপরিপূর্ণ বিধর্মীদের কাছে অনেক কিছু হতে পারে, কিন্তু মুসলমানের কাছে প্রাসঙ্গিকও নয়, প্রয়োজনীয়ও নয়। বরং তা বিধর্মীদের অনুসরণ বলে নাজায়িযও বটে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, যে যে জাতির সাথে মিল রাখে তার হাশর-নশর তাদের সাথেই হবে।
মূলত,ঃ মুসলমানদের রয়েছে সোনালী ঐতিহ্য ও পরিপূর্ণ আদর্শ। কিন্তু মুসলমান নিজেই তা অবগত নয়। এর পেছনে রয়েছে মুসলমানের গাফলতী ও ইল্মের ঘাটতি। যা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন রূহানী অনুপ্রেরণা ও জজবা।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ তা অর্জন সম্ভব।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।