সুওয়ালঃ

সুওয়ালঃ
একজন প্রশ্ন করেছেন হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার তওবা কবুল হল কার কার নামের উছিলায় ? যেহেতু কোরআন মজিদে ‘কালিমাতিন’ শব্দ যে বহু বচন বলা হল।
জওয়াবঃ
মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন,
فَتَلَقَّى آدَمُ مِن رَّبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيم
كَلِمَة শব্দটি একবচন এবং
كَلِمَاتٍ শব্দ বহুবচন। আর অনেকগুলি كَلِمَةমিলে বাক্য হয় । অর্থাৎ আল্লাহ পাক কিছু কথা শিক্ষা দিয়েছেন আর এই বাক্য বা কথাই হল দোয়া। অর্থাৎ এখানে كَلِمَاتٍ শব্দ দ্বারা দোয়া বুঝানো হয়েছে ।
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। আর এই দোয়া মুবারক হচ্ছে উছিলা।
মুফাসসির কেরামগণ বিভিন্ন তাফসির গ্রন্থে কয়েক ধরণের মত দিয়েছেন তবে সব চেয়ে গ্রহন যোগ্য মত হচ্ছে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার অভিমত। তিনি বলেছেন , সে বাক্যগুলি (কথাগুলি) অর্থাৎ দোয়া হচ্ছে , যা কোরান শরিফের অন্যত্র রয়েছে,
قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِين
(সূরা আ’রাফঃ ২৩)
অর্থঃ “ হে আমাদের পরওয়ারদেগার , আমরা আমাদের নিজেদের উপর জুলুম বা অত্যাচার করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হব। ” এবং
আরেকটি দোয়া হচ্ছে,
لاَ اِلهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ .
আরেকটি দোয়া হচ্ছে,
سُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَ بِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ كَ تَعَالى جَدُّكَ اِلاَّ اَنْتَ ظَلَمْتُ نَفْسِىْ فَاغْفِرْلِىْ اِنَّه لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلاَّ اَنْتَ .
আর হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার তওবা কবুল হয়েছে শুধু মাত্র আমাদের প্রীয় নবীজি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উছিলায় । অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উছিলা দিয়ে দোয়া করেছেন।
হাদীছ শরীফে উল্লেখ রয়েছে,
حدثنا ابو سعيد عمرو بن محمد بن منصور العدل ثنا ابو الحسن محمد بن اسحاق بن ابراهيم الحنظلى ثنا ابو الحارث عبد الله بن مسلم الفهرى ثنا اسماعيل بن مسلمة انبأ عبد الرحمن بن زيد بن أسلم عن ابيه عن جده عن عمر بن الخطاب عليه السلام قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لـما افترى ادم عليه السلام الخطيئة قال يارب اسألك بحق محمد صلى الله عليه وسلم لـما غفرت لى فقال الله يا ادم عليه السلام وكيف عرفت محمدا صلى الله عليه وسلم ولـم اخلقه؟ قال يا رب لـما خلقتنى بيدك ونفخت فى من روحك رفعت رأسى فرأيت على قوائم العرش مكتوبا لا اله الا الله محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم فعلمت أنك لـم تضف الى اسمك الا احب الخلق اليك فقال الله صدقت يا ادم عليه السلام انه لاحب الخلق الى ادعنى بحقه فقد غفرت لك ولو لا محمد صلى الله عليه وسلم ما خلقتك. هذا حديث صحيح الاسناد.
(الـمستدرك على الصحيحين للحاكم النيسابورى كتاب تواريخ المتقدمين ذكر اخبار سيد المرسلين وخاتم النبين محمد بن عبد الله بن عبد المطلب المصطفى صلوات الله عليه وعلى اله الطاهرين الجلد ۴ الصفحة ۱۵۸۳. الصحيحة ۱/۸۸. مختصر المستدرك ۲/۱۰۶۹. التوسل (۱۱۵). تفسير الدر المنثور ۱/۵۸. كنز العمال ۱۱/۴۵۵)
অর্থ: “হযরত ইমাম হাফিয আবু আব্দিল্লাহ মুহম্মদ বিন আব্দুল্লাহ হাকিম নীসাবূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমাদের কাছে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত আবু সাঈদ আমর বিন মুহম্মদ বিন মানছূর আদল রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত আবুল হাসান মুহম্মদ বিন ইসহাক বিন ইবরাহীম হানযালী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন আবুল হারিছ আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম ফাহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত ইসমাঈল বিন মাসলামাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে খবর দিয়েছেন হযরত আব্দুর রহমান বিন যায়িদ বিন আসলাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পিতা থেকে, তিনি উনার দাদা থেকে, তিনি ছাহাবী হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম থেকে। তিনি বলেছেন, সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার দোয়া কবুলের সময় হলো। তখন তিনি দোয়া করলেন, হে আমার রব! আমি আপনার কাছে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উসীলায় প্রার্থনা করছি। অতএব, আমার দোয়া কবুল করুন। মহান আল্লাহ তায়ালা বললেন, হে হযরত আদম আলাইহিস সালাম! আপনি কিভাবে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে চিনলেন, অথচ এখনো উনাকে দুনিয়ায় প্রেরণ করিনি? জবাবে হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে আমার রব! আপনি যখন আমাকে আপনার কুদরতী হাত মুবারক-এ তৈরি করে আমার মধ্যে রূহ মুবারক ফুঁকে দেন, তখন আমি আমার মাথা উত্তোলন করে আরশের খুঁটিসমূহে লিখিত দেখতে পাই-
لا اله الا الله محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم
‘আল্লাহ পাক ব্যতীত কোনো ইলাহ বা মাবূদ নেই সাইয়্যিদুনা মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল।’ তখন আমি বুঝতে পারলাম আপনার নাম মুবারক উনার সাথে যাঁর নাম মুবারক সংযুক্ত আছে তিনি সৃষ্টির মধ্যে আপনার সবচেয়ে মুহব্বতের হবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, হে হযরত আদম আলাইহিস সালাম! আপনি ঠিকই বলেছেন, কারণ তিনি সৃষ্টির মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে মুহব্বতের। হযরত আদম আলাইহিস সালাম বললেন, আয় আল্লাহ পাক! উনার উসীলায় আমার দোয়া মুবারক কবুল করুন। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আমি আপনার দোয়া মুবারক কবুল করলাম। যদি আমার হাবীব মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি না হতেন তাহলে আমি আপনাকেও তৈরি করতাম না।” সুবহানাল্লাহ! পবিত্র এ হাদীছ শরীফখানার সনদ ছহীহ তথা বিশুদ্ধ।
(আল মুসতাদরাক আলাল ছহীহাইন লিল হাকিম আননীসাবূরী-কিতাবু তাওয়ারিখিল মুতাক্বাদ্দিমীন- যিকরু আখবারি সাইয়্যিদিল মুরসালীন ওয়া খাতামিন নাবিইয়ীন মুহম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিবিল মুস্তফা ছলাওয়াতুল্লাহি আলাইহি ওয়া আলা আলিহিত ত্বাহিরীন ৪র্থ খ- ১৫৮৩ পৃষ্ঠা, আছ ছহীহাহ ১ম খ- ৮৮ পৃষ্ঠা, মুখতাছারুল মুস্তাদরাক ২য় খ- ১০৬৯ পৃষ্ঠা, আত তাওয়াসসুল ১১৫ পৃষ্ঠা, তাফসীরুদ দুররিল মানছূর লিছ ছূয়ূত্বী ১ম খ- ৫৮ পৃষ্ঠা, কানযুল উম্মাল ১১ খ- ৪৫৫ পৃষ্ঠা।)
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।