সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

আহলে বাইত শরীফ

সম্পাদকীয়।

অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ:
আজ মহিমান্বিত ২১ মাহে জুমাদাল ঊখরা শরীফ;
যা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আফদ্বালুন নিসা ওয়ান নাস বা’দা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম উনার
মহাপবিত্র ও বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সুমহান দিন।
উম্মাহর উচিত এ দিনের মা’রিফত অর্জন ও হক্ব আদায়ে নিবেদিত হওয়া।
 
সমস্ত প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
মুসলমান এবং আহলে কিতাব দাবিদারদের মধ্যে তথা ইহুদী, খ্রিস্টানদের মধ্যে পার্থক্যের মূল বিষয়টি কি? বলাবাহুল্য, প্রধান ফারাককারী বিষয়টি হলো- তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মানে না। নাঊযুবিল্লাহ! এজন্য পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা যদি মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মা’রিফত, সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক পেতে চাও, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইত্তিবা বা অনুসরণ করো। তথা উনাকে মুহব্বত করো।” সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য, মুহব্বতের পূর্বশর্ত হলো মা’রিফত অর্জন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মা’রিফত অর্জন তখনই হবে, যখন উনার পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মা’রিফতও অর্জন হবে। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে মহান আল্লাহ পাক! আমার পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালামগণ উনারা নিশ্চয়ই মহান পবিত্র। সুবহানাল্লাহ!
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু সালমা আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, এ পবিত্র হাদীছ শরীফ যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করছিলেন, তখনই নিম্নোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হলো- “নিশ্চয়ই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি চান হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে অর্থাৎ উনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সৃষ্টি করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুবারক সৃষ্টির মধ্যে একক ও বেমেছাল। উনার সাথে কারো তুলনা হয় না। কাজেই উনার সাথে নিসবতযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিত্ব, বস্তু, বিষয় ইত্যাদিই সর্বশ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাবান। উনার পবিত্র ক্বদম মুবারক উনার স্পর্শধন্য মাটি মুবারক- পবিত্র কা’বা শরীফ, পবিত্র আরশ আযীম শরীফ, পবিত্র কুরসী মুবারক, পবিত্র লওহ, পবিত্র কলম মুবারক থেকে অধিকতর সম্মানিত ও মর্যাদাবান। সেক্ষেত্রে উনার আখাচ্ছুল খাছ নিসবতযুক্ত ও তায়াল্লুকপ্রাপ্ত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক মর্যাদা, মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী, সম্মান কিরূপ হবে- তা সহজেই অনুমেয়।
মশহুর মতে, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ১৩ জন। উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ত্বাহিরা, ত্বইয়িবা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে তাশরীফ মুবারক এনেছেন ৭ জন আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা। উনাদের মধ্যে ৩ জন হচ্ছেন আবনা আলাইহিমুস সালাম। আর ৪ জন হচ্ছেন বানাতু আলাইহিন্নাস সালাম।
বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বাসিম আলাইহি সালাম উনার পর দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তখন দুনিয়াবী জিন্দেগী মুবারক-এ নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ২৯ বছর পার হয়ে ৩০ বছর চলছিলেন। আর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক ছিলেন ৪৪ বছর। সময়টি ছিলো আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের প্রায় ১১ বছর পূর্বে ২১শে জুমাদাল উখরা শরীফ জুমুয়াবার। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত আওলাদ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সপ্তম দিনে উনার নাম মুবারক রাখেন ‘হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম’। সুবহানাল্লাহ!
দুঃখজনক হলেও সত্যে যে, সাধারণ মুসলমান তো বটেই, এমনকি নামধারী আলিমরাসহ অনেক হক্ব দাবিদারও পবিত্র দ্বীন ইসলামের প্রথম যুগের খিদমতে শুধু পুরুষ ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের আলোচনাই করে থাকে। পাশাপাশি হযরত মহিলা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না উনাদের আলোচনা তো তারা করেই না; আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বতে বেমেছাল ফানা ও বাক্বা শান প্রকাশকারিনী তথা উনার খিদমতে সারাজীবন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ খিদমতের আঞ্জাম দানকারিনী বানাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বেমেছাল খিদমত- এমনকি মহিমান্বিত শাহাদাত মুবারক সম্পর্কে তারা জানেই না। নাঊযুবিল্লাহ!
উল্লেখ্য, পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ত্বাহিরা, ত্বইয়িবা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পরেই হযরত বানাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের স্থান। অর্থাৎ উনারাই পুরুষ-মহিলা সকলের মাঝে সর্বপ্রথম সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
শুধু তাই নয়, মহিলাদের মধ্যে শহীদ হয়ে তিনি মূলত সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সম্মানিত মাক্বাম মুবারক উনাকে সম্মানিত করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস তিনি “শি’বে আবী তালিব” থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকের বেমেছাল আনজাম দিয়েছেন। মূলত, উনার থেকেই সমস্ত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা শিক্ষা গ্রহণ করেছেন যে- কিভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকের আনজাম দিতে হয়। সুবহানাল্লাহ! তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকের চিন্তায় সর্বদা এমন ব্যাকুল থাকতেন যে, স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে সান্ত¡না দিয়ে ইরশাদ মুবারক করেন, “আপনার সম্মানিত পিতা উনার জন্য এতো অধিক চিন্তা করা থেকে বিরত থাকুন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
উনার মহিমান্বিত শান মুবারক-এ স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে ইরশাদ মুবারক করেন, “সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি আমার শ্রেষ্ঠ বানাত। আমাকে মুহব্বত করার কারণে দুনিয়ায় উনাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ!
সঙ্গতকারণেই আজ উম্মাহর জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল, আফদ্বালুন নিসা ওয়ান নাস বা’দা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম উনার মা’রিফত-মুহব্বত অর্জন করা। উনাকে অকৃত্রিম মুহব্বত করা। তা’যীম-তাকরীম করা। উনার শান-মান আলোচনা করা। উনার সম্মানার্থে সর্বোচ্চ আর্থিক খিদমত মুবারক করা এবং সমূহ হক্ব মুবারক আদায় করা।
মহান মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ও সম্মানিত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের উসীলায় মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদেরকে কবুল করেন ও কামিয়াব করেন এবং গায়েবী মদদ করেন। (আমীন)

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।