সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

ইসলাম ও জীবন

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকীয় :
***************************************
অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ: মাত্র অর্ধশত ব্যবসায়ী মজুদদারি করে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে চলেছে। ব্যবসাকে মুনাফাখোরী নয়; ইবাদত মনে করতে হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার ও ব্যবসায়ী উভয়েরই দায়বদ্ধতা ও কর্তব্য আছে।
 
সমস্ত প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক। সরকারের দুর্বল বাজার মনিটরিং টিমের কারণে বেড়ে যাচ্ছে নিত্যপণ্যের দাম। বিশেষ করে বেগুনসহ শাক-সবজির দাম বেড়েই যাচ্ছে। আর ভারত রফতানী মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে এই মিথ্যা অজুহাতে এখনই পেঁয়াজের বাজার চড়া। অথচ দেশীয় মজুদ ও আমদানি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কথা নয়। এছাড়া পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের মধ্যেও কোনো সমন্বয় নেই। খুচরা পর্যায়ে শতকরা ১০ টাকা মুনাফা করার ঘোষণা থাকলেও অতি মুনাফা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে গত ফেব্রুয়ারি থেকেই সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির মাধ্যমে যাতে বাজারকে অস্থিতিশীল করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখার কথা জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে লোকসর্বস্ব বৈঠক করেছে সরকারি কর্মকর্তারা। অবশ্য এসব তৎপরতা প্রতি বছরই দেখা যায়। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে বেশি চাহিদাসম্পন্ন পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার এবং যেকোনো মূল্যে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘোষণা দেয় বাণিজ্যমন্ত্রী। সরকারের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকে ভোগ্যপণ্যের উৎপাদক ও বিপণনকারীরা আশ্বাস দেয় যে- পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে কোনো পণ্যের দাম বাড়বে না। কিন্তু এরপরও পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস আসার আগেই বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে বাজারে রমাদ্বান শরীফ মাস নির্ভর খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক হারে। এসব পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ছোলা, পেঁয়াজ, চিনি, ভোজ্যতেল, ডাল ইত্যাদি। বলার অপেক্ষা রাখে না, এ খাদ্যপণ্যগুলো ইফতার সামগ্রী তৈরির অন্যতম উপকরণ। তাই পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস এলেই বাজারে এগুলোর চাহিদা বেড়ে যায়। আর এ সুযোগটিই নেয় অসৎ ব্যবসায়ীরা। বস্তুত পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস আসার বেশ আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় এ অনৈতিকতার তোড়জোড়। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। অথচ এবারো ব্যবসায়ীদের প্রতিশ্রুতি ছিল এ বছর পবিত্র রোজায় কোনো পণ্যের দাম বাড়বে না। কিন্তু ব্যবসায়ীদের সেই ওয়াদা রক্ষা হয়নি। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে পবিত্র রোযা আসার আগেই পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। অথচ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব পণ্যের ব্যবসায়ীরা দাম না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল। ওই সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল, জিনিসপত্রের আমদানি, মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি বছরের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে। তাই ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়বে না। ভোক্তাদেরও উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। জানা গেছে, ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে বাজার থেকে অন্ততঃ ৫ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত হাতিয়ে নেয়ার ধান্দায় রয়েছে। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা থেকেও রিপোর্ট দেয়া হয়েছিল, পবিত্র রমাদ্বান শরীফকে সামনে রেখে অসৎ ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। আর এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী। এদের একটি তালিকাও গোয়েন্দা সংস্থা দিয়েছে। কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। চিনি, ছোলা, তেল, খেজুর, ডালসহ পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে বেশিরভাগ জরুরী পণ্যের মজুদ এখন তাদের হাতে। চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পণ্যই এখন রয়েছে এসব ব্যবসায়ীর গুদামে। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে ছোলার বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে দেশের ৬ থেকে ৮ ব্যবসায়ী। এছাড়া ৮ জনের নিয়ন্ত্রণে থাকছে মটর ডালের বাজার। মসুর ডালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে ১০ ব্যবসায়ী। ভোজ্যতেলের ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ করছে ১২ ব্যবসায়ী। ১০ মাসে দেশে আসা ভোজ্যতেলের ৮০ শতাংশ মজুদ রয়েছে মাত্র ১২ ব্যবসায়ীর হাতে। চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে ৭ ব্যবসায়ী। এ অসৎ ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের মজুদ বাড়িয়ে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। এতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এক্ষেত্রে সরকারি সরবরাহকারী সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও বরাবরই তারা ব্যর্থ হচ্ছে। টিসিবি’র কাছে চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন পণ্যের মজুদ না থাকাটাও তাদের বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা। এক্ষেত্রে টিসিবি’কে মজুদ বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে যেকোনো পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির যৌক্তিক কোনো কারণ না থাকলেও বরাবরই অনৈতিক এই কর্মটি ব্যবসায়ীরা করে যাচ্ছে। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এটি সরকারের বড় ধরনের ব্যর্থতা। প্রয়োজনীয় বাজার মনিটরিংয়ের অভাবেই ব্যবসায়ীরা যা খুশি তাই করার মানসিককতা পেয়ে বসেছে। যেসব ব্যবসায়ী নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নিত্যপণ্যের অবৈধ মজুদ গড়ে তোলার চেষ্টা করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে না পারার কারণে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। এসব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে বাজার স্বভাবিক রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। বিশ্বের সব দেশেই যেকোনো উৎসবকে ঘিরে মূল্য ছাড়ের ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু বাংলাদেশর ক্ষেত্রেই এর ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয়। অন্যান্য দেশের ব্যবসায়ীদের হিসাব হলো বেশি সেল, বেশি লাভ। কিন্তু আমাদের দেশের ক্ষেত্রে তার উল্টোটা হয়ে থাকে। ব্যবসায়ীদের অনৈতিক লাভের মানসিকতাই এর জন্য দায়ী। তাদের এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে মূলত পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার আদর্শ- ইহসান করা ও হক্কুল ইবাদের ধারণার প্রচার ও বিস্তার করতে হবে। তা না হলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কেউ ঠেকাতে পারবে না। মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েজ, তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারকেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।