সম্পাদকীয় - ১ জুন, ২০১৬
অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ: ধানে কৃষকের লোকসান। বাম্পার ফলন এবং উদ্বৃত্ত থাকার পরও চাল আমদানি। সরকার ধান কিনছে না।
****************************************************************************
সমস্ত প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক। খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ এবং উদ্বৃত্তের দেশ হওয়া স্বত্ত্বেও প্রতিবেশী ভারত থেকে চাল আমদানির অনুমতি দিচ্ছে সরকার। নিম্নমানের সস্তা ভারতীয় চাল আমদানির প্রভাবে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হাসি নেই ধানচাষীদের মুখে। ভারতীয় চাল আমদানিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আড়তদার ও চাল প্রস্তুতকারী চাতাল ব্যবসায়ীরাও। তাদের অভিযোগ, দেশে বর্তমানে উৎপাদিত ধান-চালের পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও নিম্নমানের সস্তা ভারতীয় চালে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে দেশীয় বাজার। এতে চাতাল ও আড়তে অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে হাজার হাজার মেট্রিক টন উন্নত ধান ও চাল। এ অবস্থাতে ক্রয়কৃত ধান থেকে চাল উৎপাদন করে বর্তমানে প্রতি কেজিতে চাতাল মালিকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে ২ টাকা ১৫ পয়সা। অবিলম্বে ভারতীয় চাল আমদানি বন্ধের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে চাষী, চাতাল মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা। বাণিজ্যমন্ত্রীর তথ্যমতে, চলতি ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে দেশে চাল আমদানি করা হয়েছে এপ্রিল পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৭ হাজার মেট্রিক টন। অথচ গত ১৭ মে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছে, ‘চাহিদার উদ্বৃত্ত ও উন্নতমানের চাল নিয়মিত রফতানীর মতো কর্মসূচিতে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। সরকারের কাছে অতীতের ৩০ থেকে ৪০ লাখ মেট্রিক টন চাল উদ্বৃত্ত রয়েছে। এ চালগুলোই রফতানী করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’ এখন প্রশ্ন হলো, চাল যদি রফতানীই করা হবে, তাহলে চাল আমদানির অনুমতি দেয়া হচ্ছে কেন? এমনিতেই সারাদেশে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার পরও কৃষকের মুখে হাসি নেই। সম্প্রতি সংবাদ শিরোনাম হয়েছে ‘এক মণ ধানে এক কেজি গরুর গোশত’, ‘এক কেজি ধানে একটা ইলিশ মাছ’। আগে ‘পানির দরে ধান’ এ ধরনের শিরোনাম দেখা গেলেও এখন তা অপ্রাসঙ্গিক। কারণ ধানের দাম বোতলজাত পানির চেয়েও কম। এই সংবাদগুলোর কৌতুকটাই আমাদের চোখে পড়ে, পেছনের কান্নাটা আমরা দেখতে পাই না। আর এই প্রবণতা শুধু এবারের নয়, প্রতিবছরই মৌসুমের শুরুতে ধান নিয়ে বিপাকে পড়ে কৃষকরা। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। বাংলাদেশের অগ্রগতির, সাফল্যের বড় কৃতিত্ব কৃষকদের। তারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলায় বলেই আমরা পেটপুরে খেয়ে বড় বড় বক্তৃতা দিতে পারি। মাঠের পর মাঠভর্তি ধানের ক্ষেতে সোনালি ঢেউ দেখে আমরা আপ্লুত হই। কিন্তু ভেবে দেখি না, এই সোনালি ঢেউ কৃষকের কতটা হাহাকার বয়ে বেড়ায়। বাংলাদেশে সবকিছুর দাম বাড়ে, খালি ধানের দাম কমে যায়। ধানের দাম আসলে খুব স্পর্শকাতর ইস্যু। ধানের দাম বেশি বেড়ে গেলে অস্থিরতা তৈরি হবে সারাদেশে। আর ধানের দাম কমে গেলে মরে যাবে কৃষক। এ এক অভেদ্য চক্র। এই ভারসাম্যটা ধরে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু নিম্নমানের সস্তা ভারতীয় চাল আমদানির সুযোগ থাকায় কৃষকের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাল ব্যবসায়ীরাও। ভারতীয় চালের প্রভাবে ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে। এতে শ্রমিকদের বেতন দিতে না পারায় তারা অনেকে কাজে আসছে না। চাতালে হাজার হাজার মেট্রিক টন ধান ও চাল অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। চাল আমদানি অব্যাহত থাকায় উৎপাদিত চালের ন্যায্যমূল্যও পাচ্ছে না ব্যবসায়ীরা। উল্লেখ্য, ২০১০-১১ অর্থবছরে চালের ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও একটি মহল ভারত থেকে ১৫ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করে। এর প্রভাবে ধানের দাম কমে যায়। পরের বছরগুলোতেও অপ্রয়োজনে ভারত থেকে চাল আমদানি অব্যাহত থেকেছে। ভারতীয় নিম্নমানের পশুখাদ্য তুল্য চাল আমদানির ভয়াবহ প্রভাব স্থানীয় ধান-চালের বাজারে লক্ষ্য করা গেছে। ভারতকে বাংলাদেশে উৎপাদিত ধান-চালের মূল্যে ধস নামাতে মূল্য ডাম্পিংয়ের আশ্রয় নেয়ার মতো হীন কাজ করতেও দেখা গেছে। বাংলাদেশের কৃষকদের ধান উৎপাদনে অনাগ্রহী করে তুলতে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও নিম্নমান ও মূল্যের ভারতীয় লাখ লাখ টন চাল বাংলাদেশে ঢুকানো হচ্ছেÑ এমন অভিমত কৃষি বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই। দেশে উৎপাদন বাড়ার হারের ক্রমহ্রাসমানতা ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারতীয় চাল আমদানি বন্ধের কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। কৃষক উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এর চেয়েও দুঃখজনক এই যে, সরকারকে বিষয়টি নিয়ে তেমন ভাবিত হতে দেখা যায় না। সরকারের এ বিষয়ে উদাসীনতা রয়েছে, তা প্রমাণ করে যথাসময়ে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু না করা ও সরসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান না কেনায়। ধান সংগ্রহের কোন্ সময়টি সঠিক- তা সরকারের অজানা থাকার কথা নয়। কালক্ষেপণের ফলে কৃষকের ধান মহাজন-ফড়িয়ারা যেনতেন দরে কেনার সুযোগ নিবেÑ এটাও সরকারের অজানা থাকার কথা নয়। তাই কৃষক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে আমদানি-রফতানী বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণের উপর সংশ্লিষ্ট দফতরের আরো বেশি নজর দেয়া উচিত। বিভিন্ন দেশে কোনো পণ্যের উৎপাদন বেশি হলে তারা বাইরের দেশ থেকে একটি সময় বেঁধে দিয়ে আমদানি বন্ধ করে দিয়ে রফতানীর উপর গুরুত্ব দেয়। আবার ওই পণ্যের ঘাটতি দেখা দিলে তখন আমদানি বন্ধের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। বাংলাদেশেও এ বিষয়টির উপর গুরুত্ব দেয়া জরুরী। মূলত, সব সমস্যা সমাধানে চাই সদিচ্ছা ও সততা। এই সততা ও সদিচ্ছা আসে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ অনন্তকালব্যাপী পালন করার ইলম, চেতনা ও জজবা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারকেই কেবলমাত্র সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। আর ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম দিচ্ছেন অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার মহামহিম নিয়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।