সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

ইসলাম ও জীবন

মসজিদমুখী নারী.......

সারাবিশ্বের অনেক বড় বড় মসজিদেই মহিলাদের নামাজের ও জামাতের ব্যবস্থা আছে। বাংলাদেশেও অনেক জায়গায় আছে। এতে অনেক সাধারন নারীরাও মসজিদমুখী হচ্ছে। কিন্তু এরপরও অনেকে নারীদের এই বিষয়টিকে সমালোচনা করে। এক্ষেত্রে আপনারা কি বলেন?  

17 টি মন্তব্য

  • নূর

    মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে যাওয়া মাকরুহে তাহরীমী অর্থাৎ কবীরাহ গুনাহে গুনাহগার হতে হবে।
  • লাল

    @নূর,
    ভাই আপনি মনে হয় জানেন না, মসজিদে মহিলাদের জামাত করা নবীজীর সময়কার সুন্নত।
  • সুলতান

    হাদীছ শরীফে স্বয়ং রসুলেপাক তিনি ইরশাদ করেছেন, নারীদের জন্য উত্তম মসজিদ হলো তার ঘরের কোন প্রকোষ্ঠ। অর্থ্যাৎ তিনি নুর নবীজি তিনিই নারীদের মসজিদে যেতে অনুৎসাহিত করেছেন।
    আপনি এর বিপরীত চাচ্ছেন কেন? সন্দেহজনক! :pill: :pill:
  • বাংলা ব্লগ

    মহিলাদের জন্য ঈদ ও জুমুয়ার নামায নেই। কারণ, ঈদ ও জুমুয়ার নামাযের জন্য জামায়াত শর্ত। হানাফী মাযহাব মতে, ইমাম ব্যতীত কমপক্ষে তিনজন মুছল্লী থাকতে হবে। অন্যথায় ঈদ ও জুমুয়া আদায় হবে না।
    আর ফতওয়া হচ্ছে, মহিলাদের জন্য ঈদ হোক, জুমুয়া হোক, পাঞ্জেগানা হোক, তারাবীহ্ হোক কোন নামাযেই জামায়াতে আদায় করার জন্য মসজিদ ও ঈদগাহে যাওয়া জায়িয নেই। তা আম ফতওয়া মতে মাকরূহ তাহরীমী আর খাছ ফতওয়া মতে কুফরী।

    অতএব, মহিলারা ঈদের নামাযে গেলে কঠিন গুনাহে গুনাহ্গার হবে। (এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে হলে আল বাইয়্যিনাত ১১তম সংখ্যা পাঠ করুন, সেখানে প্রায় ৬৫টি দলীল পেশ করা হয়েছে।

    [দলীলসমূহঃ উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী, দুররুল মুখতার, ফতওয়ায়ে তাতারখানিয়া, খুলাছাতুল ফতওয়া, ফতুহুল ক্বাদীর, আলমগীরী]
  • লেখক

    শরীয়তে এমন অনেক বিষয়ই রয়েছে, যা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় ছিলনা কিন্তু ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সময় তা উৎপত্তি লাভ করে। যেমন “জুমুয়ার ছানী আযান”।
    এ ছানী আযান সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় ছিলনা। হযরত উছমান যূন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি মুসলমান ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে ইজতিহাদ করতঃ উক্ত ছানী আযানের প্রথা চালু করেন এবং এর উপর সকল ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়।
    অনুরূপভাবে যদিও প্রথম যুগে ইসলাম ও মুসলমানদের বৃহত্তর স্বার্থে মহিলাদের জামায়াতে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি ছিল কিন্তু হযরত উমর আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকালে তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং পরবর্তীতে ইমাম, মুজতাহিদগণ মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ফতওয়া দেন এবং এর উপর উম্মতের ইজমা প্রতিষ্ঠিত।
    কেননা প্রথম যুগে মহিলাদের জামায়াতে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি দেয়ার কারণ সম্পর্কে কিতাবে উল্লেখ করা হয়,
    হযরত ইমাম তাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “মহিলাদের ইসলামের প্রথম যুগে জামায়াতে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি প্রদান করার কারণ হলো, বেদ্বীনদের সম্মুখে মুসলমানদের জনসংখ্যা ও জনশক্তি বৃদ্ধি করা”। (মায়ারিফে মাদানী)
    ইমাম আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, (শুধু তাই নয়) সে যুগ ফিৎনা, ফাসাদ হতেও সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল, কিন্তু বর্তমানে তার কোন কারণই অবশিষ্ট নেই। এবং শুরুহাতের (ব্যাখ্যার) অধিকাংশ কিতাবেই প্রথম যুগে মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার কারণ হিসেবে তা’লীম বা ইলম অর্জন করাকেই উল্লেখ করা হয়েছে। এবং তা আরো স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়, বুখারী শরীফ-এর ৯১৫নং হাদীছ শরীফ-এর বর্ণনা দ্বারা।
    এ হাদীছ শরীফে ইরশাদ করা হয়, হযরত উম্মে আতিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “ঈদের দিন আমাদেরকে বের হওয়ার আদেশ দেয়া হতো, আমরা কুমারী মেয়েদেরকে, এমনকি ঋতুবর্তী মহিলাদেরকেও ঘর থেকে বের করতাম। অতঃপর পুরুষদের পেছনে থেকে তাদের তাকবীরের সাথে সাথে তাকবীর পড়তাম এবং তাদের দোয়ার সাথে সাথে আমরাও ঐ দিনের বরকত ও পবিত্রতা লাভের আশায় দোয়া করতাম।”
    এ হাদীছ শরীফে এবং অন্যান্য আরো হাদীছ শরীফে স্পষ্টই উল্লেখ রয়েছে যে, ঋতুবর্তী মহিলাগণও ঈদগাহে উপস্থিত হতো। অথচ শরীয়তে ঋতুবর্তী মহিলাদের জন্য নামায সম্পূর্ণ হারাম। সুতরাং তাদের ঈদগাহে বা জামায়াতে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি যদি শুধুমাত্র নামাযের জন্য হতো, তবে ঋতুবর্তী মহিলাগণ ঈদগাহে উপস্থিত হতোনা। মূলতঃ প্রথম যুগে নামাযসহ সকল অনুষ্ঠানাদিতে মহিলাদের উপস্থিত হওয়ার মুখ্য উদ্যেশ্য ছিল, তা’লীম গ্রহণ করা। তদুপরি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন এবং সে সময় ফিৎনার আশংকা কল্পনাও করা যায় না।
    তথাপি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহিলাদেরকে সুসজ্জিতভাবে, সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যেতে নিষেধ করেন এবং তিনি আরো বলেন, “সুগন্ধি ব্যবহারকারীনী মহিলা যিনাকারীনী।”
    আরো এরশাদ করা হয়, “যে মহিলা সুগন্ধি ব্যবহার করে, সে যেন ফরজ গোসলের ন্যায় গোসল করে আমার সাথে নামাজে আসে।”
    শুধু তাই নয়, সাথে সাথে পর্দারও গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই দেখা যায়, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ফজরের নামায এত অন্ধকার থাকতে শেষ করতেন যে, মহিলাগণ নামায পড়ে যখন চলে যেতেন, তখন তাদেরকে স্পষ্টভাবে চেনা যেত না। আর এ পর্দার গুরুত্ব বুঝাতে গিয়েই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “মসজিদে নববীর এ দরজাটি যদি মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট করে দিতাম, তবে খুবই উত্তম হতো। অর্থাৎ পর্দার জন্য খুবই সুবিধা হতো।” কিন্তু বর্তমান যামানায় ঐরূপ ব্যবস্থা বা কঠোরতা কল্পনাও করা যায় না। আর এদিকে লক্ষ্য করেই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অসংখ্য হাদীছ শরীফে ইরশাদ করেন, “মহিলাদের মসজিদে জামায়াতে নামায পড়ার চেয়ে গোপন প্রকোষ্টে নামায পড়া সর্বোত্তম।” সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, মহিলাদের প্রথম যুগে জামায়াত বা ঈদগাহে অথবা অন্যান্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার একমাত্র উদ্ধেশ্য ছিল, তা’লীম গ্রহণ করা।
    আর মুসলমানদের দলীল যেহেতু কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও কিয়াস। কোন দেশ বা ব্যক্তি দলীল নয়। কাজেই মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী, এর উপর উম্মতের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে এ ইজমার বিরোধিতা করে পৃথিবীর যে প্রান্তেই মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়ার ব্যবস্থা করা হোক না কেন তা মোটেও জায়িয হবে না। মহিলাদের ঘরে নামায পড়ার উৎসাহ ও ফযীলত: হাদীছ শরীফে ইরশাদ করা হয়,
    হযরত উম্মে সালমা আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “মহিলাদের জন্য উত্তম মসজিদ হলো তার ঘরের গোপন প্রোকষ্ঠ।” (সুনানুল কোবরা, আহমদ, মুয়াত্তা ইমাম মালেক) অন্য হাদীছ শরীফে উল্লেখ করা হয়,
    হযরত আব্দুল্লাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “মহিলাদের অন্ধকার কুঠরীর নামায মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট অধিক প্রিয়।” (সুনানুল কোবরা লিল বায়হাক্বী) হাদীছ শরীফে আরো উল্লেখ করা হয়,
    হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “মহিলাদের ঘরে নামায পড়া, বারিন্দায় নামায পড়ার চেয়ে উত্তম এবং সাধারণ ঘরে নামায পড়ার চেয়ে গোপন প্রকোষ্ঠে নামায পড়া সর্বোত্তম।” (আবূ দাউদ) কেউ কেউ এ হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলে থাকে যে, দেখুন এ হাদীছ শরীফে মসজিদের উল্লেখ নেই, তাই তুলনাহীনভাবে মসজিদ শ্রেষ্ঠ। এটা তাদের সম্পূর্ণ মনগড়া ও বিভ্রান্তিমূলক ব্যাখ্যা। কেননা, তারা এমন একখানা হাদীছ শরীফও পেশ করতে পারবে না, যে হাদীছ শরীফে মহিলাদের মসজিদে নামায পড়া উত্তম বলা হয়েছে। অথচ নিম্মোক্ত হাদীছ শরীফসমূহে মহিলাদের মসজিদে নামায পড়ার চেয়ে গোপন প্রকোষ্ঠে নামায পড়া উত্তম বলা হয়েছে। এ হাদীছ শরীফগুলো কি চোখে পড়েনা? হাদীছ শরীফে আরো উল্লেখ করা হয়,
    হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “কোন মহিলার জন্য তার খাছ ঘরে নামায পড়া সাধারণ ঘরে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম এবং সাধারণ ঘরে নামায পড়া বাইরের ঘরে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম এবং বাইরের ঘরে নামায পড়া মসজিদে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম।” (সুনানুল কোবরা লিল বায়হাক্বী) অন্য হাদীছ শরীফে উল্লেখ করা হয়,
    হযরত উম্মে হুমাইদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমরা মহিলারা আপনার সাথে নামায পড়তে ইচ্ছুক কিন্তু আমাদের স্বামীরা আমাদেরকে নিষেধ করেন। অতঃপর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “তোমাদের জন্য সাধারণ ঘরে নামায পড়ার চেয়ে, খাছ ঘরে নামায পড়া উত্তম এবং সাধারণ ঘরে নামায পড়া মসজিদে জামায়াতে নামায পড়ার চেয়ে সর্বোত্তম।” (সুনানুল কোবরা, জাওহারুন নক্বী)
    এ হাদীছ শরীফ দ্বারা স্পষ্টই বুঝা যায় যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বামী কর্তৃক মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার নিষেধকে সমর্থন করেন। যদি তিনি সমর্থন না করতেন, তবে অবশ্য তিনি বলতেন, বাঁধা দেয়া ঠিক হবে না। এর দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, মহিলাদের মসজিদে যেতে নিষেধ করা নাজায়িয নয় বরং জায়িয। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফে আরো উল্লেখ করা হয়,
    হযরত উম্মে হুমাইদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি আপনার সাথে নামায পড়তে অধিক আগ্রহী। অতঃপর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “অবশ্যই আমি জানি তুমি আমার সাথে নামায পড়তে ভালবাস বা অধিক আগ্রহী। কিন্তু তোমার, আমার মসজিদে নামায পড়ার চেয়ে তোমার গোত্রের মসজিদে নামায পড়া উত্তম এবং গোত্রের মসজিদে নামায পড়ার চেয়ে হুজরায় নামায পড়া আরো উত্তম এবং হুজরায় নামায পড়ার চেয়ে ঘরে নামায পড়া সর্বোত্তম।” (আহমদ, ইবনে হাব্বান, তিবরানী) এ হাদীছ শরীফে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মসজিদে নামায পড়ার চেয়ে ঘরে নামায পড়া উত্তম বলেছেন।
    যেখানে ঘরে নামায পড়া মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম, সেখানে অন্য মসজিদে নামায পড়তে যাওয়া কি করে ফযীলতের আশা করা যায়? অথচ মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে এক রাকায়াত নামায পড়া লক্ষ রাকায়াত নামাযের চেয়েও সর্বোত্তম। কাজেই যদি জামায়াতের ফযীলতের জন্য মহিলাদের মসজিদে আসার অনুমতি দেয়া হতো, তবে ঘরে নামায পড়া রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম বলা হতোনা। মূলতঃ এর দ্বারা এটাই বুঝা যায় যে, মহিলাদের মসজিদে বা ঈদগাহে যাওয়ার অনুমতি ইলম অর্জনের জন্যই দেয়া হয়েছিল।
    হাদীছ শরীফে আরো উল্লেখ রয়েছে যে,
    হযরত আবু উমর শায়বানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি দেখেছেন হযরত আব্দুল্লাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে জুমুয়ার দিন মহিলাদেরকে মসজিদ হতে একথা বলে বের করে দিতেন যে, “হে মহিলারা! তোমারা তোমাদের ঘরে চলে যাও, কারণ নামাযের জন্য তোমাদের ঘরই উত্তম।” (তিবরানী শরীফ) উপরোক্ত হাদীছ শরীফসমূহের আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্টই প্রমাণিত হয় যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু মহিলাদের ঘরে নামায পড়ার জন্য কার্যতঃ উৎসাহ প্রদান করেননি বরং ঘরে নামায পড়ার বহু ফযীলতও বর্ণনা করেছেন। যেমন হাদীছ শরীফে উল্লেখ করা হয়,
    “মহিলাদের মসজিদে জামায়াতে নামায পড়ার চেয়ে ঘরে একা নামায পড়ায় ২৫ গুণ বেশী ফযীলত পাওয়া যায়।” (দায়লমী শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ৩৮৯) যেখানে ঘরে একাকি নামায পড়ায় ২৫গুণ ফযীলত, সেখানে মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়ার হেতু কি, তা আমাদের বোধগম্য হয় না। হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনার নিষেধাজ্ঞা ও হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার সমর্থন পর্দার গুরুত্ব ও মহিলাদের ঘরে নামায পড়ার উৎসাহ ও ফযীলতপূর্ণ হাদীছ শরীফ-এর দিকে লক্ষ্য রেখে আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর আলাইহিস সালাম তিনি ইজতিহাদ করতঃ মহিলাদেরকে মসজিদে এসে জামায়াতে নামায পড়তে নিষেধ করে দেন। তখন মহিলারা হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার নিকট গিয়ে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেন, তখন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, “যদি নূরে মুজসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদেরকে এ অবস্থায় পেতেন, যে অবস্থায় হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম তিনি পেয়েছেন, তবে অবশ্য তিনিও তোমাদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করতেন।”
    হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বাা আলাইহাস সালাম উনার এ কথার আসল অর্থ হলো- হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম তিনি যা করেছেন, ঠিকই করেছেন। অর্থাৎ আমি এটাকে পূর্ণ সমর্থন করি। আর এটাকে সমর্থন করার অর্থই হলো, মহিলাদের মসজিদে যেতে নিষেধ করা।
    কাজেই যেখানে হযরত উমর আলাইহিস সালাম তিনি কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর দৃষ্টিতে ইজতিহাদ করতঃ মহিলাদের মসজিদে উপস্থিত হওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন, সেখানে এর বিরোধিতা করে প্রথম যুগের দোহাই দিয়ে মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া সম্পূর্ণ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ বিরোধী। কেননা হাদীছ শরীফে উল্লেখ করা হয়,
    “তোমাদের জন্য আমার সুন্নত ও আমার খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নত অবশ্যই পালনীয়।” (মিশকাত শরীফ)
    এ হাদীছ শরীফ দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার অর্থই হলো এ হাদীছ শরীফের হুকুমকে অস্বীকার করা। তাই খোলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিস সালাম উনাদের হুকুম-আহকাম, বিধি-নিষেধও আমাদের জন্য অবশ্যই অনুসরণীয়।
    আর বিশেষ করে হযরত উমর ফারুক আলাহিস সালাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত যেটা বলার অপেক্ষাই রাখেনা। উনার সম্পর্কে হাদীছ শরীফে উল্লেখ করা হয়,
    “নবীদের পরে শ্রেষ্ঠ মানুষ হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম অতঃপর হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম।”
    হাদীছ শরীফে আরো উল্লেখ করা হয়,
    “যদি আমার পরে কেউ নবী হতো তবে হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম তিনিই নবী হতেন।”
    অন্য হাদীছ শরীফে বলা হয়,
    “স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনার যবান মুবারক-এ কথা বলেন।”
    অর্থাৎ হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনার কথার সমর্থনে মহান আল্লাহ পাক তিনি ২০টিরও বেশী আয়াত শরীফ নাযিল করেন।
    হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, “হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনাকে দেখলে শয়তানের মাথা খারাপ হয়ে যেত, কোন্ রাস্তা দিয়ে সে পালাবে।”
    যে হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনার এত ফযীলত ও মর্যাদা, উনার পক্ষে কি করে কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর বিরোধিতা করা সম্ভব? এটা কল্পনাও করা যায় না।
    কাজেই হযরত ফারুক আলাইহিস সালাম তিনি মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন, তা অবশ্যই কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফ সমর্থিত ও আমাদের অনুসরণীয় আর হযরত আয়িশা ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি এটাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। উনার সম্পর্কে হাদীছ শরীফে উল্লেখ রয়েছে,
    “তোমরা অর্ধেক দ্বীন গ্রহণ করবে হযরত আয়িশা ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনার হতে।”
    কাজেই লাল সাহেবের মতো যারা মহিলা জামায়াত জায়িয বলবে তারা বাতিল, বিভ্রান্ত ও গোমরাহ। আর তারা হাদীছ শরীফসমূহ অস্বীকার করার কারণে জাহান্নামের আগুনে জ্বলে লাল হওয়ারই যোগ্য।
  • লাল

    @সুলতান, নিষেধ করেননি তো? এই হাদীসের ব্যখ্যাওতো থাকতে পারে
  • লাল

    @বাংলা ব্লগ, সরাসরি কোন হাদীস দেখাতে পারবেন, এ বিষয়ে
  • লাল

    @লেখক, তাহলে বুঝা যাচ্ছে সময় ও অবস্থার প্রেক্ষিতে আইন কানুন পরিবর্তিত হতে পারে।
    বর্তমানে যদি অনুকূল পরিবেশ থাকে তাহলে নিশ্চয়ই নিষেধ থাকার কথা নয়।
    তাছাড়া বর্তমানে নারীরা যেভাবে বেহায়া চলাফেরা করছে, তাতে এভাবে তাদের মসজিদমুখী হওয়াটা পজিটিভলিই দেখা উচিত।
  • লেখক

    @লাল,চোখে কি পোকা ধরেছে? নিম্নে উল্লিখিত হাদীছ শরীফগুলো কি চোখে পড়েনা?
    হাদীছ শরীফে উল্লেখ করা হয়,হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “কোন মহিলার জন্য তার খাছ ঘরে নামায পড়া সাধারণ ঘরে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম এবং সাধারণ ঘরে নামায পড়া বাইরের ঘরে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম এবং বাইরের ঘরে নামায পড়া মসজিদে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম।” (সুনানুল কোবরা লিল বায়হাক্বী)

    অন্য হাদীছ শরীফে উল্লেখ করা হয়,হযরত উম্মে হুমাইদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমরা মহিলারা আপনার সাথে নামায পড়তে ইচ্ছুক কিন্তু আমাদের স্বামীরা আমাদেরকে নিষেধ করেন। অতঃপর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “তোমাদের জন্য সাধারণ ঘরে নামায পড়ার চেয়ে, খাছ ঘরে নামায পড়া উত্তম এবং সাধারণ ঘরে নামায পড়া মসজিদে জামায়াতে নামায পড়ার চেয়ে সর্বোত্তম।” (সুনানুল কোবরা, জাওহারুন নক্বী)

    এ হাদীছ শরীফ দ্বারা স্পষ্টই বুঝা যায় যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বামী কর্তৃক মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার নিষেধকে সমর্থন করেন। যদি তিনি সমর্থন না করতেন, তবে অবশ্য তিনি বলতেন, বাঁধা দেয়া ঠিক হবে না। এর দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, মহিলাদের মসজিদে যেতে নিষেধ করা নাজায়িয নয় বরং জায়িয।

    এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফে আরো উল্লেখ করা হয়, হযরত উম্মে হুমাইদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি আপনার সাথে নামায পড়তে অধিক আগ্রহী। অতঃপর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “অবশ্যই আমি জানি তুমি আমার সাথে নামায পড়তে ভালবাস বা অধিক আগ্রহী। কিন্তু তোমার, আমার মসজিদে নামায পড়ার চেয়ে তোমার গোত্রের মসজিদে নামায পড়া উত্তম এবং গোত্রের মসজিদে নামায পড়ার চেয়ে হুজরায় নামায পড়া আরো উত্তম এবং হুজরায় নামায পড়ার চেয়ে ঘরে নামায পড়া সর্বোত্তম।” (আহমদ, ইবনে হাব্বান, তিবরানী)

    এ হাদীছ শরীফে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মসজিদে নামায পড়ার চেয়ে ঘরে নামায পড়া উত্তম বলেছেন।
    যেখানে ঘরে নামায পড়া মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম, সেখানে অন্য মসজিদে নামায পড়তে যাওয়া কি করে ফযীলতের আশা করা যায়? অথচ মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে এক রাকায়াত নামায পড়া লক্ষ রাকায়াত নামাযের চেয়েও সর্বোত্তম। কাজেই যদি জামায়াতের ফযীলতের জন্য মহিলাদের মসজিদে আসার অনুমতি দেয়া হতো, তবে ঘরে নামায পড়া রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম বলা হতোনা।

    চোখে যেমন পোকা ধরেছে তেমনি অন্তরও নেফাকী ও কুফরীতে পূর্ণ হয়েছে বলেই হাদীছ শরীফগুলো চোখে পড়েনি।
  • লাল

    @লেখক, জনাব এভাবে উত্তেজনাকরভাবে আঘাত করলে আপনাদের সাথে ব্লগিং হবে না।
    আমার পুর্বের পোস্টগুলাতে খেয়াল করেননি? আমি আপনাদের সাথে শুধু আলোচনা স্টাইলেই কমেন্টস করেছি। কোনধরনের মারমুখীতায় যাই নি।
    আমার অনেক প্রশ্নকেই আপনারা এড়িয়ে গেছন। কিন্তু আমি সেগুলি না ধরে আপনাদের কমেন্টসকে মুল্যায়ন করেছি। এরপরো এভাবে আঘাত। :pill:

    @ উমর ফারুক(রা) উনার সময় এটা নিষেধ হয়েছে। কিন্তু এর আগ পর্যন্ত সেটা জারি ছিলো। মানে হলো এটা অনুত্তম হতে পারে কিন্তু তাই বলে এটাকে পুরাপুরি নিষিদ্ধ বলতে পারেননা। এর পুর্বের উনারা কি তাহলে ভুল করেছেন?
  • বাংলা ব্লগ

    (মানে হলো এটা অনুত্তম হতে পারে কিন্তু তাই বলে এটাকে পুরাপুরি নিষিদ্ধ বলতে পারেননা। এর পুর্বের উনারা কি তাহলে ভুল করেছেন?)
    আপনার কথায় বুঝা যায় আপনি কোন যুক্তি দলিল গ্রহন করছেন না। বরং শেষে নেগেটিভ কমেন্ট তারই প্রমান বহন করে।
    পূর্বে নবীজির সময় মসজিদে উপস্থিত হবার কারণ জামাতে নামাজ পরা উদ্দেশ্য ছিল না। তালিম গ্রহন করা মূল উদ্দেশ্য ছিল।
    আর মূল কথা আমার আপনারচেয়ে সাহাবীগন কি কুরআন হাদীস শরীফ কম বুঝতেন?
    হাদিস শরীফে আছে আখেরী জামানার মাওলানা গন পূর্বে আলেমদের তিরস্কার করবে। আপনা কখা কি তাই বুঝায় না?
  • লাল

    @বাংলা ব্লগ,
    আপনার বর্ণিত উদ্দেশ্যে বিষয়ে রেফারেন্স কি? এটা আপনাদের বানানোওতো হতে পারে।
    সময় অবস্থার প্রেক্ষিতেই সাহাবীরা আইন কানুনে পরিবর্তন এনেছেন। এখন সেই প্রেক্ষিত নাও থাকতে পারে। এখন তা মুসলিম নারীদের ইসলামমুখী করতে জররী নয় কি?
  • লেখক

    খাইরুল কুরুনের পর আর কোন উত্তম যুগ আছে কি? নেই। তাহলে খাইরুল কুরুনেই যেখানে মহিলা জামায়াত হওয়ার অনুকূল অবস্থা ছিল না বিধায় মহিলা জামায়াত নিষিদ্ধ করা হলো, সেখানে কেমন করে এখন এই চরম ফেতনা-ফাসাদের যামানায় মহিলা জামায়াত-এর কথা চিন্তা করা যেতে পারে?

    আর তাই তখন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, “যদি নূরে মুজসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদেরকে এ অবস্থায় পেতেন, যে অবস্থায় হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম তিনি পেয়েছেন, তবে অবশ্য তিনিও তোমাদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করতেন।” (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ)

    খাইরুল কুরুনেই বলা হচ্ছে তোমাদেরকে যে অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে সে অবস্থায় নূরে মুজসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদেরকে পেলে তোমাদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করতেন, তাহলে বর্তমান অবস্থা কি?

    কাজেই যেখানে হযরত উমর আলাইহিস সালাম তিনি কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফের দৃষ্টিতে ইজতিহাদ করতঃ মহিলাদের মসজিদে উপস্থিত হওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন, আর হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা এটাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। সেখানে এর বিরোধীতা করে প্রথম যুগের দোহাই দিয়ে মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া শুধু কুরআন-সুন্নাহ্ বিরোধীই নয় বরং হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ইজতিহাদ ও আমলের স্পষ্ট বিরুদ্ধাচরণ বটে।
    কেননা হাদীছ শরীফে উল্লেখ করা হয়,
    “তোমাদের জন্য আমার সুন্নত ও আমার খোলাফা-ই রাশেদীন উনাদের সুন্নত অবশ্যই পালনীয়।” (আহমদ, আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাযাহ্, মিশকাত)
    এ হাদীছ শরীফ দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার মতকে উপেক্ষা করে মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার অর্থই হলো এ হাদীছ শরীফের হুকুমকে অস্বীকার করা।
    পরবর্তীতে ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলইহিম উনারা পর্দার গুরুত্ব, মহিলাদের ঘরে নামায আদায় করার উৎসাহ ও ফযীলতপূর্ণ হাদীছ শরীফ ও হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার নিষেধাজ্ঞা ও হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার সমর্থনের দৃষ্টিতে ইজতিহাদ করতঃ এর উপর ফতওয়া দেন এবং উক্ত ফতওয়ার উপর উম্মতের ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
    কাজেই যেখানে বিশ্বের অসংখ্য ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা মহিলাদের মসজিদে যাওয়া নাজায়িয ফতওয়া দেন, সেখানে এর বিরোধীতা করে এটাকে জায়িয বলা গোমরাহী ছাড়া কিছুই নয়।
    আর এদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ্ শরীফে ইরশাদ ফরমান,
    “যে কারো নিকট হিদায়েত বিকশিত হবার পর হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরূদ্ধাচরণ করবে, আর মু’মিনদের পথ রেখে ভিন্ন পথের অনুসরণ করবে, আমি তাকে সেদিকেই ফিরাবো যেদিকে সে ফিরেছে।” (সূরা নিসা: আয়াত শরীফ ১১৫)
    হযরত শায়খ আহমদ ইবনে আবু সাঈদ মুল্লা জিউন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ আয়াত শরীফের তাফসীরে উল্লেখ করেছেন, “এ আয়াতে মু’মিনদের বিরোধীতাকে হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধীতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। অতএব হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফের মতো ইজমাও অকাট্য ও প্রামান্য দলীল বলে পরিগণিত হবে।” (নুরুল আনোয়ার)
    উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও তার তাফসীর দ্বারা এটাই প্রমাণিত হলো যে, ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মতের বিরোধীতা করার অর্থ হলো, মহান আল্লাহ্ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বিরোধীতা করা, যা সুস্পষ্ট গোমরাহী।

    সুতরাং, মহিলাদের মসজিদে যাওয়া মাকরূহ্ তাহরীমী হওয়ার উপর উম্মতের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং যুগ যুগ ধরে সারাবিশ্বে তা অনুসৃত হয়ে আসছে। ইজমা ও কিয়াস যেহেতু কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফেরই অন্তর্ভূক্ত ও সমর্থিত, সেহেতু উক্ত ইজমাকে অস্বীকার করা বা মু’মিনদের প্রচলিত পথের বিরোধিতা করা কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফের দৃষ্টিতে প্রকাশ্য গোমরাহী।
  • Rapid boy

    “যে কারো নিকট হিদায়েত বিকশিত হবার পর হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরূদ্ধাচরণ করবে,আর মু’মিনদের পথ রেখে ভিন্ন পথের অনুসরণ করবে, আমি তাকে সেদিকেই ফিরাবো যেদিকে সে ফিরেছে।” (সূরা নিসা: আয়াত শরীফ ১১৫)
  • Sakib Hasan

    @লাল,আপনি কি হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বেশি ইসলাম বুঝেন?
  • লাল

    @Rapid boy, আপনি ফিরুন.......
  • লাল

    @Sakib Hasan,
    ১ম খলীফা তিনি কেন করেননি?
    মুলত এটা সময় ও অবস্থার প্রেক্ষিত। সময় ও অবস্থার প্রেক্ষিতে যারা আলেম উলাম উনার এ বিষয়ে চুড়ান্ত ফায়সালা দিবেন। অবস্থা প্রতিকুল হলে না; আর অনুকুল হলে হা বলবেন।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।