হিন্দ

সম্প্রতি হিন্দুদেরকে প্রায়ই একটি কথা বলতে শোনা যায়। তা হলো, এদেশ থেকে হিন্দুদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তারা মুসলমানদের এ বলে ভয় দেখায় যে, এদেশ থেকে হিন্দুরা চলে গেলে নাকি এদেশ সিরিয়া ইরাকহয়ে যাবে। হিন্দুরা বলে থাকে, ঐসব দেশ ১০০% মুসলমানের দেশ বলেই নাকি ঐসব দেশ ধ্বংসস্তুপ হয়েছে।যেসব মুসলমানরা এসব শুনে হিন্দুদেরকে বাংলাদেশে রাখতে মনস্থির করছে, তাদের উদ্দেশ্যে বলবো যে ইরাক সিরিয়া ১০০% মুসলমানদের দেশ কখনোই ছিলো না। সাদ্দাম আমলে ইরাকের একজন মন্ত্রী ছিলো খ্রিস্টান তারিক আজিজ, যে সিআইএর হয়ে দেশবিরোধী কাজ করেছিলো। সিরিয়াতেও প্রচুর খ্রিস্টান রয়েছে।মিশরে কপটিক খ্রিস্টানদের আলাদা কমিউনিটি রয়েছে। মোটকথা, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে হানাহানি হচ্ছে, সেগুলোর কোনটাই হিন্দুদের বক্তব্যনুযায়ী ১০০% মুসলমানের দেশ নয়।আসলে মুসলমানদের বুঝতে ভুল হচ্ছে। কারণ ১০০% মুসলমানের দেশ হওয়ার মধ্যেই বাংলাদেশের উন্নতির গোপন সূত্র নিহিত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মুসলমানরাই সর্বেসর্বা, সেসব দেশ কিন্তু উন্নত। কারণ উন্নতির জন্য চাই জাতীয় ঐক্য, আর জাতীয় ঐক্যের জন্য চাই এক ধর্ম, এক জাতি ও এক ভাষারপ্রাধান্য।পাকিস্তান আমলে কিন্তু ঠিক এমনটিই হয়েছিলো। ব্রিটিশ আমলে হিন্দুদের প্রাধান্য থাকায় তারা এ অঞ্চলে কোনো উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে দেয়নি। এক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত ব্রিটিশ আমলেএ অঞ্চলে কোনো ভার্সিটি গড়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু পাকিস্তান আমলে যেই মুসলমানদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হলো, অমনি বিশ বছরের মধ্যেই চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর ভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হলো। বুয়েট, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলো। চারটি ক্যাডেট কলেজ গড়ে উঠলো। আমরা যে একাত্তরেপাকিস্তানের বিরুদ্ধে জিতেছিলাম, এর পেছনে পাকিস্তান আমলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন একটি বড় ভূমিকা পালন করেছিলো।কিন্তু একাত্তরের পর ফের মুসলমানদের গাফলতির কারণে হিন্দুরা মাথায় চড়ে বসে। আমরা খেয়াল করলেই দেখবো, এই দেশের উন্নতি ও জাতীয় জীবনকে পিছিয়ে রাখতে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মন থেকে দেশপ্রেম উঠিয়ে নিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করছে এদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব। গুটিকয়েক হিন্দুর কারণে আমাদের জাতীয় জীবনে কিছুতেই ঐক্য ও স্থিতিশীলতা আসছে না।১) এদেশে বর্তমানে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল, আমলা ও বুদ্ধিজীবীরা ভারতের দালাল হতে ব্যাকুল। এর পেছনে মূল উসিলা হিসেবে কাজ করছে এদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের অবস্থান। এই যে এদেশের কতিপয় সুশীলেরা এখনও ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন’ এর দোহাই দিয়ে মুসলিমবিরোধী কাজকর্ম হালাল করছে, এটা কখনোই সম্ভব হতো না যদি হিন্দুরা এদেশে না থাকতো। তাও আর কতোটুকু, মাত্র ২ শতাংশ হিন্দু।২) এদেশে নাস্তিকতাবাদের বীজটি ধরে রেখেছে কিন্তু হিন্দুরা, যে যাই বলুক না কেন। বইমেলা হোক আর গণজাগরণ মঞ্চ হোক, এই নাস্তিক গোষ্ঠীটির কারণে দেশে চরম অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির সম্ভবনা দেখাদেয়। এখন যদি কোনোভাবে হিন্দু সম্প্রদায়কে বিতাড়িত করা যায়, তাহলে এদেশ এই নাস্তিকতার অস্থিরতা থেকে চিরতরে মুক্ত হবে। সরকারেরও উচিত বিষয়টি ভেবে দেখা।৩) এদেশের প্রত্যেকটি জাতীয় পর্যায়ে মুসলমানদের কোনোকিছু প্রতিষ্ঠা করতে গেলেই সাম্প্রদায়িকতারপ্রসঙ্গ আসে, কারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব। আপনি ইউরোপ আমেরিকা বলুন আর যে কোন উন্নত দেশেরকথাই বলুন, দেখবেন সেসব দেশের মুদ্রা থেকে শুরু করে জাতীয় পতাকা প্রত্যেকটি জায়গায় নিজ নিজ ধর্মের চিহ্ন রয়েছে। ইউরোপের প্রায় সবগুলো দেশের পতাকায় রয়েছে ক্রুশের চিহ্ন। ধর্মের সাথে জাতীয়চিহ্ন ও অনুষ্ঠানের মিল থাকার কারণে সেসব দেশের মানুষের জাতীয়তাবোধ অত্যন্ত বেশি, দেশাত্মবোধ অত্যন্ত বেশি।কিন্তু বাংলাদেশে আপনি তা চিন্তাই করতে পারবেন না। এদেশে এখন রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করতে হাইকোর্টে ২৭শে মার্চ রিটের শুনানি ডাকা হয়েছে। যারা রিট দায়ের করেছে তাদের মূল কথাই হলো, এদেশেহিন্দু আছে তাই রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করা যাবেনা।অর্থাৎ বিষয়টি কী দাঁড়ালো?হিন্দু নেই, তো ইসলামবিরোধী লেখক-সাহিত্যিক নেই!হিন্দু নেই, তো ভারতের দালাল নেই!হিন্দু নেই, তো অনলাইনে নাস্তিকতা নেই!হিন্দু নেই, তো এদেশের সংবিধান থেকে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ তুলে দেয়াও নেই!এদেশে হিন্দু না থাকলে তসলিমা নাসরিনের জন্ম হতো না, এদেশে হিন্দু না থাকলে আনিসুজ্জামান ফালাফালি করতো না, এদেশে হিন্দু না থাকলে আজ মুসলমানদের কোন দুশ্চিন্তাই থাকতো না বলা চলে।২ শতাংশেরও কম হিন্দু আজ এদেশের ৯৫ শতাংশেরও অধিক মুসলমান জাতির গলায় একটি বিষের কাঁটা হয়ে বিঁধে রয়েছে। মুসলমানদের উচিত হবে, এদেশে এখনও যেই গুটিকয়েক হিন্দু রয়েছে, তাদের সামান্য জমিজিরাত নগদ অর্থে কিনে নিয়ে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দিয়ে হলেও তাদেরকে ভারতে বিদায় করা।৯৫ শতাংশেরও অধিক মুসলিম জনগোষ্ঠীর কাছে এটা তেমন কিছুই না। কিন্তু এই পদক্ষেপটুকু নিতে পারলেই এদেশের সত্যিকার অর্থে মুক্তি অর্জিত হবে। তখন এদেশে মানুষে মানুষে এতোটা সাম্য, এতোটা সৌহার্দ্য বিরাজ করবে, এতোটা ভ্রাতৃত্ব, দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্য বিরাজ করবে যে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব হবে না।
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।