সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

সমসাময়িক

সম্পাদকীয়।

অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ:
পাঁচ থেকে সাত বছরে ৫৯টি প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৩ শতাংশ
অদক্ষ পরিচালক এবং যথাযথ তদারকিই এজন্য মূল দায়ী
যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের বাধ্য করতে হবে।
*********************************************************************************
সব ছানা-ছিফত খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; এমন ছানা-ছিফত যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। অপরিসীম, অকৃত্রিম, অগণিত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি; এমন পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক যা তিনি পছন্দ করেন।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ যেভাবে হয়েছে তা ‘১৮ মাসে বছর’ প্রবাদ বাক্যকেও হার মানিয়েছে। ২৩ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৫৯টি প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে গড়ে মাত্র ৩ শতাংশ। অথচ এসব প্রকল্প পাঁচ থেকে সাত বছর আগে নেয়া। ডিপিপি অনুমোদনে বিলম্ব হওয়া, দরপত্র আহ্বান করে সাড়া না পাওয়া এবং জমি অধিগ্রহণ ও অর্থ ছাড় সঠিক সময়ে না হওয়ায় প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি হচ্ছেনা। তবে সঠিক তদারকির অভাবেই মূলত এসব প্রকল্পের কাঙ্খিত অগ্রগতি হচ্ছেনা। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না পারায় বাড়ছে সময়, বাড়ছে প্রকল্প ব্যয়। এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।
উল্লেখ্য উন্নয়ন কার্যক্রম শুরুর অর্থই হচ্ছে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রকে গতিশীল রাখা। এ জন্য অর্থ বরাদ্দসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা থাকলেও যেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উপর তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পড়ে, তাদের আন্তরিকতা ও উদ্যোগের অভাব এবং গাফিলতির কারণে সরকারের সে ইচ্ছা যথাসময়ে পূরণ হয় না।
এক্ষেত্রে সরকারের দুর্বলতার বিষয়টিও উপেক্ষা করা যায় না। সরকার অর্থ বরাদ্দ দিয়েই যেন তার কর্ম শেষ করে। প্রকল্পগুলোর অর্থ কিভাবে, কোন উপায়ে এবং কত সময়ে ব্যয় হচ্ছে, তার নিবিড় পর্যবেক্ষণের যে উদ্যোগ থাকার কথা তা পরিলক্ষিত হয় না। এছাড়া প্রকল্পের দায়িত্ব যাদের উপর দেয়া হচ্ছে, তারা কতটা দক্ষ ও যোগ্য এবং মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় রয়েছে কিনা, এসব বিষয়ও ঠিকমতো আমলে নেয়া হয় না। এতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো তাদের মর্জি মতো কাজ শুরু করে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের তথ্য মতে, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে উন্নয়ন কাজের জন্য মোট ১ লাখ ৯৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে সরকার। এই অর্থ দিয়ে ১২১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পরিকল্পনামন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতিমাসে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ সমান হারে করলে গত জুলাই-সেপ্টেম্বরে মোট ২৫ হাজার কোটি টাকার উপরে ব্যয় হওয়ার কথা। বাস্তবে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৬ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা। যা মোট প্রকল্পের ৭ শতাংশ। মোট ৫৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এসব বাস্তবায়নের কথা থাকলেও বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, তিন মাসে তিনটি মন্ত্রণালয় এক টাকাও খরচ করতে পারেনি।
আমাদের দেশের ট্র্যাডিশন হয়ে দাঁড়িয়েছে, উন্নয়ন প্রকল্প মানেই একশ্রেণীর লোকের জন্য তা বছরের পর বছর ধরে অনৈতিক আয়ের উৎসে পরিণত হওয়া। তাদের কাজের ধরণটাই এমন হয়ে পড়েছে, প্রকল্পের কাজ যত ধীর হবে, ততই তাদের পকেট ভারি হবে। জবাবদিহি না থাকায় সরকারও ঐ শ্রেণীটির অজুহাত আমলে নিয়ে সময় ও অর্থ দুটোই বৃদ্ধি করে। প্রকল্পের কাজ কেন যথাসময়ে ও সঠিকভাবে হলো না, তার জন্য কাউকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করা হয় না।
তাছাড়া প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা অনেক পরিচালকেরই দক্ষতার অভাব রয়েছে। অদক্ষদের হাতে প্রকল্পের কাজ কেন দেয়া হচ্ছে। এটা আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত। এসব পরিচালকের দ্বারা কাজ তো হয়ই না, উল্টো এদের মাধ্যমে দুর্নীতির সুযোগকে অবারিত করে দেয়া হয়। তারা সময় ক্ষেপণ ও কাজ যথাযথভাবে করতে না পেরে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে এবং অর্থের অপচয় করে। বছরের শেষ তিন মাসে তাড়াহুড়ে করেও কাজ শেষ করতে পারে না। শেষ করলেও, তা অতি নিম্নমানের হয়ে পড়ে। এদের কারণেই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন যথাযথভাবে করা সম্ভব হয় না। বিষয়টি নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে।
আগে থেকেই সঠিক সমীক্ষা ও পরিকল্পনা করা, মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধণসহ কারা উপযুক্ত এসব বিষয় চূড়ান্ত করে প্রকল্পের কাজ শুরু করা বাঞ্ছনীয়। যথাসময়ে সঠিকভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের বাধ্য করতে হবে। এজন্য কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহির ব্যবস্থা করতে হবে। বছরের পর বছর ধরে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীর গতির সংস্কৃতি চলতে দেয়া কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয, তাওয়াজ্জুহ।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম দিচ্ছেন অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার মহামহিম নিয়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।