সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

ইতিহাস

কারবালার হৃদয় বিদারক ইতিহাস (২৫)

- হযরত আলী আছগর আলাইহিস সালাম উনার  শাহাদাত   হযরত যয়নাব আলাইহাস সালাম উনার ভাতিজা হযরত আলী আকবর আলাইহিস সালাম উনার  লাশের পাশে দাঁড়িয়ে অঝরে কাঁদছিলেন। হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনি বোনের হাত ধরে তাঁবুর অভ্যন্তরে নিয়ে গেলেন এবং বললেন, বোন! ছবর করো, আল্লাহ তায়ালা ছবরকারীদের সাথে আছেন। ছবর এবং ধৈর্যের আঁচল হাতছাড়া করো না। যা কিছু হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা’র পক্ষ থেকে হচ্ছে। আমাদের ছবর ও ধৈর্যের মাধ্যমে কামিয়াবী হাছিল করতে হবে। এটা আল্লাহ তায়ালা’র পক্ষ থেকে মহাপরীক্ষা। বোনকে নিয়ে যখন তাঁবুর অভ্যন্তরে গেলেন, তখন হযরত শহরবানু আলাইহাস সালাম হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার সামনে এসে বললেন, আপনার ছেলে আলী আছগর পানির তৃষ্ণায় কেমন যেন করতেছে, গিয়ে দেখুন। পানির তৃষ্ণায় ওর অবস্থা  খুবই সঙ্গীন হয়ে গিয়েছে। কোন রকম নড়াচড়া করতে পারছে না। কাঁদতেছে কিš‘ চোখের পানি আসতেছে না। মুখ হা করে আছে, কিš‘ কোন আওয়াজ বের হচ্ছে না। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে গেছে। শুনুন, যালিমেরা হয়তো জানে না যে, আমাদের সাথে ছোট ছোট শিশুরাও রয়েছে। আমার মনে হয়, এ ছোট শিশুকে কোলে করে আপনি ওদের সামনে নিয়ে গেলে নিশ্চয় ওদের দিলে রহম হতে পারে। কারণ এ রকম শিশু ওদের ঘরেও রয়েছে। তাই আপনি এ শিশুকে কোলে করে ওদের সামনে নিয়ে যান এবং বলুন, আমাকে পানি দিও না, তোমাদের হাতে কয়েক ফোঁটা পানি এ শিশুর মুখে দাও। তাহলে তারা নিশ্চয় দিবে। হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনি বললেন, শহরবানু! তোমার যদি এটা আরজু এবং ইচ্ছা  হয়ে থাকে, তাহলে তোমার এ ইচ্ছা পূর্ণ করতে আমি রাজি আছি। কিন্তু ঐ বদবখতদের প্রতি আমার আদৌ   আস্থা   নেই। যা হোক, হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনি ছয় মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশুকে কোলে নিয়ে ইয়াযিদ বাহিনীর সামনে গিয়ে বললেন, দেখ! এটা ছয় মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশু। এটা আমার ছেলে আলী আছগর। এটা তোমাদের সেই নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বংশধর, তোমরা যার কলেমা পাঠ করো। শোন! আমি তোমাদের কোন ক্ষতি করে থাকলে, আমার থেকে তোমরা এর বদলা নেবে। কিন্তু  এ মাছুম শিশুতো তোমাদের কোন ক্ষতি করেনি। এ পানির তৃষ্ণায় ধড়ফড় করছে, কিন্তু সেটা দেখা যাচ্ছে  না। শোন! আমার হাতে কোন পানির পেয়ালা দিও না, তোমাদের হাতে এ শিশুর মুখে কয়েক ফোঁটা পানি দাও। আর এ শিশু পানি পান করার পর তৃষ্ণা মিটে গেলে তলোয়ার হাতে নিয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে না।তাই এর তৃষ্ণাটা নিবারণ করো। তাঁবুর পর্দানশীন মহিলাদের কাকুতি-মিনতিতে টিকতে না পেরে আমি একে নিয়ে এসেছি। হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনি এ করুণ বর্ণনা দিচ্ছিলেন , আর এদিকে আলী আছগর আলাইহিস সালাম উনাকে লক্ষ্য করে  হরমিলা বিন্ন  কাহিল নামক এক বদবখ্খত যালিম তীর নিক্ষেপ করলো এবং সেই তীর এসে আলী আলাইহিস সালাম উনার গলায় বিধল। হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনি  দেখলেন, শিশুটি একটু গা-নাড়া দিয়ে চিরদিনের জন্য নিশ্চুপ হয়ে গেলেন। হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনি  হুঁ হুঁ করে কেঁদে উঠলেন, বলতে লাগলেন,ওহে যালিমেরা! তোমরাতো তোমাদের নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার  প্রতিও কোন সমীহ করলে না। তোমাদের মনতো কাফিরদের থেকেও কঠোর। শিশুদের প্রতি কাফিরেরাও সহানুভূতি দেখায়। তোমরাতো নিজেদেরকে মুসলমান বলে দাবি করো। এসব কথা বলে তিনি ছেলের গলা থেকে তীর বের করলেন এবং লাশ মুবারক মাটিতে রেখে বললেন, মাওলা! এ লোকেরা যা কিছু করছে, এর জন্য আমি আপনাকে সাক্ষ্য করছি। লাশ মুবারক কাঁধে করে তাঁবুর কাছে নিয়ে এসে হযরত আলী আকবর আলাইহিস সালাম উনার পাশে রেখে ডাক দিয়ে বললেন,ওহে শহরবানু! ওহে যয়নাব! আলী আছগর আর ধড়ফড় করবে না এবং তৃষ্ণার কারণে হাত পা নড়াচড়া করবে না। এর তৃষ্ণার্ত অবস্থা থেকে তোমাদের অস্থিরতা  আর বৃদ্ধি পাবে না। সে জান্নাতুল ফিরদাউসে গিয়ে তাঁর দাদীজান আলাইহাস সালাম উনার কোলে বসে হাউজে কাওছারের পানি পান করছে। (অসমাপ্ত)

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।