সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

সমসাময়িক

সম্মাদকীয়।

অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ:
বোরো ধানের উৎপাদন খরচও পাচ্ছে না কৃষক।
হ্রাস পাচ্ছে বোরো আবাদ। অন্য পেশায় ঝুঁকছে কৃষক।
কৃষি ও কৃষক বাঁচাতে জরুরী ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে
*****************************************************************************
সব ছানা-ছিফত খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; এমন ছানা-ছিফত যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। অপরিসীম, অকৃত্রিম, অগণিত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি; এমন পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক, যা তিনি পছন্দ করেন।
এবারও ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না কৃষকরা। উৎপাদন খরচের বিপরীতে আশানুরূপ মূল্য না পাওয়ায় বোরো ধান আবাদে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এবার বোরোতে প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন ব্যয় ২০ টাকা ৭০ পয়সা ও চালের ২৯ টাকা। সেই হিসেবে প্রতি মণ ধানের উৎপাদন মূল্য ৮২৮ টাকা। কিন্তু কৃষকদের ধান বিক্রি হচ্ছে ৯ থেকে ১১ টাকা কেজি দরে। প্রতি কেজি ধান উৎপাদনে কৃষককে লোকসান দিতে হচ্ছে প্রায় ১০ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি ধানের দাম কমেছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা মণ দরে।
উল্লেখ্য, সরকার এ বছর ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেছে প্রতি কেজি ধান ২৩ টাকা আর চাল ৩২ টাকা। সে হিসেবে উৎপাদন খরচ বাদে প্রতি কেজিতে থাকছে মাত্র ২ টাকা ৩০ পয়সা। প্রতি মণ ধানে মাত্র ৯২ টাকা। কৃষক সে মূল্যও পাবে কিনা, প্রতি বছরের ন্যায় তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। কারণ এর আগেও খাদ্য বিভাগ নির্ধারিত মূল্যে ধান না কেনার অভিযোগ আছে। তাছাড়া সরকার এখনো ধান চাল সংগ্রহই শুরু করেনি। কিন্তু কৃষক ধার-দেনা শোধ করতে বাধ্য হয়ে স্থানীয় ফড়িয়া দালালদের নিকট ধান চাল বিক্রি করে দিচ্ছে।
কৃষিশুমারি অনুযায়ী, দেশে এক কোটি ৪৫ লাখ কৃষকের কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড রয়েছে। সরকার দুই কোটি ৩০ লাখ কৃষকের ডাটাবেজ তৈরি করেছে। এর মধ্যে এক কোটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। বোরো ধানের দরপতনে ওই এক কোটি ক্ষুদ্র কৃষক ও তাদের পরিবারের পাঁচ কোটি সদস্য এখন বিপদে পড়েছে। কারণ ধার-দেনা করে বোরো চাষ করে এখন খরচ না উঠায় ঋণের বোঝা আরো ভারী হয়েছে।
ধার-দেনা করে বোরো চাষ করে উপযুক্ত মূল্য না পাওয়ায় হতাশ কৃষকরা। গতবারও কৃষকরা উপযুক্ত মূল্য পায়নি। এর প্রভাব পড়েছে এবারে বোরো আবাদের উপর। স্মরণকালের রেকর্ড ভঙ্গ করে এবার সারাদেশে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সোয়া লাখ হেক্টর কম জমিতে আবাদ হয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে সারাদেশে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৪৮ লাখ হেক্টর জমি। অথচ চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ ও উৎপাদন হয়েছে ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার ১শ’ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৯শ’ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়নি।
চলতি মৌসুমে এ বিপুল পরিমাণ জমি বোরো আবাদের বাইরে চলে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে উৎপাদনে খরচ বেশি হওয়া, উৎপাদিত ধানের উপযুক্ত মূল্য না পাওয়ার পাশাপাশি গতবার উৎপাদনের ভরা মৌসুমে ভারত থেকে ঢালাওভাবে চাল আমদানি করা। যার জের শুধু বোরো নয় আগামী আউশ আবাদেও পড়তে পারে।
এদিকে ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষক বোরো আবাদ ও উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। উপযুক্ত মূল্য না পাওয়ায় এবং ক্রমাগত লোকসানের কারণে কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছে ধান উৎপাদনে। ফলে ভুট্টা, তেল, মসুরীসহ বিভিন্ন রবি ফসলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে কৃষকরা। ফলে বোরো চাষ কম গম ও ভুট্টা চাষ বেশি হচ্ছে। এতে গমে কৃষক উৎপাদন খরচের চেয়ে ২৪ শতাংশ ও ভুট্টায় ৬০ শতাংশ বেশি দাম পাচ্ছে।
তাছাড়া বোরো চাষে বিনিয়োগ বেশি কিন্তু লাভ নেই। অন্যদিকে গম ও ভুট্টায় বিনিয়োগ কম, লাভও বেশি। প্রতি হেক্টরে বোরো ধান চাষে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা খরচ করে ৫ দশমিক ৩৮৯ মেট্রিক টন ধান হয়। অন্যদিকে গমে প্রতি হেক্টরে ৫৩ হাজার ৪০ টাকা খরচ করে পৌনে চার টন উৎপাদন পাওয়া যায়। ভুট্টার ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ আরও কম, উৎপাদন আরও বেশি। প্রতি হেক্টর ভুট্টা চাষে মাত্র ১ লাখ ১৩ হাজার ৬৮০ টাকা খরচ করে উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১২ টন।
উল্লেখ্য, বোরো আমাদের সবচেয়ে বড় ফসলের মৌসুম। অন্য যেকোনো শস্য উৎপাদনে কৃষকদের লাভ হলেও বোরো উৎপাদন কমে গেলে তা দেশের মোট ধানের উৎপাদনে প্রভাব ফেলবে। বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় দেশে ধানের উৎপাদন কমলেও বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়ছে না। কিন্তু হঠাৎ কোনো দুর্যোগের কবলে পড়লে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেলে, দেশের উৎপাদনই হবে ভরসা। তখন হঠাৎ করে ধানের উৎপাদন বাড়ানো যাবে না। ফলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
এমনিতেই দেশে আবাদি জমি কমে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় শিল্পনগরী গড়ে উঠছে। এর উপর উপযুক্ত মূল্য না পেয়ে কৃষি আবাদই প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে অনেক কৃষক। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বোরোসহ সব ধান আবাদে বীজ, সারে ভর্তুকি প্রদান, সেচ খরচ কমানোসহ সার্বিকভাবে ধান আবাদে উৎপাদন খরচ কমানোর বিকল্প নেই। তা করতে না পারলে কৃষক ধান চাষ বাদ দিয়ে অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হবে। এতে দেশে মারাত্মক খাদ্য ঝুঁকি তৈরি হবে। কৃষি ও কৃষক বাঁচাতে কৃষি বান্ধব দাবিদার সরকারকে জরুরী ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয, তাওয়াজ্জুহ।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। আর ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম দিচ্ছেন অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার মহামহিম নিয়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।