মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ করেন, হে ঈমানদাররা! ইসলামে পরিপূর্ণ দাখিল হয়ে যাও। শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।” (সূরা বাকারা : আয়াত শরীফ ২০৮)
কাজেই, ইসলামে যা বলে দেয়া হয়েছে, আদেশ-নিষেধ করা হয়েছে তা হুবহু এবং যথাযথভাবে পালন করতে হবে, অনুসরণ-অনুকরণ করতে হবে।
যদি কেউ ইসলাম তথা কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর কিছু বিষয় মানে আর কিছু বিষয় অস্বীকার করে তার ব্যাপারে আল্লাহ পাক তিনি নিজেই ফায়ছালা ঘোষণা করেছেন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ঘোষণা করেন- তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশ মানবে আর কিছু অংশ অস্বীকার করবে? তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এটা করবে তার জন্য কোনই প্রতিদান নেই। বরং তার জন্য ইহকালে রয়েছে লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাকে কঠিন শাস্তির দিকে হাকিয়ে নেয়া হবে। আর আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের কৃতকার্য সম্পর্কে খবর রাখেন।” (সূরা বাক্বারা : আয়াত শরীফ ৮৫)
অর্থাৎ যারা নিজেদের পছন্দমত বা সুবিধামত বা খেয়াল-খুশিমত কিতাব তথা কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর কতিপয় হুকুম তথা আদেশ-নিষেধ মানবে এবং কতিপয় হুকুম তথা আদেশ-নিষেধ মানবে না আল্লাহ পাক- উনার কাছে এ সমস্ত লোকদের ভাল কোনই প্রতিদান নেই। বরং তাদের জন্য দুনিয়াবী জিন্দিগীতে রয়েছে লাঞ্ছনা-গঞ্জনা, অপমান-অসম্মান। আর পরকালে রয়েছে কঠিন শাস্তি।
কাজেই, আজ যারা নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত, মসজিদ, মাদরাসা, ইয়াতীমখানা ইত্যাদি ভাল কাজও করছে আবার কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর নিষেধকৃত গান-বাজনা, খেলাধুলা, ছবি, বেপর্দা, ভোট, নির্বাচন ইত্যাদিও করছে তাদের জন্যই মূলত ইহকালে লাঞ্ছনার কথা এবং পরকালে কঠিন শাস্তির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। যার উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত আজকে সকলের কাছে স্পষ্ট। নামধারী আলিম-উমরাহ থেকে শুরু করে আমীর-উমারা সবাই আজ সে লাঞ্ছনা ও শাস্তির শিকার। নাউযুবিল্লাহ।

7 টি মন্তব্য
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।
MNURUNNABI
প্রত্যেক বান্দা-বান্দি ও উম্মতের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে-আশূরা উপলক্ষে দুটি রোযা রাখা, রোযাদারকে ইফতারি করানো, আশূরার দিন আশূরার সম্মানার্থে গোসল করা, চোখে সুরমা দেয়া, ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো, ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্তকে পানাহার করানো আশূরার অন্যতম ফযীলতপূর্ণ আমল। এর উসীলায় বান্দা-বান্দি ও উম্মত ইহকালে সর্বপ্রকার মুছিবত থেকে নাজাত লাভ করবে এবং পরকালে জাহান্নাম থেকে নাজাত লাভ করে জান্নাত লাভ করবে। তাই প্রত্যেক বান্দা-বান্দি ও উম্মতের জন্য দায়িত্ব কর্তব্য হলো- উল্লিখিত আমলগুলো করে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দি হাছিলের কোশেশ করা।
১) আশূরার একটি অন্যতম আমল হচ্ছে আশূরার রোযা, অর্থাৎ ১০ই মুহররম উপলক্ষে দুটি রোযা রাখা। অর্থাৎ ৯, ১০ অথবা ১০, ১১ তারিখ। শুধু ১০ তারিখ রোযা রাখা মাকরূহ। কারণ এদিন ইহুদীরাও রোযা রেখে থাকে।
এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “তোমরা আশূরা উপলক্ষে রোযা রাখো তবে ইহুদীদের খিলাফ করো। তোমরা আশূরার দিন এবং এর পূর্বে অথবা পরে আরেকটি রোযা রাখো।” অর্থাৎ ৯, ১০ অথবা ১০, ১১ তারিখ রোযা রাখো।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, রমাদ্বান শরীফ-এর পর সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ রোযা হচ্ছে- মুহররম তথা আশূরার রোযা।
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আশূরার রোযার ফযীলত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এটা বিগত এক বৎসরের গুনাহর কাফফারাস্বরূপ।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ)
অন্য হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি আশূরার রোযা রাখবে, আল্লাহ পাক তিনি এর বিনিময়ে তার আমলনামায় ষাট বছর দিনে রোযা রাখার ও রাতে ইবাদত করার ফযীলত লিখে দিবেন।” সুবহানাল্লাহ!
২) পবিত্র আশূরার দিন পরিবারবর্গকে ভাল খাওয়ানো সম্পর্কে হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি আশূরার দিন তার পরিবারবর্গকে ভালো খাদ্য খাওয়াবে ও পরাবে আল্লাহ পাক সারা বছর তাকে সচ্ছলতা দান করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (‘তাবারানী শরীফ, শুয়াবুল ঈমান লিল বাইহাক্বী, মাসাবা বিস্ সুন্নাহ, মু’মিনকে মাহ ওয়া সাল ও আ’মালী’)
পবিত্র আশূরার দিন ভালো খাদ্য খাওয়া, খাওয়ানো, পরিধান করা ও পরিধান করানো সুন্নত-মুস্তাহাব। দিনে যেহেতু রোযা রাখতে হবে, তাই ভালো খাদ্য খাওয়ানোর ব্যবস্থা সন্ধ্যা রাতে ও সাহরীতে ব্যবস্থা করতে হবে। আল্লাহ পাক সকলকে তা নছীব করুন।
৩) আশূরার দিনে বেশকিছু আমলের কথা হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে- তন্মধ্যে একটি হচ্ছে, আশূরার দিন গোসল করা, এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আশূরার দিন (আশূরার নিয়তে) গোসল করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে ১ বৎসরের জন্য রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন। মৃত্যু ব্যতীত তার কঠিন কোনো রোগ হবেনা এবং সে অলসতা ও দুঃখ কষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে। সুবহানাল্লাহ!
৪) আশূরার আরেকটি আমল হচ্ছে- চোখে সুরমা লাগানো। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আশূরার দিন চোখে মেশক মিশ্রিত সুরমা লাগাবে তার চোখে ওই দিন থেকে ১ বৎসরের জন্য কোন কঠিন রোগ হবে না। সুবহানাল্লাহ!
এখন কারো কাছে যদি মেশক মিশ্রিত অর্থাৎ ‘ইছমিদ’ সুরমা না থাকে তবে যে সুরমা পাবে সেটাই লাগাবে। এবং এর ফযীলতের জন্য আরজু করবে। আশা করা যায়, মহান আল্লাহ পাক তিনি এর মধ্যেই সেই বরকত দিবেন।
৫) আশূরার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে- ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো এবং ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্তদেরকে পানি পান করানো। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি আশূরার দিন কোন ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলাবে, ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়াবে এবং পিপাসার্তকে পানি পান করাবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাতের দস্তরখানায় খাদ্য খাওয়াবেন এবং জান্নাতের ‘সালসাবীল’ নামক ঝরনা থেকে পানি পান করাবেন। সুবহানাল্লাহ!
৬) ‘মু’মিন কে মাহ ওয়া সাল’ নামক কিতাবে বর্ণিত আছে, “আশূরার দিন যে ব্যক্তি আহলে বাইতের গরিব-মিসকীনগণকে পেট ভরে খাদ্য খাওয়াবে সে ব্যক্তি বিদ্যুৎ বেগে পুলছিরাত পার হবে।” সুবহানাল্লাহ!
৭)হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “আশূরার দিন যে ব্যক্তি কোনো রোযাদারকে ইফতার করাবে, সে যেনো সমস্ত উম্মতে হাবীবীকে ইফতার করালো।” সুবহানাল্লাহ!
এখন কেউ প্রশ্ন করতে পারে যে, ইফতারি করানোর উক্ত ফযীলত লাভ করার জন্য সকলেই চাইবে ইফতারি করাতে তাহলে কে ইফতারি করাবে আর কে ইফতারি করবে? এর সহজ এবং সুন্দর ফায়ছালা হলো- যে প্রথমে দাওয়াত দিবে তার দাওয়াতই কবুল করতে হবে। আর যে দাওয়াত খেতে যাবে সে তার সাধ্য অনুযায়ী কিছু ইফতারি সাথে নিয়ে যাবে এবং দাওয়াত প্রদানকারীর ইফতারির সাথে মিশিয়ে একত্রিত করে সকলে মিলে ইফতারি করবে। তাহলে সকলেই ইফতারি করানোর ফযীলত পেয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ করেন, “আল্লাহ পাক তিনি যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দান করেন।” সুবহানাল্লাহ!
খালিক্ব, মালিক আল্লাহ রব্বুল আলামীন উনার দেয়া এই রিযিক যারা হালাল পন্থায় দান করেন, এ দ্বারা অপরকে তৃপ্ত করেন, এমন ব্যক্তিদেরকে আল্লাহ তায়ালা খুবই ভালোবাসেন।
হাদীছ শরীফ-এর কিতাব ‘মিশকাত শরীফ’-এ বর্ণিত আছে, “ওই সমস্ত ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক ভালোবাসেন, যারা মানুষদেরকে খাওয়ায় এবং পরিচিতি-অপরিচিত সকলকে সালাম দেয়।”
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার একটি বিশেষ আমল ‘পবিত্র আহলে বাইত’ শরীফ উনাদের ছানা-ছিফত মুবারক আলোচনা এবং উনাদের খিদমত মুবারক করা
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। তবে আমার নিকটজন তথা পবিত্র আহলে বাইত শরীফ উনাদের প্রতি তোমরা সদাচরণ করবে।” (পবিত্র সূরা শূরা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)
MNURUNNABI
শতকরা ৯৭ ভাগ মুসলমান উনাদের এই দেশে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অনুযায়ীই শাসনকার্য পরিচালনা করতে হবে।
এটাই এ দেশের মুসলমান উনারা মনে-প্রাণে চেয়ে থাকেন এবং এটাই উনাদের একান্ত দাবী। তাই বাংলাদেশের সংবিধানে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ বিরোধী যত আইন রয়েছে তা বাদ দিয়ে পবিত্র কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ অনুযায়ী সংবিধান রচনা করতে হবে।
‘পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ বিরোধী কোন আইন পাস হবে না’- এ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকারের উচিত এই ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
MNURUNNABI
এখন মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং কাফির-মুশরিকদের সম্পর্কে উনার পবিত্র কালাম কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ঘোষণা করে দিয়েছেন যে, “নিশ্চয়ই মুশরিকরা হলো নাপাক।”
অতএব, বলার অপেক্ষায় রাখে না যে, যত বিধর্মী রয়েছে তারা সকলেই যেহেতু শিরক কুফরের সাথে জড়িত সেহেতু সকলেই জাতগতভাবে নাপাক বা অপবিত্র। আর তাই বাস্তবেও তার প্রতিফলন পরিলক্ষিত হয়। আমাদের দেশে এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতে অবস্থানরত হিন্দু মুশরিকগুলোকে দেখা যায় যে, তারা গরুর চনা তাদের খাদ্য পানীয়ের মধ্যে মিশিয়ে খেয়ে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!
সম্প্রতি ইন্টারনেটে সংবাদ এসেছে, জাপানে বৌদ্ধরা মানুষের মল-মূত্রের কাবাব তৈরি করে তাদের খাদ্যের অভাব মেটানোর ব্যবস্থা করছে। নাউযুবিল্লাহ!
কাজেই মুসলমানদের উচিত যবন, স্লেচ্ছ, ইতর, অপবিত্র, নাপাক কাফির-মুশরিকদের সংশ্রব থেকে দূরে থাকা এবং তাদের তৈরিকৃত খাদ্য পানীয় পরিহার করে চলা।
MNURUNNABI
চিন্তার বিষয়, ১০০ বছরে কোনো ফরয আমল, সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ আদায় না করলে যত কবীরা গুনাহ তার চেয়ে অধিক অধিক কবীরা গুনাহ ৩ ঘণ্টা বেপর্দা হওয়ার কারণে। নাউযুবিল্লাহ!
মূলত, পূর্ববর্তী মহিলাগণ ছিলেন পর্দানশীন, স্বাধীনা নারী কিন্তু বর্তমানে নারীদের তার বিপরীত অবস্থা দাঁড়িয়েছে। একটা কথা সমস্ত মুসলমানদের মনে রাখা উচিত। ইহুদী-খ্রিস্টানরা কখনো মুসলমানদের বন্ধু নয়, বরং ঘোরতর শত্রু। তারা সবসময় এটাই চেয়ে থাকে, কিভাবে মুসলমানদের পবিত্র ঈমান উনার দিক থেকে, শারীরিক দিক থেকে, মানসিক দিক থেকে আঘাত হানা যায়। তারা কিছু কিছু দিক খুঁজে বের করে যেই দিকগুলোতে ‘আঘাত হানলে মুসলমানদের পবিত্র ঈমান, পবিত্র আমল, পবিত্র আক্বীদা উনাদের নষ্ট করা যাবে। সেই দিকগুলোর মধ্যে একটি দিক হচ্ছে পর্দা। ইহুদী-খ্রিস্টানরা ভালোভাবেই জানে যদি মুসলমানদের বেপর্দা করা যায়, তাহলে একদিকে সমাজে ফিতনার সৃষ্টি হবে অপরদিকে অসংখ্য অগণিত গুনাহর ভাগিদার হবে। নাউযুবিল্লাহ! আর তাই-ই করার জন্য তারা কিছু নারীবাদী ও কিছু উলামায়ে ‘সূ’দের নিজের হাতে গড়ে নিয়েছে। যারা আজ মহিলা সমাজকে উল্টা-পাল্টা বুঝিয়ে তাদের ঘর থেকে বের করে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে নারীদের কোনো অধিকার নেই, পবিত্র দ্বীন ইসলাম মহিলাদের ঘরে বদ্ধ করে রেখেছে- এসব বিভ্রান্তিকর কথা একজন মহিলার মন মননে ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের ঘর থেকে বের করে আনছে। প্রায় মহিলারা এভাবেই ধোঁকার শিকার হয়ে আজ বেপর্দা হয়ে রাস্তায় বেরুচ্ছে। যার ফলে নারীটিজিং, সম্ভ্রমহানি ইত্যাদি অসামাজিক কর্মকা- অহরহ সংঘটিত হচ্ছে। এখন আমরা যারা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিধান সম্পর্কে জ্ঞাত তাদের উচিত সমস্ত মহিলাদের সামনে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিধান তুলে ধরা। তাদেরকে নারীবাদীদের ও উলামায়ে ‘সূ’দের ধোঁকা থেকে বাঁচানো। তাদের আবার ঘরে ফিরিয়ে আনা। হাক্বীক্বী মুসলিমা মহিলাতে পরিণত করা। মহান রব্বুল আলামীন তিনি আমাদের সকলকে সেই তাওফীক দান করেন। আমীন।
MNURUNNABI
আর পর্দার ফযীলত সম্পর্কে একখানা পবিত্র হাদীছ শরীফ উল্লেখ করলেই বিষয়টা স্পষ্ট বুঝা যাবে। হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। একবার নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে আলোচনা করছিলেন। এক সময় তিনি প্রশ্ন করেন, মহিলাদের জন্য কোন আমল উত্তম? তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সকলেই চুপ থাকলেন। আমি (হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম) পিছন থেকে উঠে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার নিকট গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন আমল মহিলাদের জন্য উত্তম? তখন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, মহিলাদের জন্য উত্তম আমল- সে কোনো পরপুরুষকে দেখেনি এবং কোনো পরপুরুষ তাকে দেখেনি। আমি তা শুনে মসজিদে নববী শরীফ ফিরে এসে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললাম। সেটা তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কার থেকে শুনে আসলেন? আমি বললাম, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার থেকে। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি আমার কলিজা মুবারক উনার একটি টুকরা মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
বুঝার বাকি থাকে না যে, মহিলাদের জন্য পর্দা হচ্ছে ফযীলত এবং মর্যাদা হাছিলের উপায়। আর বেপর্দার কুফল সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “হে আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম! আপনি আপনার দৃষ্টি অনুসরণ করবেন না, প্রথম দৃষ্টিকে ক্ষমা করা হবে কিন্তু দ্বিতীয় দৃষ্টিকে ক্ষমা করা হবে না।” অর্থাৎ প্রত্যেক পলকে বা দৃষ্টিতে একটি করে কবীরা গুনাহ হবে। হিসাব কবে দেখা গেছে, প্রতি দুই সেকেন্ডে মানুষের পলক পড়ে থাকে ৫টি। প্রতি মিনিটে পলক পড়ে থাকে ১৫০টি। তাহলে কোনো বেগানা পুরুষ ও মহিলা যদি পরস্পর পরস্পরের দিকে দৃষ্টি করে ১ মিনিট তাদের কবীরা গুনাহর পরিমাণ ৩০০টি। আর যদি পুরুষ ও মহিলা ১ ঘণ্টা পরস্পর পরস্পরের দিকে দৃষ্টি করলে তাদের কবীরা গুনাহর পরিমাণ ১৮০০ হাজার।
MNURUNNABI
আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ওই ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তি দিবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা তোলায়, আঁকে বা আঁকায়।’
সিসিটিভি’র ব্যবহার দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে; সাথে বাড়ছে অপরাধের হার।
সিসিটিভি স্থাপনকারীরা নিজেরাই এর ব্যবহারের সুফল এবং কুফল সম্পর্কে অবগত নয়।
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার আলোকে সিসিটিভি কখনোই অপরাধ দমন ও নিরাপত্তার উপকরণ নয়।
কারণ, প্রাণির ছবি তোলা ও তোলানো উভয়টাই হারাম ও কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।
অতএব, প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা উনাদের জন্য ফরয হলো, সিসিটিভি ব্যবহার থেকে বিরত থাকা।
MNURUNNABI