অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ:
প্রমাণিত হলো এতোদিন সরকার নজর না দেয়াতেই লবণ শিল্প ধ্বংস এবং লবণচাষি নিঃশেষ হচ্ছিল।
সরকার চাইলেই কৃষক ও নাগরিক স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি দেশকেও সমৃদ্ধ করতে পারে।
***********************************************************************************
সব ছানা-ছিফত খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; এমন ছানা-ছিফত যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। অপরিসীম, অকৃত্রিম, অগণিত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি; এমন দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক যা তিনি পছন্দ করেন।
পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ মজুদ থাকলেও বিদেশ থেকে লবণ আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে বিগত সময়ে। আর আমদানি করা লবণ একদিকে যেমন নিম্নমানের তেমনি স¦াস্থ্যের জন্যও বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ।
উল্লেখ্য, দেশের স¦য়ংসম্পূর্ণ খাত লবণ। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানির মতো পর্যাপ্ত লবণ উৎপাদন হয়ে থাকে কক্সবাজার এলাকায়। কিন্তু লবণ উৎপাদনে সরকারের অবহেলা, ভারত এবং মায়ানমার থেকে লবণ আমদানিতে মহল বিশেষের ষড়যন্ত্রে দেশের স¦য়ংসম্পূর্ণ লবণ খাতকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। লক্ষাধিক একর জমিতে লবণ চাষ হয়ে থাকলেও লবণের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চাষীরা লবণ চাষে আগ্রহ হারাতে থাকে। পর্যায়ক্রমে কমে যাচ্ছিলো লবণ চাষের জমি। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা বরাবরই সরকারের উপর চাপ দিয়ে যেতো লবণ আমদানির জন্য। তারা দেশের স¦য়ংসম্পূর্ণ এই একটি মাত্র খাতকেও আমদানি নির্ভর করতেছিল মরিয়া। অথচ লবণ সংশ্লিষ্ট চাষী এবং গবেষকদের মতে চাষীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে লবণ খাতের ব্যাপারে সরকার আন্তরিক হলে দেশে লবণ ঘাটতির কোন আশঙ্কা থাকে না এবং লবণ আমদানিরও প্রয়োজন পড়ে না।
দেরীতে হলে এবারে সরকারের সেই শুভবুদ্ধিটি উদয় হয়েছে। কিছুদিন আগে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছে, সরকার লবণ চাষীদের স্বার্থের পরিপন্থী কোন কাজ করবে না। প্রতিভাত হয়, এতোদিন তাহলে স্বার্থ পরিপন্থী কাজ করা হয়েছে।
আমু সাহেব আরো বলেছে, সরকার লবণ আমদানির পক্ষে নয় বরং লবণ চাষীদের উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় লবণ শিল্প নগরী গড়ে তোলা হবে।
পাশাপাশি বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছে, দেশীয় উৎপাদনকারীদের উৎসাহিত করতে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেছে যে, দেশের চাহিদা পূরণ হয় এই পরিমাণ লবণই উৎপাদন করতে হবে। এ জন্য লবণচাষীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও উৎসাহ প্রদান করবে সরকার। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, লবণ আমদানি নয়, প্রয়োজনে রফতানি করা হবে।
সরকার লবণ আমদানি নিষিদ্ধ করায় এবং সহযোগীতার আশ্বাস দেয়ায় লবণচাষীরা দারুণভাবে উজ্জীবিত হয়ে মাঠে নেমে পড়ে, যার ফল এখন চয়ন করা সম্ভব হচ্ছে। দৈনিক আল ইহসান শরীফ উনার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কক্সবাজারের উখিয়া ছাড়াও সাত উপজেলা এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালীতেই রয়েছে লবণ উৎপাদন উপযোগী জমি। এই জমির পরিমাণ বিসিকের হিসাবে ৯৪ হাজার একর হলেও বাস্তবে এর পরিমাণ দু’লাখ একরের মতো। সঙ্গতকারণেই বলা যায়, এই পরিমাণ জমিতে ঠিকমত লবণ উৎপাদিত হলে জাতীয় চাহিদা পূরণের পরও বিপুল পরিমাণ লবণ রফতানি করা সম্ভব। সুবহানাল্লাহ!
প্রসঙ্গত এবার লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ লাখ টনের কিছু বেশি। বিসিকের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জানিয়েছে, ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ১৫ লাখ টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় প্রতিদিন যে পরিমাণ লবণ উৎপাদিত হচ্ছে, তাতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি লবণ উৎপাদন সম্ভবপর হবে।
এই সম্ভাবনা এতদিন কাজে লাগাতে না পারার বড় কারণ, লবণ আমদানির সুযোগ অবারিত থাকা। প্রতি বছরই এ নিয়ে কথা ওঠে। লবণচাষীদের পক্ষ থেকে লবণ আমদানি নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়। বিভিন্ন মহল থেকেও একই দাবি জানানো হয়। সংবাদপত্রে এ নিয়ে রিপোর্ট ও লেখালেখি হয়। কিন্তু লবণ আমদানিকারক সিন্ডিকেট ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের যুথবদ্ধ দৌরাত্ম্য ও দাপটের মুখে এ দাবি প্রতি বছরই অনার্জিত থেকে যায়। এবারে সিদ্ধান্ত বহুল অনাকাঙ্খিত ও ইতিবাচক বলে প্রশংসিত হলেও খবর পাওয়া গেছে, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জভিত্তিক পরিতোষ গ্যাং নামের ছয় মিল মালিকের সিন্ডিকেট সরকারকে ভুল তথ্য দিয়ে লবণ আমদানির পাঁয়তারা করছে। এই সিন্ডিকেট সরকারকে প্রভাবিত করে ও কৃত্রিমভাবে লবণ সংকট সৃষ্টি করে ভারত থেকে লবণ আমদানি করে আসছিল। সিন্ডিকেটটির অপতৎপরতা রুখে দেয়ার দাবি জানিয়েছে লবণচাষীরা। খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে প্রতিমণ সাদা লবণ ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এরপর লবণে আয়োডিন মেশানো, প্যাকেজিং ও অনুষঙ্গিক খরচ হিসাব করলে প্রতিকেজি লবণ বর্তমান বাজারদরের অনেক কমে ক্রেতাসাধারণ কিনতে পারে। ২০১০-১১ সালে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বলা হয়েছিল, প্রতি কেজি লবণের দাম আট টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। এখন তার চেয়ে কিছু বেশি হতে পারে। বাংলাদেশ লবণচাষী কল্যাণ পরিষদের ক্রেতারা বলেছেন, প্রতি কেজি প্যাকেট লবণ তারা ১০ টাকায় সরবরাহ করতে পারবেন। অথচ এখন প্রতি কেজি প্যাকেট লবণ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। আমদানিরকারক মিলারদের সিন্ডিকেট এভাবে বিপুল মুনাফা লুটে নিচ্ছে। তারা একদিকে চাষীদের ঠকাচ্ছে, অন্যদিকে ক্রেতাদের কাছ থেকে অধিক মূল্য হাতিয়ে নিচ্ছে। লবণ আমদানি নিষিদ্ধ থাকলে স্বভাবতই চাষী আরো কিছুটা বেশি দাম পেতে পারে। অন্যদিকে ক্রেতারাও ন্যায়সঙ্গত দামে লবণ কিনতে পারে। লবণচাষী কল্যাণ পরিষদের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকারের একজন উপসচিব কথিত পরিতোষ গংয়ের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে লবণ আমদানির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এই অভিযোগের বিষয়টি অবিলম্বে খতিয়ে দেখার দাবি রাখে। লবণচাষীদের কল্যাণ, ন্যায়সঙ্গত মূল্য এবং লবণখাতের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অবশ্যই লবন আমদানির উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখতে হবে। আমদানির যে কোনো উদ্যোগ ও তৎপরতা প্রতিহত করতে হবে। সরকারের দায়িত্ব উৎপাদিত লবণ প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা মসৃণ ও নিশ্চিত করার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া। চাষীদের দায়িত্ব উৎপাদন পর্যন্তই সীমিত। এরপর ক্রেতা পর্যন্ত পৌঁছতে যে প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থা প্রয়োজন সরকারকেই তা করতে হবে।
মূলত মধ্যস¦ত্বভোগী সিন্ডিকেট এবং অসৎ আমলাচক্রের কারণেই এতোদিন যাবত দেশের লবণ শিল্প নিয়ে ভেল্কিবাজি চলছে। নিজেরা লাভবান হতেই তারা সম্ভাবনাময় ও বিকাশমান দেশীয় লবণ শিল্পকে ধ্বংসের আত্মঘাতী তৎপরতায় লিপ্ত। এতে করে লবণ চাষের জন্য উপযোগী উপকূলীয় এলাকায় আর্থ-সামাজিক বিপর্যয় নেমে আসবে, বেকার হয়ে পড়বে লাখ লাখ মানুষ। পাশাপাশি লবণ আমদানি নির্ভর হয়ে পড়ে দেশ বৈদেশিক মুদ্রাও হারাবে।
সঙ্গতকারণেই দেশের লবণ শিল্পকে রক্ষায় যেকোনো অজুহাতে লবণ আমদানি নিরুৎসাহিত করার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ একান্তভাবে জরুরী।
পাশাপাশি লবণচাষীদের সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতার দ্বারা শুধু তারাই নয়, বরং গোটা দেশবাসীই আরো উপকৃত হতে পারে। দেশের মানুষ এক টাকায় বা তার চেয়েও কম দামে প্রতিকেজি লবণ পেতে পারে।
প্রসঙ্গত, মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার একটি পবিত্র ক্বওল শরীফ মুবারক এ ক্ষেত্রে সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আগেও গরিব ছিল না। এখনো গরিব নয়। সদিচ্ছা, সততা আর সক্রিয়তা থাকলে সোনার বাংলার ঐতিহ্য বাংলাদেশ অচিরেই ফিরে পেতে পারে।’ বর্ণিত লবণ শিল্পের সম্ভাবনা সে নির্দেশনারই প্রমাণ বহন করে।
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।