সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

সমসাময়িক

সম্পাদকীয়।

সম্পাদকীয়।
**************
অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ: ২০২০ সালেই সক্ষমতা হারাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন। দীর্ঘসূত্রিতা আর বহুগুণ বর্ণিত প্রকল্প ব্যয়ের পরও প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তিতে বিরাট ফারাক থাকছে। হয়েছে জালিয়াতি। দেশের উন্নয়নে চাই সততা ও স্বদেশপ্রেম।
 
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। যিনি সবকিছু ফায়সালার মালিক। সব পবিত্র ছলাত মুবারক ও সালাম মুবারক সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। যিনি সবকিছুরই বণ্টনকারী। ১৯৯৫ সালে গোমতী সেতু উদ্বোধনের পর সড়কপথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে সময় লাগতো ৪ ঘণ্টা। যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকায় এ পথে যাতায়াতে সময়ও ক্রমে বাড়তে থাকে। ২০০৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ ঘণ্টায়। যানবাহনের চাপ আরো বাড়বে বিধায় সে সময় বিদ্যমান মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এজন্য ২০০৬ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। ২০০৬ সালে সরকার ২১৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চার লেন প্রকল্পের অনুমোদন করে, যার কাজ ২০১২ সালের জুন মাসে শেষ করার টার্গেট নেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে এই প্রকল্পে সংশোধন করা হয়। প্রোফাইলে সংশোধন ও রাস্তার নকশা পরিবর্তন করার জন্য খরচ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২৩৮২ কোটি টাকা। পরবর্তীতে ২০১২ সালে জমি অধিগ্রহণ খরচ বৃদ্ধির জন্য প্রকল্পের খরচ ২৮ কোটি টাকা বাড়ার ফলে খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ২৪১০ কোটি টাকা। ২০১৩ সালের মার্চে সরকার তৃতীয়বারের মতো প্রকল্পের খরচ বৃদ্ধি করে ৩১৯০ কোটি টাকা। সেই সাথে প্রকল্প শেষ করতে সময় বাড়িয়ে দেয়া হয় ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এর পর আবার প্রকল্পটিতে ৬২৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে এর ব্যয় ৩১৯০ কোটি ২৯ লাখ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮১৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। একই সঙ্গে মেয়াদও বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে। তবে এতে প্রতীক্ষার পরও কাঙ্খিত প্রত্যাশা পূরণ করবে না ঢাকা-চট্টগ্রাম সব সড়ক চার লেন। দৈনিক আল ইহসান শরীফের এক তথ্যানুসন্ধান থেকে জানা গেছে, দৈনিক সর্বোচ্চ ৬০ হাজার যানবাহন চলাচল করতে পারবে ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়কে। প্রকল্পের নকশাও করা হয়েছে সে অনুযায়ী। তবে মহাসড়কটিতে চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, তাতে ২০২০ সালেই সক্ষমতা হারাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন। ২০০৬ সালে গাড়ি চলাচলের প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয় বছরে ৬ শতাংশ। এর ভিত্তিতে বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন শেষে ২০১০ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। প্রকল্প গ্রহণকালে মহাসড়কটিতে যানবাহন চলাচল করতো দৈনিক গড়ে সাড়ে ১৬ হাজার। এর অর্ধেক ছিল ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান। ৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি হিসাবে নিলে ২০২২ সালে মহাসড়কটিতে যানবাহন চলাচল করবে ৪০ হাজার। ২০৩০ সালে তা ৬০ হাজারে পৌঁছার কথা। এটিই মহাসড়কটিতে যানবাহন চলাচলের সর্বোচ্চ সক্ষমতা। কিন্তু সওজের এক সমীক্ষা বলছে, গত ৫ বছরে গড়ে ৮-১০ শতাংশ হারে বেড়েছে গাড়ির সংখ্যা। এতে ২০২০ সালে মহাসড়কটিতে চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা দাঁড়াবে দৈনিক গড়ে ৬০ হাজার। এ হিসাবে আগামী পাঁচ বছরেই প্রকল্পের সক্ষমতা শেষ হয়ে যাবে। এর মূল কারণ বৈদেশিক বাণিজ্য তথা আমদানি-রফতানি বৃদ্ধি। এতে মহাসড়কে চলাচলকারী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও কনটেইনারবাহী ট্রেইলার দ্রুত বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২০ সালের আগেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সক্ষমতা শেষ হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে একমাত্র উপায় এ রুটে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা। তা না হলে চার লেনও আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। সমীক্ষা বলছে, ২০৩০ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দৈনিক চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় এক লাখ। এর মধ্যে পণ্যবাহী যানবাহনের সংখ্যাই হবে প্রায় ৭০ হাজার। আর ২০৩৫ সালে এ মহাসড়কে চলবে দৈনিক গড়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ও ২০৪০ সালে ১ লাখ ২৯ হাজার যানবাহন। এত সংখ্যক যানবাহন চলাচলের জন্য এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ ছাড়া বিকল্প নেই। প্রসঙ্গত আমরা মনে করি, মহাসড়ক দুই থেকে চার, চার থেকে ছয় বা আট লেনে উন্নীতকরণ কখনোই সমাধান নয়। উপরন্তু এদেশে বিদ্যমান মহাসড়কের পাশে বাজার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি রয়েছে। দ্রুতগতির যানবাহনকেও চলতে হয় ধীরগতির যানবাহনের পাশাপাশি। এতে কখনোই কাঙ্খিত গতিতে যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এজন্য টেকসই সমাধানের পথে যেতে হবে। বিকল্প হিসেবে রেলপথ এবং বিশেষতঃ নৌপথের দ্রুত উন্নত করতে হবে। এতে সড়কপথে যানবাহনের চাপ কমবে। তবে এর পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন সড়ক নিয়ে যে দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে, আমরা মনে করি তা প্রকাশ্য জালিয়াতি ও দুর্নীতি হয়েছে। এবং তা এক অর্থে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দুর্নীতি। কারণ সরকারের সাথে সম্পৃক্ত প্রভাবশালীরাই এ দুর্নীতির বিস্তার ঘটিয়েছে। উল্লেখ্য, প্রায় ১০ বছর সময় এবং প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের সুফল দেশবাসী পাবে মাত্র ৪ বছর। এটা মূলত দেশবাসীর সাথে বড় ধরনের প্রতারণা তথা উপহাস। তবে আমরা মনে করি, দেশবাসীর উদাসীনতা, অসচেতনতা এবং আত্মাধিকার সম্পর্কে অজ্ঞতা; সর্বপোরি বিদ্যমান সরকার কাঠামোয় দেশবাসীর গা ছেড়ে দেয়ার কারণেই রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রভাবশালীরা প্রকাশ্যে এরূপ প্রতারণা করতে পেরেছে। যা উভয়পক্ষেরই স্বদেশপ্রেমের ঘাটতি প্রকটভাবে প্রতিভাত করে। অথচ মুসলমান হিসেবে বাঁচতে চাইলে স্বদেশপ্রেমের বিকল্প নেই। কারণ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “স্বদেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।” স্বদেশপ্রেম থাকলে আগামী একশ বছরের জন্য উপযোগী পরিকল্পনায় অনেক কম ব্যয়ের পাশাপাশি অনেক আগেই ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন সড়ক বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো। দেশবাসী তার সুফল পেতো। মূলত, এসব অনুভূতি, সমঝ ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের মূল্যবোধ ও প্রজ্ঞা থেকে তথা দেশের প্রতি মুহব্বতের চেতনা থেকে। সর্বোপরি পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ অনন্তকালব্যাপী পালন করার ইলম ও জজবা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয, তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারকেই কেবলমাত্র সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। আর ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম দিচ্ছেন অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার মহামহিম নিয়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।