পক্ষান্তরে উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে কত সোচ্চার মনোভাব ছিল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরম্ভ করে মুসলমানদের স্বতন্ত্র আবাসভূমি সম্পর্কে কিরূপ বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছিল
সর্বোপরি অখ- হিন্দু ভারত গড়ার লক্ষ্যে তার কি ভীষণ তীব্র মনোভাব ছিল তা জানা ও উপলব্ধি করা
রবীন্দ্র সাহিত্য বিশ্লেষণে এসবের প্রমাণ এন্তার (১১){মুসলিম বিদ্বেষ ওদের জাতিগত। এ অভ্যাস ওদের বহু পুরান।
এ অভ্যাস ওদের দীর্ঘদিনের
এ অভ্যাস ওদের আদি ও অভয়ক্রম।
মুসলমানদেরকে অশ্লীল অশ্রাব্য ভাষায় গালি প্রদান এবং মুসলমানদের প্রতি মিথ্যা কালিমা লেপনের নিকৃষ্ট নজির স্থাপন করেছে বঙ্কিমচন্দ্র, ঈশ্বরচন্দ্র, নবীনচন্দ্র, রঙ্গলাল, হেমচন্দ্র, দীনবন্ধু মিত্র, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, দামোদর মুখোপাধ্যায় থেকে খোদ রবীন্দ্রনাথসহ সব হিন্দু কবি-সাহিত্যিকই।
বাংলা সাহিত্যে এসব হিন্দু কবি-সাহিত্যিকদের ঘৃণ্য সাম্প্রদায়িকতা ও চরম বিদ্বেষের শিকার হয়ছেন মুসলমানরা। বঙ্কিমচন্দ্র তার শেখা প্রায় সবকটি গালি ‘আনন্দ মঠ’ উপন্যাসে মুসলমানদের উদ্দেশ্যে প্রয়াগ করেছে। ‘ম্লেচ্ছ’ হতে শুরু করে ‘যবন’ পর্যন্ত। এমনকি প্রাচীনকালে বৌদ্ধদের দেয়া ‘নেড়ে’ গালিটাকেও সে উহ্য রাখেনি।
শুধু তাই নয়, তারা ম্লেচ্ছ, অস্পৃশ্য, যবন, নেড়ে ছাড়াও মুসলমানদের পাষ-, পাপিষ্ঠ, পাপাত্মা, দুরাত্মা, দুরাশয়, নরাধম, নরপিশাচ, পাতকী, বানর, এঁড়ে, দেড়ে, ধেড়ে, অজ্ঞান, অকৃতজ্ঞ, ইতর এ জাতীয় কোন গালি দিতে বাদ দেয়নি।
তন্মধ্যে রবীন্দ্রনাথ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয় মুসলিম বিদ্বেষ ও হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তিকে চাঙ্গা করার জন্য অনেক গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস, কবিতা রচনা করেছে। রবীন্দ্রনাথের লেখনি তার সমকালীন হিন্দুদেরকে চরম মুসলিমবিদ্বেষী হতে উৎসাহিত করেছিল।
রবীন্দ্রনাথ কী রকম ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী ছিল, তা একটা প্রমাণেই বুঝা যাবে। তার ‘রীতিমত নভেল’ নামক ছোটগল্পে মুসলিম চরিত্র হরণ করেছে এভাবে-
“আল্লাহো আকবর শব্দে বনভূমি প্রতিধ্বনিত হয় উঠেছে।
একদিকে তিন লক্ষ যবন (মুসলিম) সেনা অন্য দিকে তিন সহস্র আর্য (হিন্দু) সৈন্য।
... পাঠক, বলিতে পার ... কাহার বজ্রমণ্ডিত ‘হর হর বোম বোম’ শব্দে
তিন লক্ষ ম্লেচ্ছ কণ্ঠের ‘আল্লাহো আকবর’ ধ্বনি নিমগ্ন হয় গেলো।
ইনিই সেই ললিতসিংহ। কাঞ্চীর সেনাপতি। ভারত-ইতিহাসের ধ্রুব নক্ষত্র।”
শুধু ‘রীতিমত নভেল’ই নয়। রবীন্দ্রনাথ তার ‘সমস্যা’ ‘পুরান’, ‘দুরাশা’ ও ‘কাবুলীওয়ালা’ গল্পে মুসলমানদের জারজ, চোর, খুনি ও অবৈধ প্রণয় আকাঙ্খিণী হিসেবে উপস্থাপন করেছে। (নাঊযুবিল্লাহ!)
বিশেষ করে ‘দুরাশা’ গল্পের কাহিনীটি আরও স্পর্শকাতর। এখানে দেখানো হয়ছে, একজন মুসলিম নারীর হিন্দু ধর্ম তথা ব্রাহ্মণদের প্রতি কি দুর্নিবার আকর্ষণ এবং এই মুসলিম নারীর ব্রাহ্মণ হবার প্রাণান্তকর কোশেশের চিত্র। (নাঊযুবিল্লাহ!)
রবীন্দ্রনাথ এমন এক ব্যক্তি যে ভারতবর্ষব্যাপী শুধুমাত্র হিন্দুদের নিয় একক ও ঐক্যবদ্ধ হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্খা পোষণ করতো। মহারাষ্ট্রের ‘বালগঙ্গাধর তিলক’ ১৮৯৫ সালের ১৫ এপ্রিল ‘শিবাজী উৎসব’ প্রতিষ্ঠা করেছিল উগ্র হিন্দু জাতীয়তা ও সাম্প্রদায়িকতা প্রচার ও প্রসারের জন্য।
‘সঞ্চয়িতা’ কাব্যগ্রন্থে ‘শিবাজী উৎসব’ কবিতায় যবন, ম্লেচ্ছ রবীন্দ্রনাথ এ আকাঙ্খা করে বলে-
“এক ধর্ম কাব্য খ- ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ভারত বেঁধে দিব আমি .......
........ ‘এক ধর্ম রাজ্য হবে এ ভারতে’ এ মহাবচন করিব সম্বল।”
‘শিবাজী-উৎসব’ নামক কবিতায় রবীন্দ্রনাথ আরও বলেছে- শিবাজী চেয়ছে হিন্দুত্বের ভিত্তিতে ভারতজুড়ে এক হিন্দু ধর্ম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা। কিন্তু বাঙালিরা সেটা বোঝেনি। না বুঝে করেছে ভুল।
কিন্তু এতসব ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দেয়ার পরও, এতসব লেখার পরও কিন্তু এদেশের মুসলিম নামধারী রবীন্দ্র পূজারী মহলের বোধোদয় হচ্ছে না! }
(পূর্ব প্রকাশিতের পর )
রবীন্দ্রনাথ কখনো মুসলিম বিদ্বেষী বাঙালী হিন্দু চিন্তা-চেতনা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। তার যুগে বাঙালী হিন্দু বুদ্ধিজীবীদের বেশির ভাগ যে চেতনায় সাহিত্য সৃষ্টি করতো সে তার ব্যতিμম ছিলো না।
এ ধারার অন্যতম মুসলিম বিদ্বেষী বঙ্কিমচন্দ্রকে অত্যন্ত সমীহ করতো রবীন্দ্রনাথ। কারণ তার জানা ছিল যে, বঙ্কিম ব্রিটিশরাজের এক নম্বর বাছাই করা ব্যক্তি। সে বঙ্কিম রচিত চরম সাম্প্রদায়িকতাদুষ্ট আনন্দমঠে রচিত ‘বন্দে মাতরম’ গানে সুর দেয় এবং নিজে গেয়ে বঙ্কিমকে শোনায়। (রবীন্দ্র জীবনী, ১ম খ-, পৃ. ৩৩৬)।
যবন রবীন্দ্রনাথ বঙ্কিমের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে লিখেছে :
“ম্লেছ সেনাপতি এক মহম্মদ ঘোরী
তস্করের মত আসে আমিতে দেশ।”
(প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্র জীবনী, পৃ. ৩৭)
উক্ত সময়ে ম্লেচ্ছ রবী পরিবারের সাহিত্য চর্চা ছিল আরও ভয়াবহ। বাঙালী হিন্দু জাতীয়তার শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে অনবরত কলমযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
তাদের রচিত প্রবন্ধ, সাহিত্য, নাটক, প্রহসনের বিষয়বস্তু ছিল হিন্দুর গৌরব গাথা এবং মুসলমানদের প্রতি আক্রমণ। ম্লেছ রবীন্দ্রনাথও ছিলো তার বাড়ির প্রভাবশালী সদস্য। তাদের বাড়িতে যেসব নাটক হতো সেগুলোর লেখক ছিলো তারাই এবং অভিনয়ও করতো অনেক ক্ষেত্রে ওই বাড়ির পুরুষ ও মহিলারা। যে ভাষা ও বিষয় সেখানে ঝংকৃত হতো তার একটি নমুনা :
“ওঠ! জাগ! বীরগণ। দুর্দান্ত যবনগণ,
গৃহে দেখ করেছে প্রবেশ।
হও সবে একপ্রাণ, মাতৃভূমি কর ত্রাণ,
শত্রুদলে করহ নিঃশেষ।।
বিলম্ব না সহে আর, উলঙ্গিয়ে তরবার
জ্বলন্ত অনলসম চল সবে রণে।
বিজয় নিশান দেখ উড়িছে গগনে।।
যবনের রক্তে ধরা হোক প্লাবমান
যবনের রক্তে নদী হোক বহমান
যবন শোণিত বৃষ্টি করুক বিমান
ভারতের ক্ষেত্র তাহে হোক বলবান।
এত স্পর্ধা যবনের, স্বাধীনতা ভারতের
অনায়াসে করিবে হরণ?
তারা কি করেছে মনে, সমস্ত ভারতভূমে
পুরুষ নাহিক একজন।”
যায় যাক প্রাণ যাক, স্বাধীনতা বেঁচে থাক
বেঁচে থাক চিরকাল দেশের গৌরব।
বিলম্ব নাহিক আর, খোল সবে তরবার
ওই শোন ওই শোন যবনের রব।
এইবার বীরগণ কর সবে দৃঢ়পণ
মরণ শয়ন কিংবা যবন নিধন,
যবন নিধন কিংবা মরণ শয়ন
শরীর পতন কিম্বা বিজয় সাধন।”
(সরকার সাহাবুদ্দীন আহমেদ, ইতিহাসের নিরিখে রবীন্দ্র-নজরুল চরিত, ১৯৯৮, পৃ. ২৮৩)
উপরোক্ত কবিতায় একটি বিষয় পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে যে, বাঙালী হিন্দুদের স্বাধীনতার চেতনা আর মুসলমানদের স্বাধীনতার চেতনা এক নয়। মুসলমানরা যাকে অধীনতা মনে করে বাঙালীরা তাকে স্বাধীনতা মনে করে পক্ষান্তরে মুসলমানদের বিজয় বাঙালীদের পরাধীনতার নামান্তর।
রবীন্দ্রনাথের স্বজাতি চিন্তা
রবীন্দ্রনাথের স্বজাতি কারা ছিল তা তার বক্তব্য ও লেখনী থেকে অনুভব করা সহজ হবে। তাই নি¤েœাক্ত কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলো।
১. হিন্দু মেলা যে সৃষ্টি হয়েছিল সেটা ঠাকুর বাড়িরই অবদান। রবীন্দ্রনাথ দাবী করেছিলো যে, তাদের বাড়ির সহায়তায়ই হিন্দু মেলার জন্ম হতে পেরেছিল।” রবীন্দ্রনাথ আরও বলে, ভারতবর্ষকে স্বদেশ বলিয়া ভক্তির সহিত উপলব্ধির চেষ্টা হিন্দু মেলাতেই সর্বপ্রম লক্ষণীয়। এই মেলায় দেশের স্তবগান, গীত, দেশানুরাগের কবিতা পঠিত, দেশী শিল্প, ব্যায়াম প্রভৃতি প্রদর্শিত ও দেশী গুণীলোক পুরস্কৃত হইত।... এই মেলার প্রথম উদ্দেশ্য, বৎসরের শেষে হিন্দু জাতিকে একত্রিত করা।... যত লোকের জনতা হয় ততই ইহা হিন্দু মেলা ও ইহা হিন্দুদিগের জনতা এই মনে হইয়া হৃদয় আনন্দিত স্বদেশানুরাগ বর্ধিত হইতে থাকে। আমাদের এই মিলন সাধারণ ধর্ম-কর্মের জন্য নহে, কেবল আমোদ প্রমোদের জন্য নহে। ইহা স্বদেশের জন্যÑ ভারতভূমির জন্য। (যথাক্রমে-জীবন-স্মৃতি, রবীন্দ্র রচনাবলীÑ ১০, পৃ. ৬৬/ যোগেশচন্দ্র বাগল : হিন্দু মেলার ইতিবৃত্ত (কলকাতা মৈত্রী-১৯৬৮), পৃষ্ঠা ৭)।
২. হিন্দু মেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছিল ‘জাতীয় সভা’ ১৮৬৯ খ্রীস্টাব্দে। মুসলমান, নি¤œববর্ণের হিন্দু ও খ্রীস্টানদের এই সভায় প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। (জাতীয় সভা মধ্যস্থ, ২৩ অগ্রহায়ণ ১২৭৯, পৃ. ৫৪২)।
৩. হিন্দু-মুসলিম বিভেদের বীজ অঙ্কুরিত হয়েছিল ঐ হিন্দুমেলা ও ‘জাতীয় সভা’ থেকেই।... মেলার কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন ঠাকুরবাড়ির সদস্য।... সত্যেন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্রনাথ এ মেলার কর্মকর্তা নির্বাচিত না হলেও তারা সক্রিয়ভাবে মেলার কাজে অংশগ্রহণ করতো দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা রচনার মাধ্যমে। (তথ্য : যোগেশচন্দ্র বাগল, ঐ, পৃ. ৬ এবং ৪৮)।
৪. হিন্দু মেলার নেতা ও রবী ঠাকুরের বড় ভাই তার জীবন স্মৃতিতে লিখলোÑ হিন্দু মেলার পর হইতে কেবলই আমার মনে হইত কী উপায়ে দেশের প্রতি লোকের অনুরাগ ও স্বদেশ প্রীতি উদ্বোধিত হইতে পারে। শেষে স্থির করিলাম নাটকে ঐতিহাসিক বীরত্বগাথা ও ভারতের গৌরব কাহিনী কীর্তন করিলে হয়তো কতকটা উদ্দেশ্য সিদ্ধ হইলেও হইতে পারে। এইভাবে অনুপ্রাণিত হইয়া কটকে থাকিতেই আমি পুরুবিμম নাটকখানি রচনা করিয়া ফেলিলাম। (তথ্য: জ্যোতিরিন্দ্রনাথের জীবন স্মৃতি, বসন্ত কুমার চট্টোপাধ্যায়, পৃ. ১৪১)।
(ইনশাআল্লাহ চলবে) রবীন্দ্রচর্চা করার আগে প্রত্যেক মুসলমানের উচিত মুসলমানদের সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের কী দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ইসলাম সম্পর্কে কতটা গভীর বিদ্বেষ ছিল

1 টি মন্তব্য
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।
সুলতান