বাচ্চু ভিলায় (আযাদ ভিলা) বাচ্চু নেই

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য (রুকন) আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চুর বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তবে গ্রেপ্তার করতে রাজধানীর উত্তরখানে তাঁর বাড়িতে গিয়ে পুলিশ তাঁকে খুঁজে পায়নি। গত সোমবার গভীর রাতে তিনি ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছেন।
বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ গতকাল এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদেশ দেন। এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও মো. শাহিনুর ইসলাম। আদেশে বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন ও অন্যান্য কাগজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, বাচ্চুর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যেমন: হত্যা, লুট, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ প্রভৃতি অভিযোগের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ায় এক ব্যক্তিকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। বাচ্চু প্রভাবশালী এবং ট্রাইব্যুনাল মনে করেন, সে বাইরে থাকলে তদন্তপ্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার যৌক্তিক আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য তাকে গ্রেপ্তার করে আটক রাখার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করা হলো।
বাচ্চুর বর্তমান ঠিকানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়ে ট্রাইব্যুনাল আদেশে আরও বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করবেন। গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে হবে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের একটি অনুলিপি গ্রেপ্তারের সময় তাকে সরবরাহ করতে হবে। বেলা ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনাল আদেশ দেওয়া শেষ করেন।
গত ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল-২-এর উদ্বোধনী কার্যদিবসে বাচ্চুকে গ্রেপ্তারের আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। কার্যপ্রণালি বিধিমালার ৬ ও ৯(১) বিধি অনুসারে ওই আবেদন করা হয়। বিধি-৬ অনুসারে, কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে মর্মে যদি তদন্তকারী কর্মকর্তার বিশ্বাস জন্মে, তাহলে তিনি ঘটনাস্থলে যাবেন, অপরাধ-সম্পর্কিত ঘটনা ও অবস্থা তদন্ত করবেন এবং প্রয়োজনবোধে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ নেবেন। ৯(১) বিধিতে বলা হয়েছে, কার্যকর ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে তদন্তের যেকোনো পর্যায়ে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলির মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের কাছ থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংগ্রহ করতে পারবেন।
গত ২৫ মার্চ আবেদন উপস্থাপনকালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সৈয়দ হায়দার আলী বলেছিলেন, বাচ্চু রাজাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং পাঁচটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) মালিক। তার অসংখ্য অনুগত রয়েছেন, যারা তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ফরিদপুরের রণজিৎ কুমার নাথ নামের এক ব্যক্তি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে সাক্ষ্য দেওয়ার পর বাচ্চুর সহযোগীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিলে সে থানায় জিডি করে। গ্রেপ্তার করা না হলে সে পালিয়ে যেতে পারে এবং সহযোগীদের দিয়ে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। সুষ্ঠু ও কার্যকর তদন্তের জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন।
গত সোমবার রাষ্ট্রপক্ষ বাচ্চুকে গ্রেপ্তারের পক্ষে নয়টি কারণ উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে।
গ্রেপ্তারে অভিযান: ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর বেলা পৌনে তিনটার দিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার সুনন্দা রানী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে উত্তরখানে বাচ্চুর বাড়ি ‘আজাদ ভিলা’য় যান। ডিবি পুলিশ ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে খুঁজে পায়নি। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ডিবি পুলিশের দলটি ওই বাড়ি থেকে ফিরে আসে।
জানতে চাইলে সুনন্দা রানী প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হাতে পেয়ে তারা তা তামিল করতে গিয়েছিল। কিন্তু বাচ্চুকে তার বাড়িতে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এখন তাকে গ্রেপ্তারের জন্য দেশের সব থানায় ছবিসহ পরোয়ানা পাঠানো হবে।
বাচ্চুর মেয়ে তামানিয়া জান্নাত সাংবাদিকদের বলে, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে তিনি (বাচ্চু) বাসা থেকে বের হয়। এর পর থেকে তার আর কোনো খবর নেই।
পুলিশের উত্তরা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উত্তরখানের ওই বাড়ির সামনে সাদা পোশাকের পুলিশের নজরদারি রয়েছে।
2 টি মন্তব্য
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।
তাজদীদ
আবু আসআদ