হিন্দু

অনেকেই দাবি করে থাকে, সউদী আরবেযদি হারাম টিভি থাকে, তবে অন্যস্থানেরাখতে সমস্যা কোথায়? নাউযুবিল্লাহ!এর উত্তরে বলতে হয়, সউদী আরব পবিত্রদ্বীন ইসলাম উনার দলিল নয়, পবিত্র দ্বীনইসলাম উনার দলিল হচ্ছে পবিত্র কুরআনশরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ। পবিত্রহাদীছ শরীফ অনুসারে ছবি বা টিভিহারাম, তাই সউদী আরব কি করলো তামুসলমানদের দেখার দরকার নাই।তারপরও যে সকল মূর্খ এ ধরনের কথা বলে,তাদের সউদীতে টিভি প্রবেশেরইতিহাস জেনে রাখা প্রয়োজন। আসুনইতিহাস পড়ে নেই-সউদী আরবের ওহাবী কথিত বাদশাহফয়সাল (শাসনকাল: ১৯৬৪-১৯৭৫) সর্বপ্রথম১৯৬৫ সালে দেশটিতে হারাম টিভিব্রডকাস্টের অনুমতি দেয়। সউদী আরবেহারাম টিভি প্রবেশ করবে এ কথা শুনে ঐসময় সকল আলেম-ওলামা এর বিরুদ্ধেফতওয়া দিয়েছিলো। ঐ সময়-আলেমওলামারা বলেছিলো, যদি সউদীতেটিভি প্রবেশ করে, তবে পরবর্তীতে এরদেখাদেখি সমগ্র মুসলিম বিশ্ব টিভিকেহালাল মনে করবে। তাই ঐ সময় টিভিরবিরুদ্ধে সউদী আরবে অনেক আন্দোলনওহয়। কিন্তু তারপরও আলেম-ওলামাদের কথাসম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে সউদীতে টিভিপ্রবেশ করায় কথিত কিং ফয়সাল।এ ক্ষোভ ও প্রতিবাদ সউদী কথিতরাজপরিবারের ভেতরে পর্যন্ত চলেআসে। এ ক্ষোভের কারণেই ১৯৭৫ সালের২৫শে মার্চ ভাতিজা কথিত প্রিন্স ফয়সালবিন মোসাইদের হাতে নিহত হয় কিংফয়সাল। হত্যাকা-ের সময় কথিত কিংফয়সাল কুয়েতের প্রতিনিধি দলের সাথেসাক্ষাৎ করছিলো। ভাতিজা ঘরে প্রবেশকরতেই কথিত কিং ফয়সাল সবার সামনেভাতিজাকে ধরে কপালে চুমু খেতে যায়,সেই মুহূর্তে ভাতিজা কথিত প্রিন্স ফয়সালবিন মোসাইদ তার পিস্তল বের করে এবংদুটি গুলি করে। একটি গুলি ফয়সালেরথুতনিতে লাগে, অন্যটি কানে। আহতঅবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পরসেখানেই কথিত কিং ফয়সাল মারা যায়।(সূত্র: বই- ঞযব ডধযযধনর গরংংরড়হ ধহফ ঝধঁফরঅৎধনরধ, লেখক- উধারফ উবধহ ঈড়সসরহং)দেখা যাচ্ছে, সউদী আরবে হারাম টিভিপ্রবেশ করার সময় মুসলমানরা যথেষ্ট বাধাদিয়েছিলো এবং বিষয়টি নিয়ে এতটাইদ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয় যে খোদ কথিত রাজাকেপর্যন্ত জীবন দিতে হয়েছিলো। তাই এখনযারা বলে থাকে- ‘সউদীতে টিভিথাকলে বাংলাদেশে সমস্যা কোথায়?’এরা ইতিহাস জ্ঞানকূন্য নিরেট মূর্খ ছাড়াকিছু নয়।
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।