সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

ইসলাম ও জীবন

সম্পাদকীয়।

অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ : বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যয় ২ থেকে ১০গুণ বেশি। চিকিৎসকদের ‘কমিশন ব্যবসা’ ক্লিনিকগুলোর মাত্রাতিরিক্ত- মুনাফাখোরী কী অত্যাচারী জমিদার, নীলকরদের নিপীড়ন ও শোষণ থেকে ভিন্ন কিছু?
সব ছানা-ছিফত খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। এমন ছানা-ছিফত যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। অপরিসীম, অকৃত্রিম, অগণিত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। এমন পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক যা তিনি পছন্দ করেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যয় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ থেকে ১০গুণ পর্যন্ত বেশি নিচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দুর্বল মনিটরিং, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবণতা এবং একশ্রেণীর চিকিৎসকের ‘কমিশন বাণিজ্যের’ কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এক শ্রেণীর নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত অর্থলোভী চিকিৎসক বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরির সঙ্গে গোপন চুক্তিতে রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার উপর কমিশন গ্রহণ করছে। শুধু তাই নয়, কমিশনের লোভে বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করাচ্ছে। এমনকি নিজের পছন্দের প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে আনতে বাধ্য করছে তারা। আর এই অর্থনেতিক দুর্বৃত্তায়নের শিকার হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে বৈধ লাইসেন্সে মাত্র ৬ হাজার ৮৬৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকলেও অবৈধভাবে গড়ে উঠা সেন্টারের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবার নামে চলছে গলাকাটা বাণিজ্য। শুধু রাজধানীতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সংখ্যা ৪০৫টি এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ৬৬০টি। কিন্তু বাস্তবে রাজধানীতে রয়েছে পাঁচ হাজারেরও বেশি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। তাদের কাছে আধুনিক চিকিৎসাসেবার কোনো গুরুত্ব নেই, আছে শুধু লাভের ফন্দি-ফিকির। সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী, আলট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষার জন্য চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে সিঙ্গেল ১১০ টাকা এবং ডাবল ২২০ টাকা। অথচ রাজধানীর ল্যাবএইড, পপুলার, মেডিনোভা, মডার্ন, কমফোর্টসহ বেশিরভাগ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে এ পরীক্ষার জন্য চার্জ দিতে হয় ১৫শ’ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা। ব্রেনের সিটি স্ক্যানের জন্য (ওষুধ ছাড়া) সরকার নির্ধারিত চার্জ ২ হাজার টাকা। কিন্তু বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নেয়া হয় কমপক্ষে ৪ হাজার টাকা। সরকারি তালিকা অনুযায়ী এমআরআই ইনডিভিজুয়াল (প্লেইন) ৩ হাজার টাকা এবং কনট্রাস্ট ৪ হাজার টাকা। এভাবে অন্যান্য পরীক্ষায়ও বেসরকারি ক্লিনিকগুলো বিশাল মুনাফা করে থাকে। ২০১৫ সালে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে স্বাস্থ্য ব্যয় বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি। ২০১২ সালের পরিসংখ্যান উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে একজন রোগীকে তার সার্বিক চিকিৎসা ব্যয়ের ৬৩ দশমিক ৩ শতাংশ নিজেকে বহন করতে হয়। এই ব্যয় থাইল্যান্ডে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ। মূলত, চিকিৎসকদের ‘কমিশন ব্যবসা’র কারণে বাংলাদেশে ব্যায় বেশি হচ্ছে। ‘কমিশন ব্যবসা’র ফলেই বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যয় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আকাশ-পাতাল ব্যবধান থাকে। যেসব চিকিৎসক বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠায়, তাদের একেকটি পরীক্ষার মোট চার্জের ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ কমিশন দেয়া হয়। কোনো কোনো চিকিৎসক এর চেয়েও বেশি কমিশন পেয়ে থাকে। এছাড়া তাদেরকে রান্নার মশলা থেকে বিদেশ ভ্রমণের টিকেট পর্যন্ত প্রায়ই উদ্দেশ্যমূলক উপঢৌকন হিসেবে পাঠানো হয়। তাদের এই কমিশন প্রদান করে অতিরিক্ত মুনাফা নিশ্চিত করতেই বিভিন্ন পরীক্ষার চার্জ প্রকৃত খরচের চেয়ে অনেকগুণ বেশি নেয়া হয়। অথচ সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ রোগীর কাছ থেকে যে অর্থ নেয়া হয়, সেখানেও লাভ থাকে। প্রসঙ্গত আমরা মনে করি, এটা প্রাচীন অত্যাচারী জমিদার, ইংরেজ নীলকর, বর্গী বা ডাকাতের মতোই নিপীড়ন শোষণ। এটি একটি লুণ্ঠন প্রক্রিয়া। সরকারের উচিত, অবিলম্বে একটি সহনীয় গ্রহণযোগ্য চার্জ ধার্য করে এই লুণ্ঠন প্রক্রিয়া বন্ধ করা। পাশাপাশি উল্লেখ্য, দেশের প্রচলিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ডাক্তাররা কোন্ ধরনের রোগীকে কী রোগের জন্য কী পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিচ্ছে, এ পরীক্ষার আদৌ প্রয়োজন রয়েছে কীনা- তা দেখতে অডিট ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারি চার্জ মানার কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই। যদি কোনো নির্দেশনা থাকতো, তাহলে সবাই তা মানতে বাধ্য থাকতো। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এযাবৎ অনেক কথা বলেছে। কিন্তু তার দায়িত্ব শুধু চিকিৎসকদের গ্রামে পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পাশাপাশি গ্রাম-শহরের মানুষ নির্বিশেষে যাতে চিকিৎসকদের নির্মম কমিশন বাণিজ্যের তথা ক্লিনিকগুলোর মুনাফাখোরীর শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করাও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের মৌলিক কর্তব্য। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল সে মৌলিক কর্তব্য পালনে সত্বর তৎপর হবে- এটাই প্রত্যাশা। মূলত, এ সব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ অনন্তকালব্যাপী পালন করার ইলম ও জজবা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারকেই কেবলমাত্র সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। আর ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম দিচ্ছেন অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার মহামহিম নিয়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।