সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

বিভাগবিহীন

হিন্দু

এখন শুধুই স্মৃতিএখন শুধুই ইতিহাস:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::“মসজিদ ভাঙ্গিয়া রাধামাধবের মন্দির গড়িব”-বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাস অনুযায়ী এটিই হিন্দুদের জাতিগত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য“কেহ চিৎকার করিতে লাগিল, “মার, মার নেড়ে মার।” কেহ গাহিল, “হরে মুরারে মধুকৈটভারে!” কেহ গাহিল, “বন্দে মাতরম।” কেহ বলে, “ভাই, এমন দিন কি হইবে, মসজিদ ভাঙ্গিয়া রাধামাধবের মন্দির গড়িব?” (আনন্দমঠ, তৃতীয় খ-, অষ্টম পরিচ্ছেদ)‘আনন্দমঠ’কে বলা হয় হিন্দুদের পলিটিক্যাল ডকট্রিন। আজকের ভারতে যে উগ্র হিন্দুত্ববাদ, তার শেকড় নিহিত রয়েছে চরম মুসলিমবিদ্বেষী বঙ্কিমচন্দ্রের রচিত ‘আনন্দমঠে’। সুতরাং এর মধ্যে যেই ‘মসজিদ ভাঙ্গিয়া রাধামাধবের মন্দির’ বানানোর উল্লেখ রয়েছে, তা মূলত গোটা হিন্দু সম্প্রদায়েরইজাতিগত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এর ধারাবাহিকতাতেই বাবরি মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে মসজিদের জায়গায় মন্দির তৈরি করার হীন প্রচেষ্টা চালাচ্ছে উগ্র হিন্দুরা।কোলকাতায় মুসলমানদের কবরস্থানের উপর তৈরি করা হয়েছিল হিন্দুদের প্রধান কালীমন্দির ‘দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির’:ব্রিটিশআমলের পর যখন এ অঞ্চলের মুসলমান শাসনের অবসান হয়, তখন ব্রিটিশরা মুসলমানদের ওয়াকফকৃত সম্পত্তিগুলো আত্মসাৎ করে তা তাদের অনুগত হিন্দুদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে শুরু করে। এখন আমরা জানি যে, ওয়াকফকৃত জমির মধ্যে মসজিদ, কবরস্থান, মাদরাসা প্রভৃতি নির্মাণ করা হয়ে থাকে। ফলশ্রুতিতে সেসব মসজিদ, মাদরাসা, কবরস্থান প্রভৃতি ব্রিটিশদের দালাল হিন্দুদের দ্বারা অপমানিত, অপবিত্র ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং সেগুলো ধ্বংস করে মন্দির নির্মাণ করা হয়।পশ্চিমবঙ্গের হুগলী নদীর তীরে অবস্থিত দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির হিন্দুদের প্রধান কালীমন্দিরগুলোরএকটি। ‘রামকৃষ্ণ মিশন’ যার নামে নামকরণ হয়েছে, সেই রামকৃষ্ণ পরমহংস ছিল এই মন্দিরের পুরোহিত। উইকিপিডিয়াতে এই মন্দির নির্মাণের ইতিহাস সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে যে-“মন্দিরের ২০ একরের প্লটটি জন হেস্টি নামে এক ইংরেজের কাছ থেকে কেনা হয়। লোকমুখে জায়গাটি পরিচিত ছিল সাহেবান বাগিচা নামে। এর একটি অংশ ছিল কচ্ছপাকার মুসলমান গোরস্থান। তাই তন্ত্রমতেস্থানটি শক্তি উপাসনার জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়। ৮ বছরে ৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই মন্দির নির্মিত হয়।”অর্থাৎ পাঠকেরা বুঝতেই পারছেন যে, দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির তৈরি করা হয়েছিল যে জায়গাটিতে, তা ছিল ‘সাহেবান বাগিচা’ নামে মুসলমানদের ওয়াকফকৃত সম্পত্তি, যা ব্রিটিশরা দখল করে নিয়েছিল। উক্ত ওয়াকফকৃত জায়গায় একটি কচ্ছপ আকৃতির কবরস্থান ছিল।হিন্দুরা তাদের কালীমন্দিরগুলো নির্মাণ করে মূলত শশ্মানের পাশে, কারণ কালীপূজা ও তন্ত্রসাধনার সাথে মৃত মানুষের লাশের বিষয়টি জড়িত। শশ্মানে হিন্দুদের লাশকে কেন্দ্র করেই কালীমন্দির নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এখানে হিন্দুরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মুসলমান মুর্দাদের অপমান করতে, মুসলমানদের কবরস্থানকে অপবিত্র করতে তাকে কেন্দ্র করে কালীমন্দির নির্মাণ করেছে।মুসলমানদের পবিত্র লাশকে তারা নাপাক পূজা ও বিকৃত তন্ত্রসাধনার উপলক্ষ করেছে। নাউযুবিল্লাহ!শুধু তাই নয়, কবরস্থানকে কেন্দ্র করে তৈরি করা মন্দিরকে হিন্দুরা ঘোষণা করেছে তাদের প্রধান মন্দির হিসেবে। অর্থাৎ এই মন্দির প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হিন্দুরা শুধু মুসলমানদের লাশকেই অপমানিত করেনি, তার সাথে সাথে গোটা মুসলিম জাতিকেই হিন্দুরা চরমভাবে হেয় করেছে, অপমানিত করেছে।

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।